লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাউজানে আলোচিত করিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নে সংঘটিত বহুল আলোচিত মোহাম্মদ করিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় গোয়েন্দা শাখা নিবিড় তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

নিহত মোহাম্মদ করিম রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং হাটহাজারীর আমান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মোট ১০টি মামলা রয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট বাজারে তাকে সিএনজিযোগে আসা একদল সন্ত্রাসী ঘিরে ধরে গুলি করে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ঘটনার পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের জনৈক পারভেজের মামার বাড়ির উঠোন থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। পারভেজ ওই চুরির জন্য করিমকে সন্দেহ করে মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। করিম অস্বীকার করায় ক্ষুব্ধ হয়ে পারভেজ কৌশলে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় করিমকে কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে আনে। সেখানে পারভেজ ও তার সহযোগীরা মিলে করিমকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে।

গোয়েন্দা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে সিএমপির কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) ও মো. জাবেদ (২৮)-কে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যে পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পলাতক আসামি পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর ফার্মে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় এলজি, একটি এয়ার গান, ২ রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি লোহার গ্রিল কাটার উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে মো. সেলিম (৫০) ও মো. আলামিন (২৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. সেলিমের বিরুদ্ধে চুরির মামলা, জাবেদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা এবং আলামিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া মূল অভিযুক্ত পারভেজের (৪৫) বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পলাতক আসামি পারভেজসহ জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডাকসুর বিতর্কিত কার্যক্রমের তদন্তে কমিটি গঠন করল ঢাবি প্রশাসন

রাউজানে আলোচিত করিম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেপ্তার ৪

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩০:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নে সংঘটিত বহুল আলোচিত মোহাম্মদ করিম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের সার্বিক দিক-নির্দেশনায় গোয়েন্দা শাখা নিবিড় তদন্ত ও ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ১৪ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়।

নিহত মোহাম্মদ করিম রাউজানের উরকিরচর ইউনিয়নের হারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং হাটহাজারীর আমান বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। তার বিরুদ্ধে চুরি, মাদক, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে মোট ১০টি মামলা রয়েছে। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে উরকিরচর ইউনিয়নের কেরানিহাট বাজারে তাকে সিএনজিযোগে আসা একদল সন্ত্রাসী ঘিরে ধরে গুলি করে। এরপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথা ও ঘাড়ে আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। ঘটনার পর চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছিলেন।

তদন্তে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১০ দিন আগে পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের জনৈক পারভেজের মামার বাড়ির উঠোন থেকে একটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। পারভেজ ওই চুরির জন্য করিমকে সন্দেহ করে মোটরসাইকেলটি ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। করিম অস্বীকার করায় ক্ষুব্ধ হয়ে পারভেজ কৌশলে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় করিমকে কেরানিহাট বাজার এলাকায় ডেকে আনে। সেখানে পারভেজ ও তার সহযোগীরা মিলে করিমকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে।

গোয়েন্দা পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে সিএমপির কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকা থেকে সৈয়দ মোহাম্মদ শুক্কুর (২৭) ও মো. জাবেদ (২৮)-কে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যে পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের মগদাই এলাকায় পলাতক আসামি পারভেজের পরিত্যক্ত গরুর ফার্মে অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় এলজি, একটি এয়ার গান, ২ রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি চাপাতি ও একটি লোহার গ্রিল কাটার উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা এলাকা থেকে মো. সেলিম (৫০) ও মো. আলামিন (২৯)-কে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মো. সেলিমের বিরুদ্ধে চুরির মামলা, জাবেদের বিরুদ্ধে অপহরণ মামলা এবং আলামিনের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত দুটি মামলা রয়েছে। এছাড়া মূল অভিযুক্ত পারভেজের (৪৫) বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পলাতক আসামি পারভেজসহ জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।