লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কাগজে-কলমে বনায়ন, মাঠে ভিন্ন চিত্র: সুফল প্রকল্পে কোটি টাকার অনিয়ম

বিশ্বব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তায় পরিচালিত 'সুফল (টেকসই বন ও জীবিকা) প্রকল্প' ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মাঠপর্যায়ে বনায়নের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও সরকারি নথিপত্রে লাখ লাখ চারা রোপণের হিসাব দেখানো হয়েছে। বন অধিদপ্তর তথ্য অধিকার আইনের তোয়াক্কা না করে এসব প্রকল্পের ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে গড়িমসি করছে। প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে বনায়নের দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দুদক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রামুর জোয়ারিয়ানালা বিটে কাগজে ৫১০ হেক্টর বনায়ন দেখানো হলেও বাস্তবে তা প্রায় ১৬০ হেক্টর। শেরপুরের রাংটিয়া রেঞ্জেও একই চিত্র পাওয়া গেছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা হাতির আক্রমণ বা প্রাকৃতিক কারণের অজুহাত দিলেও উপগ্রহচিত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্য পর্যালোচনায় প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের কেনাকাটায় বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। চারটি ফোর্ড পিকআপ প্রতিটি ৫৭ লাখ টাকা দরে কেনা হয়েছে, যেখানে একই ধরনের পিকআপ আগে ৪৭ লাখ টাকায় কেনা হয়েছিল। ১২৮টি ফটোকপি মেশিন কেনায় ৩ কোটি ১০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা, এবং মোটরসাইকেল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও আসবাবপত্র কেনাকাটায় ৩৭ কোটি ১৬ লাখ ১৬ হাজার টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মহাখালীর বনভবন সংস্কারে ৮ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ের বিপরীতে কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও যশোরে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হলেও প্রত্যাশিত চারা উৎপাদন হচ্ছে না। একইসঙ্গে জাতীয় বন জরিপে ১৭ কোটি, নন-ডেট্রিমেন্টাল ফাইন্ডিংস কার্যক্রমে ৪ কোটি, সহায়তাপ্রাপ্ত প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম (এএনআর) পদ্ধতিতে ১৬ কোটি ৩৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা এবং সমৃদ্ধকরণ ও অ-কাঠ বনজ পণ্যভিত্তিক বাগান তৈরিতে ৬৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের পরিবারের সদস্য, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী এবং তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ড. গোবিন্দ রায়ের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট ১৫ শতাংশ কমিশন বাণিজ্যে লিপ্ত ছিল। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন অধিদপ্তরে অভিযান চালিয়ে নথি সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হয় এবং ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও বনায়ন ও আর্থিক অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রায়গঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে এমপি আয়নুল হকের পরিচ্ছন্নতা অভিযান

কাগজে-কলমে বনায়ন, মাঠে ভিন্ন চিত্র: সুফল প্রকল্পে কোটি টাকার অনিয়ম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:১২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্বব্যাংকের প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ সহায়তায় পরিচালিত 'সুফল (টেকসই বন ও জীবিকা) প্রকল্প' ঘিরে ভয়াবহ অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। মাঠপর্যায়ে বনায়নের অস্তিত্ব পাওয়া না গেলেও সরকারি নথিপত্রে লাখ লাখ চারা রোপণের হিসাব দেখানো হয়েছে। বন অধিদপ্তর তথ্য অধিকার আইনের তোয়াক্কা না করে এসব প্রকল্পের ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিয়ে গড়িমসি করছে। প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।

প্রকল্পের আওতায় ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬০ হেক্টর জমিতে বনায়নের দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। দুদক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, রামুর জোয়ারিয়ানালা বিটে কাগজে ৫১০ হেক্টর বনায়ন দেখানো হলেও বাস্তবে তা প্রায় ১৬০ হেক্টর। শেরপুরের রাংটিয়া রেঞ্জেও একই চিত্র পাওয়া গেছে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা হাতির আক্রমণ বা প্রাকৃতিক কারণের অজুহাত দিলেও উপগ্রহচিত্র ও মাঠপর্যায়ের তথ্য পর্যালোচনায় প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসার সুযোগ রয়েছে।

প্রকল্পের কেনাকাটায় বড় ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। চারটি ফোর্ড পিকআপ প্রতিটি ৫৭ লাখ টাকা দরে কেনা হয়েছে, যেখানে একই ধরনের পিকআপ আগে ৪৭ লাখ টাকায় কেনা হয়েছিল। ১২৮টি ফটোকপি মেশিন কেনায় ৩ কোটি ১০ লাখ ৯৭ হাজার টাকা, এবং মোটরসাইকেল, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও আসবাবপত্র কেনাকাটায় ৩৭ কোটি ১৬ লাখ ১৬ হাজার টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া মহাখালীর বনভবন সংস্কারে ৮ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ের বিপরীতে কাজের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চট্টগ্রাম, গাজীপুর ও যশোরে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি টিস্যু কালচার ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হলেও প্রত্যাশিত চারা উৎপাদন হচ্ছে না। একইসঙ্গে জাতীয় বন জরিপে ১৭ কোটি, নন-ডেট্রিমেন্টাল ফাইন্ডিংস কার্যক্রমে ৪ কোটি, সহায়তাপ্রাপ্ত প্রাকৃতিক পুনর্জন্ম (এএনআর) পদ্ধতিতে ১৬ কোটি ৩৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা এবং সমৃদ্ধকরণ ও অ-কাঠ বনজ পণ্যভিত্তিক বাগান তৈরিতে ৬৩ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, তৎকালীন বনমন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের পরিবারের সদস্য, প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরী এবং তৎকালীন প্রকল্প পরিচালক ড. গোবিন্দ রায়ের সমন্বয়ে একটি সিন্ডিকেট ১৫ শতাংশ কমিশন বাণিজ্যে লিপ্ত ছিল। দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বন অধিদপ্তরে অভিযান চালিয়ে নথি সংগ্রহ করে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের আগস্টে আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত শুরু হয় এবং ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনেও বনায়ন ও আর্থিক অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।