লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিবাদে অস্কারজয়ীসহ ১০০ জন গ্রেপ্তার

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সফর ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর ভাষণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এই বিক্ষোভ থেকে অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার, ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেসপ্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসসহ প্রায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের তথ্যের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার মিডটাউন ম্যানহাটন এলাকায় এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ নামের একটি ইহুদি অধিকারগোষ্ঠী এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। এতে অংশ নেওয়া প্রায় ২০০ মানুষ একই ধরনের সাদা টি-শার্ট পরেছিলেন, যাতে ‘যুদ্ধ নয়’, ‘ফিলিস্তিন মুক্ত করো’ এবং ‘বোমা নয়, মানুষের জন্য অর্থ দাও’-এর মতো স্লোগান লেখা ছিল। বিক্ষোভকারীরা গাজায় ৭২ হাজারের বেশি মানুষ হত্যার দায়ে নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যা দেন।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিলে পুলিশ লাউডস্পিকারে তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে একটি দল রাস্তায় বসে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকে। পরে সাইকেলে করে আসা পুলিশ সদস্যরা তাদের ঘিরে ফেলেন এবং একে একে টেনে বের করে জিপ টাই দিয়ে হাত বেঁধে বাসে করে নিয়ে যান। বাসের বাইরে থাকা বিক্ষোভকারীরা এ সময় ‘নেতানিয়াহু জাহান্নামে যাও’ স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানিজেহ মোরাদিয়ান বলেন, গাজায় যা করা হচ্ছে, তাতে একটি পুরো সমাজকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে। এটা আমাদের নামে এবং আমাদের করের অর্থে করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কথা বলা আমাদের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, এসব নৃশংসতার সাফাই গাওয়ার জন্য জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করার কোনো অধিকার নেতানিয়াহুর নেই।

এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহু যখন মঞ্চে ভাষণ দিতে ওঠেন, তখন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। অনেকে তাঁর উদ্দেশে দুয়ো ধ্বনিও দেন। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব প্রতিনিধিদল দাঁড়িয়ে তালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানায়। নিজের ভাষণে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে এবং নেতানিয়াহু এমন একটি নির্বাচনের মুখোমুখি রয়েছেন যেখানে তিনি হেরে যেতে পারেন, এমন পরিস্থিতিতে তিনি এই সফর ও ভাষণ দেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

পটিয়ায় শ্রীমতি খাল থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিবাদে অস্কারজয়ীসহ ১০০ জন গ্রেপ্তার

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৫:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সফর ও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তাঁর ভাষণকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। এই বিক্ষোভ থেকে অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী সুসান সারান্ডন, এমি পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডার, ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেসপ্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসসহ প্রায় ১০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের তথ্যের বরাতে দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার মিডটাউন ম্যানহাটন এলাকায় এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে ‘জিউইশ ভয়েস ফর পিস’ নামের একটি ইহুদি অধিকারগোষ্ঠী এই বিক্ষোভের আয়োজন করে। এতে অংশ নেওয়া প্রায় ২০০ মানুষ একই ধরনের সাদা টি-শার্ট পরেছিলেন, যাতে ‘যুদ্ধ নয়’, ‘ফিলিস্তিন মুক্ত করো’ এবং ‘বোমা নয়, মানুষের জন্য অর্থ দাও’-এর মতো স্লোগান লেখা ছিল। বিক্ষোভকারীরা গাজায় ৭২ হাজারের বেশি মানুষ হত্যার দায়ে নেতানিয়াহুকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যা দেন।

বিক্ষোভের এক পর্যায়ে অংশগ্রহণকারীরা সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে দিলে পুলিশ লাউডস্পিকারে তাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে একটি দল রাস্তায় বসে বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকে। পরে সাইকেলে করে আসা পুলিশ সদস্যরা তাদের ঘিরে ফেলেন এবং একে একে টেনে বের করে জিপ টাই দিয়ে হাত বেঁধে বাসে করে নিয়ে যান। বাসের বাইরে থাকা বিক্ষোভকারীরা এ সময় ‘নেতানিয়াহু জাহান্নামে যাও’ স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানিজেহ মোরাদিয়ান বলেন, গাজায় যা করা হচ্ছে, তাতে একটি পুরো সমাজকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া হচ্ছে। এটা আমাদের নামে এবং আমাদের করের অর্থে করা হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কথা বলা আমাদের দায়িত্ব। তিনি আরও বলেন, এসব নৃশংসতার সাফাই গাওয়ার জন্য জাতিসংঘের মঞ্চ ব্যবহার করার কোনো অধিকার নেতানিয়াহুর নেই।

এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহু যখন মঞ্চে ভাষণ দিতে ওঠেন, তখন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও প্রতিনিধিরা কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। অনেকে তাঁর উদ্দেশে দুয়ো ধ্বনিও দেন। তবে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব প্রতিনিধিদল দাঁড়িয়ে তালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানায়। নিজের ভাষণে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। নির্বাচনের আগে আন্তর্জাতিকভাবে ইসরায়েলের বিচ্ছিন্নতা বাড়ছে এবং নেতানিয়াহু এমন একটি নির্বাচনের মুখোমুখি রয়েছেন যেখানে তিনি হেরে যেতে পারেন, এমন পরিস্থিতিতে তিনি এই সফর ও ভাষণ দেন।