লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৩২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবজাতকের অন্ধত্ব রোধে আরওপি স্ক্রিনিং ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব

অপরিণত নবজাতকদের অন্ধত্ব কমাতে 'রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচিউরিটি' বা আরওপি (ROP) সম্পর্কে স্বাস্থ্যসেবা কর্মী এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা জানান, নবজাতকদের সময়মতো স্ক্রিনিং ও চিকিৎসার মাধ্যমে এই অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব। বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের সহযোগিতায় অরবিস ইন্টারন্যাশনাল এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির নিওনাটোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান এবং আরওপি ও রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডা. তারিক রেজা আলী পৃথক দুটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। অধ্যাপক আব্দুল মান্নান জানান, ৩৫ সপ্তাহের কম গর্ভাবস্থায় থাকা এবং দুই কেজির কম ওজনের শিশুদের আরওপি-তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তিনি বলেন, জন্মের ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অপরিণত শিশুদের চোখ পরীক্ষা না করালে এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে তারা স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে। তিনি এনআইসিইউ-তে কর্মরত স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের এ বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং অভিভাবকদের সঠিক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৬ লাখ শিশু অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয় এবং স্ক্রিনিং করা শিশুদের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে আরওপি শনাক্ত হয়। ডা. তারিক রেজা আলী জানান, অপরিণত শিশুদের বেঁচে থাকার হার বাড়ার সাথে সাথে আরওপি-র প্রকোপও বেড়েছে। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ক্রিনিং ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন।

অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ বলেন, নবজাতকদের বাবা-মাকে আরওপি পরীক্ষা সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি নিওনাটোলজিস্ট, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, নার্স ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেমিনারে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের নিওনাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. খালেদ নূর স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের সভাপতি ডা. বেগম শরিফুন নাহার এবং বিআরবি হাসপাতালের ডা. নাজমুন নাহার সেমিনারে অংশ নেন ও বক্তব্য রাখেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সেমিনারে

অপরিণত নবজাতকদের অভিভাবকদের সঠিকভাবে পরামর্শ দিতে নিওনাটোলজিস্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদেরকে বোঝাতে হবে যে, জন্মের ২০-৩০ দিনের মধ্যে আরওপি স্ক্রিনিংয়ের জন্য শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে না নিলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আসাম থেকে জলপথে ঢাকায় আসছে ১০৮০ টন মিথানল

নবজাতকের অন্ধত্ব রোধে আরওপি স্ক্রিনিং ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০১:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপরিণত নবজাতকদের অন্ধত্ব কমাতে 'রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যাচিউরিটি' বা আরওপি (ROP) সম্পর্কে স্বাস্থ্যসেবা কর্মী এবং অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। সোমবার রাজধানীতে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে বক্তারা জানান, নবজাতকদের সময়মতো স্ক্রিনিং ও চিকিৎসার মাধ্যমে এই অন্ধত্ব প্রতিরোধ করা সম্ভব। বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি এবং বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের সহযোগিতায় অরবিস ইন্টারন্যাশনাল এই সেমিনারের আয়োজন করে।

সেমিনারে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির নিওনাটোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. মো. আব্দুল মান্নান এবং আরওপি ও রেটিনা বিশেষজ্ঞ ডা. তারিক রেজা আলী পৃথক দুটি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করেন। অধ্যাপক আব্দুল মান্নান জানান, ৩৫ সপ্তাহের কম গর্ভাবস্থায় থাকা এবং দুই কেজির কম ওজনের শিশুদের আরওপি-তে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তিনি বলেন, জন্মের ২০ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে অপরিণত শিশুদের চোখ পরীক্ষা না করালে এবং সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে তারা স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে। তিনি এনআইসিইউ-তে কর্মরত স্বাস্থ্যসেবা কর্মীদের এ বিষয়ে জ্ঞান বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং অভিভাবকদের সঠিক পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৬ লাখ শিশু অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয় এবং স্ক্রিনিং করা শিশুদের মধ্যে ২০ থেকে ৩০ শতাংশের ক্ষেত্রে আরওপি শনাক্ত হয়। ডা. তারিক রেজা আলী জানান, অপরিণত শিশুদের বেঁচে থাকার হার বাড়ার সাথে সাথে আরওপি-র প্রকোপও বেড়েছে। তাই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্ক্রিনিং ও ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে জোরালো উদ্যোগ প্রয়োজন।

অরবিস ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. মুনির আহমেদ বলেন, নবজাতকদের বাবা-মাকে আরওপি পরীক্ষা সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। তিনি নিওনাটোলজিস্ট, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, নার্স ও অভিভাবকদের মধ্যে সমন্বিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সেমিনারে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের নিওনাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. খালেদ নূর স্বাগত বক্তব্য রাখেন। এছাড়া বাংলাদেশ নিওনেটাল ফোরামের সভাপতি ডা. বেগম শরিফুন নাহার এবং বিআরবি হাসপাতালের ডা. নাজমুন নাহার সেমিনারে অংশ নেন ও বক্তব্য রাখেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে অনুষ্ঠিত সেমিনারে

অপরিণত নবজাতকদের অভিভাবকদের সঠিকভাবে পরামর্শ দিতে নিওনাটোলজিস্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তাদেরকে বোঝাতে হবে যে, জন্মের ২০-৩০ দিনের মধ্যে আরওপি স্ক্রিনিংয়ের জন্য শিশুকে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে না নিলে স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে।