লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশের ক্রীড়াসামগ্রীর বাজারে চীনের একচেটিয়া আধিপত্য

ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাট, জিমের ট্রেডমিল থেকে শুরু করে ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট—বাংলাদেশের ক্রীড়াসামগ্রীর বাজারে এখন চীনা পণ্যের জয়জয়কার। গুলিস্তান-পল্টনের সাধারণ দোকান থেকে শুরু করে বড় শোরুম এমনকি পেশাদার প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতেও চীনের তৈরি সরঞ্জামের সরবরাহ দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, দেশের ক্রীড়াসামগ্রীর বার্ষিক বাজার প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ পণ্যই আমদানিনির্ভর এবং আমদানির সিংহভাগ আসে চীন থেকে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষক সংস্থা দ্য অবজারভেটরি অব ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটি (ওইসি)-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে আমদানির হার আরও বেশি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ তার মোট ক্রীড়াসামগ্রীর প্রায় ৮০ শতাংশই চীন থেকে আমদানি করে। ২০২৪ সালে চীন থেকে প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪২৫ কোটি টাকার ক্রীড়াসামগ্রী আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জিম ও ফিটনেস সরঞ্জাম, ট্রেডমিল, ওয়েটলিফটিং বারবেল, ফুটবল, বাস্কেটবল এবং ক্রিকেট গিয়ার।

বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় জার্সির চাহিদাও মেটাচ্ছে চীন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগের পাঁচ মাসে ২৪টি দেশ থেকে ২ লাখ ২২ হাজার জার্সি আমদানি করা হয়েছে, যার মধ্যে ২ লাখ ১৭ হাজার বা প্রায় ৯৮ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। বাজার গবেষণা সংস্থা আইমার্কের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫০ কোটি ডলারের বৈশ্বিক ফুটবলের বাজারে চীন ফুটবল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে।

চীনা পণ্যের এই আধিপত্যের পেছনে প্রধান কারণ দামের সাশ্রয় ও পণ্যের বৈচিত্র্য। গুলিস্তানের টি ওয়ার্ল্ড স্পোর্টসের বিক্রেতা কাউসার হোসেন জানান, আগে ভালো মানের বিদেশি ফুটবল বা র‍্যাকেট কেনা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কঠিন ছিল, কিন্তু এখন ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে আকর্ষণীয় ও টেকসই চীনা পণ্য পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম আর শামিম বলেন, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা মাত্র ৪০ শতাংশের মতো, যা মূলত সাধারণ মানের ক্রিকেট ব্যাট বা ফুটবলে সীমাবদ্ধ। তিনি মনে করেন, চীন সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক ও ডিজিটাল সরঞ্জাম সরবরাহ না করলে ক্রীড়া খাতের আধুনিকায়ন কয়েক দশক পিছিয়ে যেত। তবে তিনি পরামর্শ দেন, চীনের প্রযুক্তি ও কাঁচামাল কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে কারখানা গড়ে তুললে বাজার উৎপাদনমুখী হতে পারে। বিশেষ করে জার্সি, ব্যাগ ও গ্লাভস তৈরিতে স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

২০২৫ সালের প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করেনি তারা।শুধু তা–ই নয়, প্রতি চার বছর পরপর বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর আগেও বাংলাদেশের বাজারে থাকা বেশিরভাগ জার্সিও আসে চীন থেকে।

অর্থাৎ আমদানি হওয়া জার্সির প্রায় ৯৮ শতাংশের উৎস চীন।বাজার গবেষণাকারী সংস্থা আইমার্কের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বে ফুটবলের বাজার ছিল ৩৫০ কোটি ডলারের।

জনপ্রিয় সংবাদ

শৃঙ্খলা না মানলে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার হুঁশিয়ারি

বাংলাদেশের ক্রীড়াসামগ্রীর বাজারে চীনের একচেটিয়া আধিপত্য

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৪:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফুটবল, ক্রিকেট ব্যাট, জিমের ট্রেডমিল থেকে শুরু করে ব্যাডমিন্টন র‍্যাকেট—বাংলাদেশের ক্রীড়াসামগ্রীর বাজারে এখন চীনা পণ্যের জয়জয়কার। গুলিস্তান-পল্টনের সাধারণ দোকান থেকে শুরু করে বড় শোরুম এমনকি পেশাদার প্রশিক্ষণকেন্দ্রগুলোতেও চীনের তৈরি সরঞ্জামের সরবরাহ দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, দেশের ক্রীড়াসামগ্রীর বার্ষিক বাজার প্রায় এক হাজার থেকে দেড় হাজার কোটি টাকার। এর মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ পণ্যই আমদানিনির্ভর এবং আমদানির সিংহভাগ আসে চীন থেকে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষক সংস্থা দ্য অবজারভেটরি অব ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটি (ওইসি)-এর ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে আমদানির হার আরও বেশি। তাদের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ তার মোট ক্রীড়াসামগ্রীর প্রায় ৮০ শতাংশই চীন থেকে আমদানি করে। ২০২৪ সালে চীন থেকে প্রায় ৩ কোটি ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৪২৫ কোটি টাকার ক্রীড়াসামগ্রী আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো জিম ও ফিটনেস সরঞ্জাম, ট্রেডমিল, ওয়েটলিফটিং বারবেল, ফুটবল, বাস্কেটবল এবং ক্রিকেট গিয়ার।

বিশ্বকাপ ফুটবলের সময় জার্সির চাহিদাও মেটাচ্ছে চীন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ শুরুর আগের পাঁচ মাসে ২৪টি দেশ থেকে ২ লাখ ২২ হাজার জার্সি আমদানি করা হয়েছে, যার মধ্যে ২ লাখ ১৭ হাজার বা প্রায় ৯৮ শতাংশই এসেছে চীন থেকে। বাজার গবেষণা সংস্থা আইমার্কের তথ্য অনুযায়ী, ৩৫০ কোটি ডলারের বৈশ্বিক ফুটবলের বাজারে চীন ফুটবল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষে রয়েছে।

চীনা পণ্যের এই আধিপত্যের পেছনে প্রধান কারণ দামের সাশ্রয় ও পণ্যের বৈচিত্র্য। গুলিস্তানের টি ওয়ার্ল্ড স্পোর্টসের বিক্রেতা কাউসার হোসেন জানান, আগে ভালো মানের বিদেশি ফুটবল বা র‍্যাকেট কেনা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য কঠিন ছিল, কিন্তু এখন ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে আকর্ষণীয় ও টেকসই চীনা পণ্য পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ স্পোর্টস গুডস মার্চেন্টস, ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম আর শামিম বলেন, স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা মাত্র ৪০ শতাংশের মতো, যা মূলত সাধারণ মানের ক্রিকেট ব্যাট বা ফুটবলে সীমাবদ্ধ। তিনি মনে করেন, চীন সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক ও ডিজিটাল সরঞ্জাম সরবরাহ না করলে ক্রীড়া খাতের আধুনিকায়ন কয়েক দশক পিছিয়ে যেত। তবে তিনি পরামর্শ দেন, চীনের প্রযুক্তি ও কাঁচামাল কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশে যৌথ উদ্যোগে কারখানা গড়ে তুললে বাজার উৎপাদনমুখী হতে পারে। বিশেষ করে জার্সি, ব্যাগ ও গ্লাভস তৈরিতে স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

২০২৫ সালের প্রতিবেদন এখনো প্রকাশ করেনি তারা।শুধু তা–ই নয়, প্রতি চার বছর পরপর বিশ্বকাপ ফুটবল শুরুর আগেও বাংলাদেশের বাজারে থাকা বেশিরভাগ জার্সিও আসে চীন থেকে।

অর্থাৎ আমদানি হওয়া জার্সির প্রায় ৯৮ শতাংশের উৎস চীন।বাজার গবেষণাকারী সংস্থা আইমার্কের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে বিশ্বে ফুটবলের বাজার ছিল ৩৫০ কোটি ডলারের।