লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেরে ফেলার হুমকি পেয়েছি, বাফুফের বরখাস্ত কোচের বিস্ফোরক দাবি

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে টানা দুই হারের পর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে জেরার্ড জোনসকে। সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পরদিন গত ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

বরখাস্ত হওয়ার চার দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জোনস। তিনি অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশে কাজ করার সময় তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। জোনস লিখেছেন, ফুটবলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করা যুক্তিসঙ্গত হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ, তথ্য ফাঁস এবং মেরে ফেলার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি নিজেকে একজন স্বামী, বাবা এবং সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।

বাফুফে তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জোনসকে অব্যাহতি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। তবে ফেডারেশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ১৯ আগস্ট টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনার জের ধরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই ঘটনায় জোনস নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা নিয়েছিলেন।

নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে জোনস বলেন, তিনি শুধু জাতীয় দলের ফলাফলের জন্য কাজ করতে আসেননি, বরং যুব উন্নয়ন, প্রতিভা শনাক্তকরণ এবং প্রবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছিল তাঁর। প্রায় ৯ সপ্তাহ দলের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। জোনসের দাবি, অনুশীলনে দল বল দখল, আক্রমণ এবং প্রেসিংয়ের মতো কৌশলগুলোতে উন্নতি দেখালেও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তা ধরে রাখতে পারেনি।

প্রায় দুই দশকের কোচিং ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতায় জোনস মনে করেন, এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর সাথে নিয়মিত লড়াই করতে হলে বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতি, অবকাঠামো এবং খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন। তিনি বাংলাদেশের ফুটবলের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, এই দেশে প্রচুর প্রতিভা ও আবেগ রয়েছে, যা সঠিক পরিবেশ ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজে লাগানো সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

গণপূর্ত অধিদপ্তরে সুশাসন ও স্বচ্ছতা ফেরাতে জিরো টলারেন্স নীতি

মেরে ফেলার হুমকি পেয়েছি, বাফুফের বরখাস্ত কোচের বিস্ফোরক দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩০:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে টানা দুই হারের পর বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে জেরার্ড জোনসকে। সিরিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পরদিন গত ৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) তাঁর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।

বরখাস্ত হওয়ার চার দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জোনস। তিনি অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশে কাজ করার সময় তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। জোনস লিখেছেন, ফুটবলের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা করা যুক্তিসঙ্গত হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ, তথ্য ফাঁস এবং মেরে ফেলার হুমকি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি নিজেকে একজন স্বামী, বাবা এবং সন্তান হিসেবে উল্লেখ করে এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানান।

বাফুফে তাদের বিজ্ঞপ্তিতে জোনসকে অব্যাহতি দেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেনি। তবে ফেডারেশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, গত ১৯ আগস্ট টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমানের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির ঘটনার জের ধরে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই ঘটনায় জোনস নিজেই জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা নিয়েছিলেন।

নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে জোনস বলেন, তিনি শুধু জাতীয় দলের ফলাফলের জন্য কাজ করতে আসেননি, বরং যুব উন্নয়ন, প্রতিভা শনাক্তকরণ এবং প্রবাসী খেলোয়াড়দের নিয়ে কাজ করার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছিল তাঁর। প্রায় ৯ সপ্তাহ দলের সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। জোনসের দাবি, অনুশীলনে দল বল দখল, আক্রমণ এবং প্রেসিংয়ের মতো কৌশলগুলোতে উন্নতি দেখালেও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে তা ধরে রাখতে পারেনি।

প্রায় দুই দশকের কোচিং ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতায় জোনস মনে করেন, এশিয়ার শক্তিশালী দলগুলোর সাথে নিয়মিত লড়াই করতে হলে বাংলাদেশের ফুটবল সংস্কৃতি, অবকাঠামো এবং খেলোয়াড় বাছাই প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রয়োজন। তিনি বাংলাদেশের ফুটবলের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে বলেন, এই দেশে প্রচুর প্রতিভা ও আবেগ রয়েছে, যা সঠিক পরিবেশ ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার মাধ্যমে কাজে লাগানো সম্ভব।