লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা দিতে ৫ হাজার কোটি দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

ঢাকা, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (২২:২১): একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানতের অর্থ পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত ৭৫ হাজার গ্রাহক তাদের টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন, যার বিপরীতে দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাওয়া এই তহবিল থেকে আগামীকাল সোমবার থেকেই গ্রাহকদের অর্থ দেওয়া শুরু হবে।

এই পাঁচ ব্যাংক হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। অন্য চারটি ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের দখলে। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালে ব্যাংকগুলো থেকে জামানত ছাড়াই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে লুটপাট করা হয়, যার ফলে তীব্র তারল্য সংকট তৈরি হয় এবং ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এই পরিস্থিতিতে গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার শরিয়াহভিত্তিক এই পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে।

নতুন এই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে দেওয়া হবে। এছাড়া, আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যবহার করে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আমানতকারীদের সম্পূর্ণ অর্থ পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট স্কিম ঘোষণা করেছে। এর আগে গত ২৫ আগস্ট গভর্নর ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, আমানতের ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ বা কর্তন করা হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত আমানতকারীরা তাদের চলতি, সঞ্চয়ী ও মেয়াদি হিসাবের মূল টাকা তুলতে পারবেন। তবে এই ব্যবস্থার আওতায় আমানতের ওপর অর্জিত কোনো মুনাফা বা সুদ পাওয়া যাবে না। কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের হিসাবটি পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গ্রাহকের কোনো ঋণ বা দায় থাকলে তা আমানতের অর্থ থেকে সমন্বয় করা হবে।

অন্যদিকে, যেসব গ্রাহক এখনই পুরো আমানত তুলবেন না এবং হিসাব চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাবেন। তবে মেয়াদি আমানত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভাঙলে মুনাফা পাওয়া যাবে না, কেবল মূল টাকা পাওয়া যাবে। আংশিক টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে অবশিষ্ট অর্থের ওপর নিয়ম অনুযায়ী মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে আবেদন করতে হয়েছে এবং তা যাচাইয়ের পর অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে, তাই এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংক শাখাগুলোতে যাতে অতিরিক্ত ভিড় বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যাদের জরুরি প্রয়োজন নেই, তাদের প্রথম দিনেই ব্যাংকে না এসে পরবর্তী দিনগুলোতে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

নওগাঁয় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল নোটের কারবার, আটক ১

একীভূত পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের টাকা দিতে ৫ হাজার কোটি দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (২২:২১): একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের গ্রাহকদের আমানতের অর্থ পরিশোধের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া প্রক্রিয়ায় এ পর্যন্ত ৭৫ হাজার গ্রাহক তাদের টাকা ফেরত চেয়ে আবেদন করেছেন, যার বিপরীতে দাবির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাওয়া এই তহবিল থেকে আগামীকাল সোমবার থেকেই গ্রাহকদের অর্থ দেওয়া শুরু হবে।

এই পাঁচ ব্যাংক হলো—এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এক্সিম ব্যাংক ছিল বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের নিয়ন্ত্রণে। অন্য চারটি ব্যাংক ছিল চট্টগ্রামের এস আলম গ্রুপের কর্ণধার সাইফুল আলমের দখলে। তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকাকালে ব্যাংকগুলো থেকে জামানত ছাড়াই বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে লুটপাট করা হয়, যার ফলে তীব্র তারল্য সংকট তৈরি হয় এবং ব্যাংকগুলো আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। এই পরিস্থিতিতে গত বছর অন্তর্বর্তী সরকার শরিয়াহভিত্তিক এই পাঁচ ব্যাংককে একীভূত করে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ গঠন করে।

নতুন এই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে এবং বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ার হিসেবে দেওয়া হবে। এছাড়া, আমানত বীমা তহবিল থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যবহার করে গ্রাহকদের সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত ফেরত দেওয়া হচ্ছে। আমানতকারীদের সম্পূর্ণ অর্থ পর্যায়ক্রমে ফিরিয়ে দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি নির্দিষ্ট স্কিম ঘোষণা করেছে। এর আগে গত ২৫ আগস্ট গভর্নর ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, আমানতের ওপর কোনো ধরনের ‘হেয়ারকাট’ বা কর্তন করা হবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যক্তিগত আমানতকারীরা তাদের চলতি, সঞ্চয়ী ও মেয়াদি হিসাবের মূল টাকা তুলতে পারবেন। তবে এই ব্যবস্থার আওতায় আমানতের ওপর অর্জিত কোনো মুনাফা বা সুদ পাওয়া যাবে না। কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের হিসাবটি পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য হবে। এছাড়া, সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে গ্রাহকের কোনো ঋণ বা দায় থাকলে তা আমানতের অর্থ থেকে সমন্বয় করা হবে।

অন্যদিকে, যেসব গ্রাহক এখনই পুরো আমানত তুলবেন না এবং হিসাব চালু রাখবেন, তারা চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাবেন। তবে মেয়াদি আমানত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ভাঙলে মুনাফা পাওয়া যাবে না, কেবল মূল টাকা পাওয়া যাবে। আংশিক টাকা উত্তোলনের ক্ষেত্রে অবশিষ্ট অর্থের ওপর নিয়ম অনুযায়ী মুনাফা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। গ্রাহকদের সংশ্লিষ্ট শাখা বা উপশাখায় গিয়ে আবেদন করতে হয়েছে এবং তা যাচাইয়ের পর অর্থ পরিশোধ করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, গ্রাহকদের আমানত ফেরত দেওয়ার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করা হবে, তাই এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তবে টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে ব্যাংক শাখাগুলোতে যাতে অতিরিক্ত ভিড় বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যাদের জরুরি প্রয়োজন নেই, তাদের প্রথম দিনেই ব্যাংকে না এসে পরবর্তী দিনগুলোতে আসার অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।