লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:১৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইয়াবা পাচার রোধে এআই ক্যামেরা ও নতুন চেকপোস্টের প্রস্তাব পুলিশের

মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবার প্রবেশ ঠেকাতে এবং পাচারকারীদের নতুন কৌশল মোকাবিলায় কঠোর নজরদারির উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ কক্সবাজার ও বান্দরবানের ১১টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি স্থাপনের একটি প্রস্তাব গত ২৭ জুলাই পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছে। এই নজরদারিবলয় তৈরির মূল লক্ষ্য হলো সীমান্ত থেকে ইয়াবা যেন কোনোভাবেই দেশের অভ্যন্তরীণ শহর বা অন্যান্য এলাকায় পৌঁছাতে না পারে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব চেকপোস্টে মোট ৩১টি এআই-ভিত্তিক মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা এবং ১৪০টি সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। এছাড়া এসব তল্লাশিচৌকিতে মাদক শনাক্তকারী ডগ স্কোয়াড এবং গাড়ি ও লাগেজ স্ক্যানার বসানো হবে। এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয় এবং ৩২১ জন পুলিশ সদস্য নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক মো. নাজিমুল হক জানান, সন্দেহভাজন ইয়াবা কারবারিদের ছবি এআই সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকবে, যা তাদের চলাচল শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।

কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্ত এলাকা সরেজমিন ঘুরে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। ইয়াবা পাচারের রুট হিসেবে চিহ্নিত রামুর রাংকুট বৌদ্ধবিহার, পনেরো ছড়া ফরেস্ট অফিস, কক্সবাজারের ভাঙ্গার মোড়, চৌফলদণ্ডী লোহার সেতু, রেলস্টেশন, উখিয়ার কোর্ট বাজার এবং চকরিয়ার হারবাং সড়ককে নজরদারির আওতায় আনা হবে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বেইলি সেতু, সোনাইছড়ি চৌরাস্তার মোড় ও বাইশারী পেটান আলীপাড়া মোড়কেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে মেরিন ড্রাইভের শেষ প্রান্তের ভাঙ্গার মোড়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানে ৪২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন এবং ব্যাপক প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ছয়টি ভেহিক্যাল স্ক্যানিং মেশিনের জন্য ৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং আটটি লাগেজ স্ক্যানারের জন্য ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ৫০০ বর্গফুটের সেমি পাকা ভবন ও আরসিসি পার্কিং পেভমেন্ট নির্মাণে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে। শুধু প্রধান সড়ক নয়, ইয়াবা পাচারের পুরোনো পথগুলোও নজরদারির আওতায় আনতে চাইছে পুলিশ। এছাড়া এআই সফটওয়্যার ও মনিটরিংয়ের জন্য বাড়তি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৪৫টি ইয়াবা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১টি ইয়াবা জব্দ করেছে। এরপরও পাচার বন্ধ না হওয়ায় প্রযুক্তি ব্যবহারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, মাদক পরিবহনের রুট বন্ধ করতে সমন্বিত নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। তবে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেকেই ছক্কার রেকর্ড রাজাউল্লাহর

ইয়াবা পাচার রোধে এআই ক্যামেরা ও নতুন চেকপোস্টের প্রস্তাব পুলিশের

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩১:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ইয়াবার প্রবেশ ঠেকাতে এবং পাচারকারীদের নতুন কৌশল মোকাবিলায় কঠোর নজরদারির উদ্যোগ নিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম রেঞ্জ পুলিশ কক্সবাজার ও বান্দরবানের ১১টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থায়ী তল্লাশিচৌকি স্থাপনের একটি প্রস্তাব গত ২৭ জুলাই পুলিশ সদর দপ্তরে পাঠিয়েছে। এই নজরদারিবলয় তৈরির মূল লক্ষ্য হলো সীমান্ত থেকে ইয়াবা যেন কোনোভাবেই দেশের অভ্যন্তরীণ শহর বা অন্যান্য এলাকায় পৌঁছাতে না পারে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, এসব চেকপোস্টে মোট ৩১টি এআই-ভিত্তিক মুখ শনাক্তকারী ক্যামেরা এবং ১৪০টি সাধারণ সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। এছাড়া এসব তল্লাশিচৌকিতে মাদক শনাক্তকারী ডগ স্কোয়াড এবং গাড়ি ও লাগেজ স্ক্যানার বসানো হবে। এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ১৩ কোটি টাকা ব্যয় এবং ৩২১ জন পুলিশ সদস্য নিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত উপমহাপুলিশ পরিদর্শক মো. নাজিমুল হক জানান, সন্দেহভাজন ইয়াবা কারবারিদের ছবি এআই সিস্টেমে সংরক্ষিত থাকবে, যা তাদের চলাচল শনাক্ত করতে সহায়তা করবে।

কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্ত এলাকা সরেজমিন ঘুরে এই পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। ইয়াবা পাচারের রুট হিসেবে চিহ্নিত রামুর রাংকুট বৌদ্ধবিহার, পনেরো ছড়া ফরেস্ট অফিস, কক্সবাজারের ভাঙ্গার মোড়, চৌফলদণ্ডী লোহার সেতু, রেলস্টেশন, উখিয়ার কোর্ট বাজার এবং চকরিয়ার হারবাং সড়ককে নজরদারির আওতায় আনা হবে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বেইলি সেতু, সোনাইছড়ি চৌরাস্তার মোড় ও বাইশারী পেটান আলীপাড়া মোড়কেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে মেরিন ড্রাইভের শেষ প্রান্তের ভাঙ্গার মোড়কে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখানে ৪২ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন এবং ব্যাপক প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, ছয়টি ভেহিক্যাল স্ক্যানিং মেশিনের জন্য ৯ কোটি ৩০ লাখ টাকা এবং আটটি লাগেজ স্ক্যানারের জন্য ৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ৫০০ বর্গফুটের সেমি পাকা ভবন ও আরসিসি পার্কিং পেভমেন্ট নির্মাণে ১৭ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব দেওয়া হয়েছে। শুধু প্রধান সড়ক নয়, ইয়াবা পাচারের পুরোনো পথগুলোও নজরদারির আওতায় আনতে চাইছে পুলিশ। এছাড়া এআই সফটওয়্যার ও মনিটরিংয়ের জন্য বাড়তি বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

২০২৫ সাল থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৪৫টি ইয়াবা এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ৪ কোটি ৩৫ লাখ ৬২ হাজার ৮১১টি ইয়াবা জব্দ করেছে। এরপরও পাচার বন্ধ না হওয়ায় প্রযুক্তি ব্যবহারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) চট্টগ্রামের সম্পাদক আখতার কবির চৌধুরী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, মাদক পরিবহনের রুট বন্ধ করতে সমন্বিত নজরদারি অত্যন্ত জরুরি। তবে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।