লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়াই ২৫ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ভাড়া বাড়িতেই চলছে পাঠদান

দেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে একের পর এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলেও তীব্র অবকাঠামোগত সংকটে ধুঁকছে ২৫টি প্রতিষ্ঠান। নিজস্ব কোনো স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়াই ভাড়া করা ভবন বা অস্থায়ী বিভিন্ন স্থাপনায় কোনোমতে চলছে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করেই তাড়াহুড়ো করে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করায় শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ থেকে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এভাবে ক্লাস শুরু করায় কার্যত টেনেটুনে চলছে পড়াশোনা।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী ক্যাম্পাসহীন এই ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৪টিরই অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। আর ঢাকার সাত কলেজের জন্য ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অনুমোদন পায় ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। এই ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পাঁচটিতে এখনো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি, তবে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে যেনতেনভাবে ক্লাস শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। বাকি ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ছয়টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে তিনটি—খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে চারটি—চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া বিশেষায়িত ও অন্যান্য ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ও ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়।

অনুমোদন পাওয়া এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে। এর মধ্যে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এবং চারটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে সরাসরি শিক্ষার্থীরা পড়েন না; তাদের অধীনে বিভিন্ন মাদ্রাসা, college ও মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয়। বাকি ১৪টি সচল বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা আট হাজারের কিছু বেশি। অন্যদিকে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিভাগ খোলার অনুমোদন পেয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পন্ন করেছে। সম্প্রতি অস্থায়ী ব্যবস্থায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকায় এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। যেমন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ভ্যাট ও কর বাদে প্রায় ৮ লাখ ২১ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ২০১৫ সালের ৫ জুলাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পাস হয় এবং ২০১৮ সালে প্রথম উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু এখনো সেখানে ভূমি অধিগ্রহণই শেষ হয়নি। ২৫০ একর জমি অধিগ্রহণের একটি ডিপিপি একনেকে উঠলেও কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে তা ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে অস্থায়ী ক্যাম্পাসের পাশেই দৌলতপুর ও খালিশপুর এলাকায় স্থায়ী ক্যাম্পাস করার নতুন পরিকল্পনা চলছে। এদিকে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে রাজুরবাজার এলাকায় ৫০০ একর জমিতে এর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হচ্ছে। এর প্রশাসনিক ও দুটি বিভাগের কার্যক্রম এখনো অস্থায়ী ক্যাম্পাসে চললেও বাকি বিভাগগুলো সম্প্রতি স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে চারটি অনুষদের ১০টি বিভাগে সেখানে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন।

ভাড়া করা ভবনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর একটি বড় উদাহরণ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত প্রযুক্তি খাতের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ (ইউএফটিবি)। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে আইন পাস হওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে তিনটি ভাড়া করা ভবনে। এর মধ্যে তিনতলা একটি নির্মাণাধীন ভবনে সাইবার সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ক্লাস চলে, যা দেখতে সাধারণ বসতবাড়ির মতো। সেখানে জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে আরেকটি ভাড়া ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম এবং মাঝামাঝি আরেকটি ভবনে প্রশাসনিক কাজ চলে। আট বছর পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। বর্তমানে এখানে পাঁচটি বিভাগে ৯২৮ জন শিক্ষার্থী এবং ৪১ জন শিক্ষক রয়েছেন, যার সবাই প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আতাউর রহমান khan জানান, ৫০ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ৮০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের একটি প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

একই দশা সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি)। ২০২০ সালের নভেম্বরে আইন পাসের পর ২০২২ সালের জুনে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে। শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন ভাড়া ভবনে এর কার্যক্রম চলছে। অথচ আহসানমারা সেতুর পূর্ব পাশে দেখার হাওরের পাড়ে যে জায়গায় স্থায়ী ক্যাম্পাস হওয়ার কথা, সেখানে এখনো থইথই পানি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন করা হয়েছে সড়কের পাশের একটি বাড়ির দোতলার একাংশ ভাড়া নিয়ে। এ ছাড়া জামেয়া হাজী আক্রম আলী দাখিল মাদ্রাসার চারতলা ভবনের তিনটি তলা এবং আবদুল মজিদ কলেজের ছোট একটি দোতলা ভবনে ল্যাবরেটরি করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের চতুর্থ তলায় চলে অন্য দুটি বিষয়ের পাঠদান। শিক্ষার্থীদের জন্য ডুংরিয়া গ্রামে দুটি ভবন ভাড়া করে ছাত্র ও ছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার ধারণক্ষমতা যথাক্রমে ১০০ ও ৭০ জন। বর্তমানে ৪টি বিষয়ে এখানে ৪৮০ জন শিক্ষার্থী ও ১৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। গত ২৮ জুলাই যোগ দেওয়া উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাকির হুসাইন জানান, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অনেক সীমাবদ্ধতা থাকলেও এই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত জরুরি।

ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে এভাবে তড়িঘড়ি করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা এবং নতুন বিভাগ খোলার পেছনে নিয়োগ-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরির অভিযোগও উঠেছে। ইতিমধ্যে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিজের ছেলে, মেয়ে, শ্যালক-শ্যালিকাসহ পরিবারের ৯ জন সদস্য ও আত্মীয়কে অনিয়ম করে নিয়োগ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দেশের ১৪টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষায়িত দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্য থাকলেও জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অনেক প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বাইরে ব্যবস্থাপনা, সমাজকর্ম ও ভূগোলের মতো বিষয় পড়ানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্যই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ইউজিসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা জানান, আগে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রথমে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিয়ে ন্যূনতম অবকাঠামো তৈরি করা হতো, এরপর উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হতো। কিন্তু গত ১০-১২ বছর ধরে আইন পাস হওয়ার পরপরই সরাসরি উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালের মে মাসে ইউজিসি ‘নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর পূর্বের নীতিমালা’ অনুমোদন করলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। সম্প্রতি ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক মো. নাজমুস সাদাত, যিনি এর আগে ১৯ জুলাই গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছিলেন। তিনি ইতোমধ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য সুবিধাজনক জায়গায় ভাড়া বাড়ি খোঁজার জন্য ইউজিসিতে চিঠি দিয়েছেন।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনুমোদন তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার অনেক আগেই হয়েছে এবং প্রায় সব কটিরই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। এখন এগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব নিয়মকানুনের মধ্যে আনা এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে দেশে ৬০টি পাবলিক ও ১১৬টি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে মোট শিক্ষার্থী ৪৫ লাখের বেশি। তবে এত বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান সেরা ৫০০-এর তালিকায় নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সমন্বিত আইন থাকলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কোনো সমন্বিত আইন নেই; বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় এগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঢাকার সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন থেকে বের করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি করা হয়, যা বর্তমানে নানা সমস্যা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে চলছে।

প্রস্তুতি ছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করাকে ‘পরিণত বয়সের আগেই শিশুর জন্মের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক ড. সৌমিত জয়দ্বীপ। তিনি বলেন, জনগণের টাকায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হবে, সেটি কেন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই করতে হবে? পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে কয়েক বছর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। নিজস্ব ক্যাম্পাস, অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা উচিত। তা না হলে সেখানে আর যা-ই হোক, বিশ্ববিদ্যালয় মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

৯% মুদ্রাস্ফীতিতে টিকে থাকার উপায়: হিসাবি হোন, সঞ্চয় করুন

স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়াই ২৫ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ভাড়া বাড়িতেই চলছে পাঠদান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:২৬:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের উচ্চশিক্ষার প্রসারে একের পর এক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হলেও তীব্র অবকাঠামোগত সংকটে ধুঁকছে ২৫টি প্রতিষ্ঠান। নিজস্ব কোনো স্থায়ী ক্যাম্পাস ছাড়াই ভাড়া করা ভবন বা অস্থায়ী বিভিন্ন স্থাপনায় কোনোমতে চলছে এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করেই তাড়াহুড়ো করে শিক্ষা কার্যক্রম চালু করায় শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ থেকে। শিক্ষাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া এভাবে ক্লাস শুরু করায় কার্যত টেনেটুনে চলছে পড়াশোনা।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্য অনুযায়ী, স্থায়ী ক্যাম্পাসহীন এই ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২৪টিরই অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। আর ঢাকার সাত কলেজের জন্য ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ অনুমোদন পায় ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়। এই ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে পাঁচটিতে এখনো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি, তবে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে যেনতেনভাবে ক্লাস শুরুর প্রক্রিয়া চলছে। বাকি ২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে এবং শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

স্থায়ী ক্যাম্পাস না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ছয়টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এগুলো হলো জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চাঁদপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে তিনটি—খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও কুড়িগ্রাম কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। চিকিৎসা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে চারটি—চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া বিশেষায়িত ও অন্যান্য ১২টি বিশ্ববিদ্যালয় হলো নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, এভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়, মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি ও ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়।

অনুমোদন পাওয়া এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে ২০১৪-১৫ থেকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মধ্যে। এর মধ্যে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি এবং চারটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক পর্যায়ে সরাসরি শিক্ষার্থীরা পড়েন না; তাদের অধীনে বিভিন্ন মাদ্রাসা, college ও মেডিকেল কলেজ পরিচালিত হয়। বাকি ১৪টি সচল বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা আট হাজারের কিছু বেশি। অন্যদিকে মেহেরপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, লক্ষ্মীপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে বিভাগ খোলার অনুমোদন পেয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পন্ন করেছে। সম্প্রতি অস্থায়ী ব্যবস্থায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কার্যক্রমও শুরু হয়েছে।

নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকায় এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের পেছনে প্রতি মাসে ভাড়া বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। যেমন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসের ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে ভ্যাট ও কর বাদে প্রায় ৮ লাখ ২১ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। ২০১৫ সালের ৫ জুলাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন পাস হয় এবং ২০১৮ সালে প্রথম উপাচার্য নিয়োগের মাধ্যমে এর যাত্রা শুরু হয়। কিন্তু এখনো সেখানে ভূমি অধিগ্রহণই শেষ হয়নি। ২৫০ একর জমি অধিগ্রহণের একটি ডিপিপি একনেকে উঠলেও কিছু পর্যবেক্ষণ দিয়ে তা ফেরত পাঠানো হয়। বর্তমানে অস্থায়ী ক্যাম্পাসের পাশেই দৌলতপুর ও খালিশপুর এলাকায় স্থায়ী ক্যাম্পাস করার নতুন পরিকল্পনা চলছে। এদিকে ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নেত্রকোনা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে রাজুরবাজার এলাকায় ৫০০ একর জমিতে এর স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হচ্ছে। এর প্রশাসনিক ও দুটি বিভাগের কার্যক্রম এখনো অস্থায়ী ক্যাম্পাসে চললেও বাকি বিভাগগুলো সম্প্রতি স্থায়ী ক্যাম্পাসে স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে চারটি অনুষদের ১০টি বিভাগে সেখানে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী রয়েছেন।

ভাড়া করা ভবনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর একটি বড় উদাহরণ গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত প্রযুক্তি খাতের বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সিটি অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি, বাংলাদেশ (ইউএফটিবি)। ২০১৬ সালের জুলাইয়ে আইন পাস হওয়া এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চলছে তিনটি ভাড়া করা ভবনে। এর মধ্যে তিনতলা একটি নির্মাণাধীন ভবনে সাইবার সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ারিং, ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ক্লাস চলে, যা দেখতে সাধারণ বসতবাড়ির মতো। সেখানে জেনারেটর না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষার্থীরা। সেখান থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে আরেকটি ভাড়া ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম এবং মাঝামাঝি আরেকটি ভবনে প্রশাসনিক কাজ চলে। আট বছর পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে পারেনি। বর্তমানে এখানে পাঁচটি বিভাগে ৯২৮ জন শিক্ষার্থী এবং ৪১ জন শিক্ষক রয়েছেন, যার সবাই প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপক। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মুহাম্মদ আতাউর রহমান khan জানান, ৫০ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ৮০০ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ের একটি প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

একই দশা সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সুবিপ্রবি)। ২০২০ সালের নভেম্বরে আইন পাসের পর ২০২২ সালের জুনে উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয় ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে। শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন ভাড়া ভবনে এর কার্যক্রম চলছে। অথচ আহসানমারা সেতুর পূর্ব পাশে দেখার হাওরের পাড়ে যে জায়গায় স্থায়ী ক্যাম্পাস হওয়ার কথা, সেখানে এখনো থইথই পানি। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন করা হয়েছে সড়কের পাশের একটি বাড়ির দোতলার একাংশ ভাড়া নিয়ে। এ ছাড়া জামেয়া হাজী আক্রম আলী দাখিল মাদ্রাসার চারতলা ভবনের তিনটি তলা এবং আবদুল মজিদ কলেজের ছোট একটি দোতলা ভবনে ল্যাবরেটরি করা হয়েছে। সুনামগঞ্জ টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের চতুর্থ তলায় চলে অন্য দুটি বিষয়ের পাঠদান। শিক্ষার্থীদের জন্য ডুংরিয়া গ্রামে দুটি ভবন ভাড়া করে ছাত্র ও ছাত্রীদের থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার ধারণক্ষমতা যথাক্রমে ১০০ ও ৭০ জন। বর্তমানে ৪টি বিষয়ে এখানে ৪৮০ জন শিক্ষার্থী ও ১৫ জন শিক্ষক রয়েছেন। গত ২৮ জুলাই যোগ দেওয়া উপাচার্য অধ্যাপক মো. জাকির হুসাইন জানান, নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে অনেক সীমাবদ্ধতা থাকলেও এই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষার প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত জরুরি।

ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না করে এভাবে তড়িঘড়ি করে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা এবং নতুন বিভাগ খোলার পেছনে নিয়োগ-বাণিজ্যের সুযোগ তৈরির অভিযোগও উঠেছে। ইতিমধ্যে খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এক উপাচার্যের বিরুদ্ধে নিজের ছেলে, মেয়ে, শ্যালক-শ্যালিকাসহ পরিবারের ৯ জন সদস্য ও আত্মীয়কে অনিয়ম করে নিয়োগ দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া দেশের ১৪টি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষায়িত দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির লক্ষ্য থাকলেও জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অনেক প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বাইরে ব্যবস্থাপনা, সমাজকর্ম ও ভূগোলের মতো বিষয় পড়ানো হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল উদ্দেশ্যই দুর্বল হয়ে পড়ছে।

ইউজিসির বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তারা জানান, আগে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য প্রথমে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ দিয়ে ন্যূনতম অবকাঠামো তৈরি করা হতো, এরপর উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হতো। কিন্তু গত ১০-১২ বছর ধরে আইন পাস হওয়ার পরপরই সরাসরি উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। ২০২৩ সালের মে মাসে ইউজিসি ‘নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম শুরুর পূর্বের নীতিমালা’ অনুমোদন করলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। সম্প্রতি ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অধ্যাপক মো. নাজমুস সাদাত, যিনি এর আগে ১৯ জুলাই গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েছিলেন। তিনি ইতোমধ্যে প্রশাসনিক কার্যক্রমের জন্য সুবিধাজনক জায়গায় ভাড়া বাড়ি খোঁজার জন্য ইউজিসিতে চিঠি দিয়েছেন।

ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, নিজস্ব ক্যাম্পাস না থাকা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনুমোদন তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার অনেক আগেই হয়েছে এবং প্রায় সব কটিরই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে। এখন এগুলোকে যত দ্রুত সম্ভব নিয়মকানুনের মধ্যে আনা এবং ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

বর্তমানে দেশে ৬০টি পাবলিক ও ১১৬টি অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে, যেখানে মোট শিক্ষার্থী ৪৫ লাখের বেশি। তবে এত বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও আন্তর্জাতিক র‍্যাঙ্কিংয়ে দেশের কোনো প্রতিষ্ঠান সেরা ৫০০-এর তালিকায় নেই। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য সমন্বিত আইন থাকলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য কোনো সমন্বিত আইন নেই; বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনায় এগুলো প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ঢাকার সাত কলেজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন থেকে বের করে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি করা হয়, যা বর্তমানে নানা সমস্যা ও বিতর্কের মধ্য দিয়ে চলছে।

প্রস্তুতি ছাড়া পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করাকে ‘পরিণত বয়সের আগেই শিশুর জন্মের’ সঙ্গে তুলনা করেছেন ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক ড. সৌমিত জয়দ্বীপ। তিনি বলেন, জনগণের টাকায় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হবে, সেটি কেন পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়াই করতে হবে? পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনে কয়েক বছর পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। নিজস্ব ক্যাম্পাস, অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেই শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করা উচিত। তা না হলে সেখানে আর যা-ই হোক, বিশ্ববিদ্যালয় মানের শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।