লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপজেলায় এনসিডি কর্নারে ওষুধ সংকট, বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি

বিশ্ব হৃদরোগ দিবসে হৃদরোগের ঝুঁকি ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। উচ্চরক্তচাপ হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলেও দেশের উপজেলা পর্যায়ে চালু করা নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) কর্নারগুলোতে ওষুধের বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ উপজেলায় মজুত ওষুধ এক থেকে দুই মাসের বেশি চলার মতো নয়। কোথাও কোথাও রোগীদের এক মাসের ওষুধের পরিবর্তে মাত্র ১০ দিনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়মিত ওষুধনির্ভর দরিদ্র রোগীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ডা. শামিম যোবায়ের জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোর এমএসআর ফান্ডের পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত। এই সামান্য অর্থ দিয়ে ইনডোর রোগীদের সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এনসিডি কর্নারের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ওষুধের এই সরবরাহ ঘাটতি দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসায় চরম বাধা সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশ্বে প্রতিবছর হৃদরোগে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ অকাল মারা যান। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৩৪ শতাংশের কারণ হৃদরোগ। ২০২৪ সালে হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় দেশে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার ৫২ শতাংশের জন্য উচ্চরক্তচাপ দায়ী। এছাড়া 'বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে-২০১৮' অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সি জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ শতাংশ উচ্চরক্তচাপে ভুগছে, যা কর্মক্ষম তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগের সেবার বড় অংশ এখনো ঢাকাকেন্দ্রিক। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী জানান, দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার আইসিইউ বেড থাকলেও তার অধিকাংশ রাজধানীতেই অবস্থিত। হৃদরোগের চিকিৎসা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে বিভাগীয় পর্যায়ে সেবার মান উন্নত করা জরুরি।

প্রজ্ঞা আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের অভাবের কথা তুলে ধরেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ৫ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এই বর্ধিত বরাদ্দের একটি বড় অংশ উচ্চরক্তচাপের ওষুধে ব্যয় করা হলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

হৃদরোগ প্রতিরোধে নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান বর্জন, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে দেড় কোটির বেশি মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত এবং প্রতি তিনজন মৃত্যুর একজন হৃদরোগে মারা যাচ্ছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বিশেষ সহায়তা দেবে সরকার: ড. তিতুমীর

উপজেলায় এনসিডি কর্নারে ওষুধ সংকট, বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০৭:১৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব হৃদরোগ দিবসে হৃদরোগের ঝুঁকি ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগের চিত্র উঠে এসেছে। উচ্চরক্তচাপ হৃদরোগের অন্যতম প্রধান কারণ হলেও দেশের উপজেলা পর্যায়ে চালু করা নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ (এনসিডি) কর্নারগুলোতে ওষুধের বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে অধিকাংশ উপজেলায় মজুত ওষুধ এক থেকে দুই মাসের বেশি চলার মতো নয়। কোথাও কোথাও রোগীদের এক মাসের ওষুধের পরিবর্তে মাত্র ১০ দিনের ওষুধ দেওয়া হচ্ছে, যা নিয়মিত ওষুধনির্ভর দরিদ্র রোগীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে।

ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের ডেপুটি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ডা. শামিম যোবায়ের জানিয়েছেন, হাসপাতালগুলোর এমএসআর ফান্ডের পরিমাণ অত্যন্ত সীমিত। এই সামান্য অর্থ দিয়ে ইনডোর রোগীদের সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এনসিডি কর্নারের জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। ওষুধের এই সরবরাহ ঘাটতি দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসায় চরম বাধা সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিশ্বে প্রতিবছর হৃদরোগে প্রায় ৬৫ লাখ মানুষ অকাল মারা যান। বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর ৩৪ শতাংশের কারণ হৃদরোগ। ২০২৪ সালে হৃদরোগজনিত অসুস্থতায় দেশে ২ লাখ ৮৩ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে, যার ৫২ শতাংশের জন্য উচ্চরক্তচাপ দায়ী। এছাড়া 'বাংলাদেশ এনসিডি স্টেপস সার্ভে-২০১৮' অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৩৯ বছর বয়সি জনগোষ্ঠীর প্রায় ১২ শতাংশ উচ্চরক্তচাপে ভুগছে, যা কর্মক্ষম তরুণ প্রজন্মের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি।

চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদরোগের সেবার বড় অংশ এখনো ঢাকাকেন্দ্রিক। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক ডা. খন্দকার আব্দুল আউয়াল রিজভী জানান, দেশে সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় তিন হাজার আইসিইউ বেড থাকলেও তার অধিকাংশ রাজধানীতেই অবস্থিত। হৃদরোগের চিকিৎসা সারা দেশে ছড়িয়ে দিতে বিভাগীয় পর্যায়ে সেবার মান উন্নত করা জরুরি।

প্রজ্ঞা আয়োজিত এক ওয়েবিনারে বিশেষজ্ঞরা উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগের অভাবের কথা তুলে ধরেন। ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, চলতি বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ৫ দশমিক ৩ শতাংশ থেকে ৭ দশমিক ৪ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এই বর্ধিত বরাদ্দের একটি বড় অংশ উচ্চরক্তচাপের ওষুধে ব্যয় করা হলে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

হৃদরোগ প্রতিরোধে নিয়মিত শরীরচর্চা, ধূমপান বর্জন, লবণ ও চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে দেড় কোটির বেশি মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত এবং প্রতি তিনজন মৃত্যুর একজন হৃদরোগে মারা যাচ্ছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।