লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থলভাগে প্রবেশ শুরু ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, অন্ধ্র উপকূলে তাণ্ডবের শঙ্কা

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পদুচেরির ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্রুতগতিতে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বুধবার ভোররাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে ঝড়টির স্থলভাগ অতিক্রম করার পূর্বাভাস দিয়েছিল। ইতিমধ্যে ঝড়টির বাইরের মেঘমালা স্থলভাগে প্রবেশ করেছে, যার প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও তীব্র দমকা হাওয়া বইছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের নারসাপুর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাকিনাড়া থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে। ঘণ্টায় প্রায় ২২ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আসা এই ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার সকালেই বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল এবং ইয়ানামের দক্ষিণের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে স্থলভাগ অতিক্রম করার কথা রয়েছে।

স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল থাকবে এবং উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের কারণে পানি ঢুকে পড়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কাকিনাড়া ও ইয়ানামের আশপাশে জোয়ারের স্বাভাবিক উচ্চতার ওপর ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ মিটার এবং গোদাবরী নদীর মোহনায় ২ থেকে ৩ দশমিক ৫ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ও নিচু এলাকা থেকে অন্তত ৮৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০টি জেলায় দুই হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, ৩০ হাজারের বেশি মাছ ধরার নৌযান নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ১০০ চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে প্রতিবেশী রাজ্য ওডিশার উপকূলীয় এলাকাতেও অর্ণবের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। সেখানেও রাজ্য প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ স্থলভাগে প্রবেশ করলেও পুরো স্থলভাগ অতিক্রমের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী বুলেটিনের অপেক্ষায় থাকতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে ৬ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার মুখে নেইমার

স্থলভাগে প্রবেশ শুরু ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, অন্ধ্র উপকূলে তাণ্ডবের শঙ্কা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০২:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশ ও পদুচেরির ইয়ানাম উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছে স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই দ্রুতগতিতে উপকূলের দিকে এগিয়ে আসায় ভারতের আবহাওয়া দপ্তর বুধবার ভোররাত ২টা থেকে ৪টার মধ্যে ঝড়টির স্থলভাগ অতিক্রম করার পূর্বাভাস দিয়েছিল। ইতিমধ্যে ঝড়টির বাইরের মেঘমালা স্থলভাগে প্রবেশ করেছে, যার প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলীয় এলাকায় ভারী বৃষ্টি ও তীব্র দমকা হাওয়া বইছে।

ভারতের আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টায় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্র ছিল অন্ধ্রপ্রদেশের নারসাপুর থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে, কাকিনাড়া থেকে ৭০ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং বিশাখাপত্তনম থেকে ২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-দক্ষিণ-পশ্চিমে। ঘণ্টায় প্রায় ২২ কিলোমিটার গতিতে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগিয়ে আসা এই ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার সকালেই বাপাতলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল এবং ইয়ানামের দক্ষিণের কাছাকাছি এলাকা দিয়ে স্থলভাগ অতিক্রম করার কথা রয়েছে।

স্থলভাগে প্রবেশের সময় ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের সর্বোচ্চ স্থায়ী গতিবেগ ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার এবং দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে। এর প্রভাবে সমুদ্র অত্যন্ত উত্তাল থাকবে এবং উপকূলীয় এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে অন্ধ্রপ্রদেশের নিচু উপকূলীয় এলাকায় জলোচ্ছ্বাসের কারণে পানি ঢুকে পড়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। কাকিনাড়া ও ইয়ানামের আশপাশে জোয়ারের স্বাভাবিক উচ্চতার ওপর ১ দশমিক ৫ থেকে ২ দশমিক ৫ মিটার এবং গোদাবরী নদীর মোহনায় ২ থেকে ৩ দশমিক ৫ মিটার পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এন চন্দ্রবাবু নাইডু প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন এবং বয়স্ক, শিশু, প্রতিবন্ধী ও অন্তঃসত্ত্বা নারীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ ও নিচু এলাকা থেকে অন্তত ৮৯ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০টি জেলায় দুই হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে, ৩০ হাজারের বেশি মাছ ধরার নৌযান নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ১ হাজার ১০০ চিকিৎসক দল মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে প্রতিবেশী রাজ্য ওডিশার উপকূলীয় এলাকাতেও অর্ণবের প্রভাবে ভারী বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। সেখানেও রাজ্য প্রশাসন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির অগ্রভাগ স্থলভাগে প্রবেশ করলেও পুরো স্থলভাগ অতিক্রমের প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে আবহাওয়া দপ্তরের পরবর্তী বুলেটিনের অপেক্ষায় থাকতে হবে।