লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লালপুরে পদ্মার পানিতে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্লাবিত, বিলীন অর্ধশত ঘরবাড়ি

নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে উজানের ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী নিচু এলাকা ও চরাঞ্চলের মানুষের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। আকস্মিক এই বন্যায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি এবং তলিয়ে গেছে ৫০২ হেক্টর জমির ফসল ও সবজি। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রিফাত করিম জানান, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঈশ্বরদীর হার্ডিং ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৩ মিটার। এই পরিমাপ অনুযায়ী লালপুর পয়েন্টে পদ্মার পানি বর্তমানে বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগের দিনের তুলনায় এদিন পানি ৪ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানি বৃদ্ধির কারণে লালপুর, ঈশ্বরদী ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি চর ও নদী তীরবর্তী নিচু এলাকা দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। পানি বিপদসীমার কাছাকাছি থাকায় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে বন্যা কবলিত এলাকায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, আকস্মিক পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ৫০২ হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে রয়েছে ৪৩৫ হেক্টর জমির আখ, ৭ হেক্টর জমির সবজি এবং ৬০ হেক্টর জমির ফল বাগান। বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের দিয়ারশংকরপুর চরের কৃষক মো. আবুল কাশেম জানান, হঠাৎ পানি বাড়ায় তার ২ বিঘা জমির মুলা ও বেগুন ক্ষেত সম্পূর্ণ ডুবে গেছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও ৪ বিঘা জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কাইগিমারি চরের মহিষের খামারি খায়রুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চল বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় কোথাও কাঁচা ঘাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গবাদি পশু নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন এবং মহিষকে শুধু শুকনো ধানের খড় ও পানি খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধির সমান্তরালে তীব্র নদীভাঙনও শুরু হয়েছে। উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নওসারা সুলতানপুর পদ্মার চরে ভাঙনে প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আকস্মিক এই ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বহু পরিবার।

লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান, তারা ক্ষতিগ্রস্ত চরাঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তবে পানি পুরোপুরি কমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা সম্পর্কে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, চরাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি ও পানির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওসারা সুলতানপুর চরে নদীভাঙনের শিকার ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে, আখ ৪৩৫ হেক্টর, সবজি ৭ হেক্টর, ফল ৬০ হেক্টরনজমির প্রায় ১৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকসুর বিতর্কিত কার্যক্রমের তদন্তে কমিটি গঠন করল ঢাবি প্রশাসন

লালপুরে পদ্মার পানিতে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্লাবিত, বিলীন অর্ধশত ঘরবাড়ি

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০৭:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে গত কয়েকদিন ধরে উজানের ঢল ও টানা বর্ষণের কারণে পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে নদী তীরবর্তী নিচু এলাকা ও চরাঞ্চলের মানুষের বসতবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। আকস্মিক এই বন্যায় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে প্রায় অর্ধশত ঘরবাড়ি এবং তলিয়ে গেছে ৫০২ হেক্টর জমির ফসল ও সবজি। ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রিফাত করিম জানান, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঈশ্বরদীর হার্ডিং ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৩ মিটার। এই পরিমাপ অনুযায়ী লালপুর পয়েন্টে পদ্মার পানি বর্তমানে বিপদসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে আগের দিনের তুলনায় এদিন পানি ৪ সেন্টিমিটার হ্রাস পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পানি বৃদ্ধির কারণে লালপুর, ঈশ্বরদী ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি চর ও নদী তীরবর্তী নিচু এলাকা দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। পানি বিপদসীমার কাছাকাছি থাকায় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। একই সঙ্গে বন্যা কবলিত এলাকায় গবাদি পশুর খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, আকস্মিক পানি বাড়ায় চরাঞ্চলের প্রায় ১ হাজার ৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পানিতে তলিয়ে যাওয়া ৫০২ হেক্টর ফসলি জমির মধ্যে রয়েছে ৪৩৫ হেক্টর জমির আখ, ৭ হেক্টর জমির সবজি এবং ৬০ হেক্টর জমির ফল বাগান। বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের দিয়ারশংকরপুর চরের কৃষক মো. আবুল কাশেম জানান, হঠাৎ পানি বাড়ায় তার ২ বিঘা জমির মুলা ও বেগুন ক্ষেত সম্পূর্ণ ডুবে গেছে এবং পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আরও ৪ বিঘা জমির ফসল তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কাইগিমারি চরের মহিষের খামারি খায়রুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চল বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় কোথাও কাঁচা ঘাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে গবাদি পশু নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন এবং মহিষকে শুধু শুকনো ধানের খড় ও পানি খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখতে হচ্ছে।

পানি বৃদ্ধির সমান্তরালে তীব্র নদীভাঙনও শুরু হয়েছে। উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নওসারা সুলতানপুর পদ্মার চরে ভাঙনে প্রায় ৫০টি বসতবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, আকস্মিক এই ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে বহু পরিবার।

লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় জানান, তারা ক্ষতিগ্রস্ত চরাঞ্চল পরিদর্শন করেছেন। পদ্মার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, তবে পানি পুরোপুরি কমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা সম্পর্কে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবীর হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, চরাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি ও পানির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের নওসারা সুলতানপুর চরে নদীভাঙনের শিকার ৩০টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ৩০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে, আখ ৪৩৫ হেক্টর, সবজি ৭ হেক্টর, ফল ৬০ হেক্টরনজমির প্রায় ১৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।