লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বেসরকারি ব্যাংকে নিয়োগে পরীক্ষা ও সনদ যাচাই বাধ্যতামূলক করল বাংলাদেশ ব্যাংক

বেসরকারি ব্যাংকের এন্ট্রি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ এবং মেধাভিত্তিক করতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যেসব এন্ট্রি পদে পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই, সেসব পদের জন্য সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এই তালিকার মধ্যে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার, সিনিয়র অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, জুনিয়র অফিসার এবং ক্যাশ অফিসারসহ সমপর্যায়ের পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা চাকরির পোর্টালের পাশাপাশি অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।

নিয়োগের ক্ষেত্রে সশরীরে অথবা অনলাইনে লিখিত কিংবা নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই কেবল যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে হবে। এছাড়া, এন্ট্রি পদের বাইরের অভিজ্ঞ প্রার্থীদের উচ্চতর পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রেও মৌখিক পরীক্ষাসহ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যোগদানের এক বছরের মধ্যে নতুন কর্মীদের সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাচাই করতে হবে। বর্তমানে কর্মরতদের সনদ ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে যাচাই সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পদোন্নতি বা আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য জমা দেওয়া নতুন সনদও একইভাবে যাচাই করে ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে। পরামর্শক বা উপদেষ্টা ছাড়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

কোনো কর্মীর শিক্ষাগত সনদ ভুয়া বা জাল প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে অন্য কোনো ব্যাংক থেকে উচ্চতর পদে যোগ দেওয়া কর্মকর্তার সনদ আগের প্রতিষ্ঠান যাচাই করে থাকলে এবং তার প্রত্যয়নপত্র থাকলে নতুন করে যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই, তবে অব্যাহতিপত্রে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

পরিশেষে, প্রতিটি ব্যাংককে আগামী ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে যুগোপযোগী মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন বা হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। এই নীতিমালায় নিয়োগ, পদোন্নতি, ছুটি, আচরণবিধি, শৃঙ্খলা, স্বার্থের সংঘাত, হুইসেলব্লোয়ার নীতি, যৌন হয়রানি প্রতিরোধসহ মোট ১৮টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

মিনিস্টার হাই-টেক পার্কে ৫০ জন সেলস অফিসার নিয়োগ

বেসরকারি ব্যাংকে নিয়োগে পরীক্ষা ও সনদ যাচাই বাধ্যতামূলক করল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০১:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বেসরকারি ব্যাংকের এন্ট্রি পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ প্রক্রিয়া আরও স্বচ্ছ এবং মেধাভিত্তিক করতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, করপোরেট সুশাসন নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকদের আস্থা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হচ্ছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যেসব এন্ট্রি পদে পূর্ব অভিজ্ঞতার প্রয়োজন নেই, সেসব পদের জন্য সব প্রার্থীর সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এই তালিকার মধ্যে ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার, সিনিয়র অফিসার, প্রবেশনারি অফিসার, ট্রেইনি অ্যাসিস্ট্যান্ট অফিসার, জুনিয়র অফিসার এবং ক্যাশ অফিসারসহ সমপর্যায়ের পদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইট বা চাকরির পোর্টালের পাশাপাশি অন্তত দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।

নিয়োগের ক্ষেত্রে সশরীরে অথবা অনলাইনে লিখিত কিংবা নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার পাশাপাশি মৌখিক পরীক্ষাও বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতেই কেবল যোগ্য প্রার্থীদের নিয়োগ দিতে হবে। এছাড়া, এন্ট্রি পদের বাইরের অভিজ্ঞ প্রার্থীদের উচ্চতর পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রেও মৌখিক পরীক্ষাসহ প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শিক্ষাগত সনদ যাচাইয়ের বিষয়েও কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যোগদানের এক বছরের মধ্যে নতুন কর্মীদের সর্বশেষ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যাচাই করতে হবে। বর্তমানে কর্মরতদের সনদ ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে যাচাই সম্পন্ন করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পদোন্নতি বা আর্থিক সুবিধা পাওয়ার জন্য জমা দেওয়া নতুন সনদও একইভাবে যাচাই করে ব্যক্তিগত নথিতে সংরক্ষণ করতে হবে। পরামর্শক বা উপদেষ্টা ছাড়া চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।

কোনো কর্মীর শিক্ষাগত সনদ ভুয়া বা জাল প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে অন্য কোনো ব্যাংক থেকে উচ্চতর পদে যোগ দেওয়া কর্মকর্তার সনদ আগের প্রতিষ্ঠান যাচাই করে থাকলে এবং তার প্রত্যয়নপত্র থাকলে নতুন করে যাচাইয়ের প্রয়োজন নেই, তবে অব্যাহতিপত্রে বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকতে হবে।

পরিশেষে, প্রতিটি ব্যাংককে আগামী ৩১ মার্চ ২০২৭-এর মধ্যে পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন সাপেক্ষে যুগোপযোগী মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন বা হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। এই নীতিমালায় নিয়োগ, পদোন্নতি, ছুটি, আচরণবিধি, শৃঙ্খলা, স্বার্থের সংঘাত, হুইসেলব্লোয়ার নীতি, যৌন হয়রানি প্রতিরোধসহ মোট ১৮টি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।