লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চবিতে তাসাউফের গুরুত্ব নিয়ে আল-আজহারের অধ্যাপকের স্মারক বক্তৃতা

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী স্মারক বক্তৃতা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ফ্যাকাল্টি অডিটোরিয়ামে এই স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (DIRI) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইসলামের ইতিহাস, সংস্কৃতি, তাসাউফ ও সুফিবাদের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দেশ-বিদেশের বক্তারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম।

‘The Position of Al-Azhar Sharif on Sufism’ শীর্ষক বিষয়ে মূল বক্তব্য দেন মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ইসলামিক দাওয়াহর সাবেক ডিন এবং ডিপার্টমেন্ট অব রিলিজিয়ন অ্যান্ড ডকট্রিনের অধ্যাপক ড. জামাল ফারুক জিব্রিল মাহমুদ। তিনি বলেন, হাদিসে জিব্রিলের দৃষ্টিকোণ থেকে তাসাউফ ধর্মের এক-তৃতীয়াংশ; বরং এটি পুরো দীনের প্রধান কেন্দ্র। তিনি আরও বলেন, তাসাউফ মানেই উত্তম আখলাক, উন্নত চরিত্র এবং আল্লাহর সঙ্গে সৃষ্টির গভীর সম্পর্ক। এটিকে অস্বীকার করা পুরো ধর্মীয় বিষয়কে অস্বীকার করার শামিল। মানুষের অন্তরের ত্রুটি দূর করতে রাসুলের শিক্ষা ও তাসকিয়া বা আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে তার অনুবাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যুক্তরাজ্যের বিচার মন্ত্রণালয়ের ধর্মীয় বিভাগের প্রধান মু. মহিউদ্দিন।

বাহরাইন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল ড. ইব্রাহিম আল শেখ রশিদ আল মুরাইখি সুফি সংগীতের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, মানুষের অন্তর খোদাপ্রদত্ত ঐশী আলোর প্রতিফলন ঘটানোর মাধ্যম। সুফিয়ায়ে কেরাম অন্তর পরিশোধন ও মানবিক বিকাশের লক্ষ্যেই ‘সামা’ বা সুফি সংগীতের প্রবর্তন করেছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ট্রাস্টি শাহজাদা সৈয়দ ইরফানুল হক এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ.এস.এম. বোরহান উদ্দীন।

স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে হযরত সৈয়দ দেলোয়ার হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.) স্মৃতি বৃত্তি প্রদান করা হয়। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া ইশা এবং দিলরুবা গুলশান ভূঁঞা এ বৃত্তি লাভ করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও আলেম-উলামারা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (DIRI) যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ফ্যাকাল্টি অডিটোরিয়ামে এ স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডেঙ্গু মোকাবিলায় দেশজুড়ে তিন মাসের বিশেষ কর্মসূচি নিয়েছে সরকার

চবিতে তাসাউফের গুরুত্ব নিয়ে আল-আজহারের অধ্যাপকের স্মারক বক্তৃতা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ‘গাউছুল আজম সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী স্মারক বক্তৃতা-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ফ্যাকাল্টি অডিটোরিয়ামে এই স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (DIRI) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে ইসলামের ইতিহাস, সংস্কৃতি, তাসাউফ ও সুফিবাদের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন দেশ-বিদেশের বক্তারা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মোরশেদুল আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আল-আমীন এবং উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. সফিকুল ইসলাম।

‘The Position of Al-Azhar Sharif on Sufism’ শীর্ষক বিষয়ে মূল বক্তব্য দেন মিশরের আল-আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি অব ইসলামিক দাওয়াহর সাবেক ডিন এবং ডিপার্টমেন্ট অব রিলিজিয়ন অ্যান্ড ডকট্রিনের অধ্যাপক ড. জামাল ফারুক জিব্রিল মাহমুদ। তিনি বলেন, হাদিসে জিব্রিলের দৃষ্টিকোণ থেকে তাসাউফ ধর্মের এক-তৃতীয়াংশ; বরং এটি পুরো দীনের প্রধান কেন্দ্র। তিনি আরও বলেন, তাসাউফ মানেই উত্তম আখলাক, উন্নত চরিত্র এবং আল্লাহর সঙ্গে সৃষ্টির গভীর সম্পর্ক। এটিকে অস্বীকার করা পুরো ধর্মীয় বিষয়কে অস্বীকার করার শামিল। মানুষের অন্তরের ত্রুটি দূর করতে রাসুলের শিক্ষা ও তাসকিয়া বা আত্মশুদ্ধির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। অনুষ্ঠানে তার অনুবাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন যুক্তরাজ্যের বিচার মন্ত্রণালয়ের ধর্মীয় বিভাগের প্রধান মু. মহিউদ্দিন।

বাহরাইন সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল ড. ইব্রাহিম আল শেখ রশিদ আল মুরাইখি সুফি সংগীতের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, মানুষের অন্তর খোদাপ্রদত্ত ঐশী আলোর প্রতিফলন ঘটানোর মাধ্যম। সুফিয়ায়ে কেরাম অন্তর পরিশোধন ও মানবিক বিকাশের লক্ষ্যেই ‘সামা’ বা সুফি সংগীতের প্রবর্তন করেছিলেন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ও ম্যানেজিং ট্রাস্টি শাহজাদা সৈয়দ ইরফানুল হক এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. এ.এস.এম. বোরহান উদ্দীন।

স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে হযরত সৈয়দ দেলোয়ার হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.) স্মৃতি বৃত্তি প্রদান করা হয়। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থী জান্নাতুল মাওয়া ইশা এবং দিলরুবা গুলশান ভূঁঞা এ বৃত্তি লাভ করেন। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও আলেম-উলামারা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ এবং দারুল ইরফান রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (DIRI) যৌথ উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ ফ্যাকাল্টি অডিটোরিয়ামে এ স্মারক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়।