লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‎স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে সকালে রেললাইনে স্ত্রী মৃত্যু।

‎স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে সকালে রেললাইনে স্ত্রী মৃত্যু।
‎
‎পঞ্চগড়:জেলা প্রতিনিধি, মোঃ শোহানুর রহমান শাহিন।

‎স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর রেললাইনে পাওয়া গেল স্ত্রীর মরদেহ। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তিনি রেললাইনে গিয়ে শুয়ে পড়েছিলেন। পরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়। স্বজনেরা বলছেন, স্বামীর প্রতি তার গভীর ভালোবাসা থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
‎ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের জেলার আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে। নিহত দম্পতি হলেন ওই গ্রামের হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) ও তার স্ত্রী নিত্য বালা বর্মণ (৭৫)। হরেন্দ্রনাথ বর্মন বাড়ির পাশের একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। তার সঙ্গে স্ত্রীও নিয়মিত পূজার কাজে যুক্ত ছিলেন।
‎মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজেদের ফসলি জমিতে তৈরি করা শ্মশানে পাশাপাশি চিতায় তাদের দেহ পুরানো । মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া তৈরি হয়েছে।
‎পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার রাত নয়টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ বর্মণ। স্বামীর মৃত্যুর পর রাতভর তার মরদেহের পাশে বসে কান্নায় ভেঙ্গ পরেন নিত্য বালা। বাড়িতে তখন আত্মীয়স্বজনের ভিড় ছিল।
‎
‎পরিবারের ভাষ্য, মঙ্গলবার ভোরে কোনো একসময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান নিত্য বালা। দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে সকালে কয়েকজন আত্মীয় রেললাইন দিয়ে হাঁটার সময় রেললাইনে তার মরদেহ দেখতে পান। ধারণা করা হচ্ছে, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের নিচে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়।
‎
‎নিত্য বালার ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, আমার বাবা অনেক দিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। গতকাল সোমবার রাত নয়টার দিকে তিনি মারা যান। আমার মা বাবাকে অনেক ভালোবাসতেন। তিনি সারারাত বাবার পাশে বসে কান্না করেছেন। বাসা ভর্তি আত্মীয়স্বজন ছিল।
‎তিনি বলেন, সকালে মা বাড়ির বাইরে বের হন। পরে অনেকক্ষণ তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আত্মীয়স্বজনেরা সকালে ব্রাশ করার জন্য রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। তখন তারা লাইনে একজনকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখতে পান। কাছে গিয়ে দেখা যায়, আমার মা মারা গেছেন। পরে আমরা তার মরদেহ বাসায় নিয়ে আসি।

‎প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, তারা দুজনই আমার কাকা-কাকী। ছোটবেলা থেকে দেখেছি, কাকী কাকাকে অনেক ভালোবাসতেন। কাকা মারা যাওয়ার পর তার শোক সইতে না পেরে কাকীও চলে গেলেন।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

কয়রার নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক

‎স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে সকালে রেললাইনে স্ত্রী মৃত্যু।

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‎স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে সকালে রেললাইনে স্ত্রী মৃত্যু।
‎
‎পঞ্চগড়:জেলা প্রতিনিধি, মোঃ শোহানুর রহমান শাহিন।

‎স্বামীর মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর রেললাইনে পাওয়া গেল স্ত্রীর মরদেহ। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে তিনি রেললাইনে গিয়ে শুয়ে পড়েছিলেন। পরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়। স্বজনেরা বলছেন, স্বামীর প্রতি তার গভীর ভালোবাসা থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
‎ঘটনাটি ঘটেছে পঞ্চগড়ের জেলার আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের মালিগাঁও গ্রামে। নিহত দম্পতি হলেন ওই গ্রামের হরেন্দ্রনাথ বর্মণ (৮০) ও তার স্ত্রী নিত্য বালা বর্মণ (৭৫)। হরেন্দ্রনাথ বর্মন বাড়ির পাশের একটি মন্দিরের পূজারি ছিলেন। তার সঙ্গে স্ত্রীও নিয়মিত পূজার কাজে যুক্ত ছিলেন।
‎মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে নিজেদের ফসলি জমিতে তৈরি করা শ্মশানে পাশাপাশি চিতায় তাদের দেহ পুরানো । মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামী-স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া তৈরি হয়েছে।
‎পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোমবার রাত নয়টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে নিজ বাড়িতে মারা যান হরেন্দ্রনাথ বর্মণ। স্বামীর মৃত্যুর পর রাতভর তার মরদেহের পাশে বসে কান্নায় ভেঙ্গ পরেন নিত্য বালা। বাড়িতে তখন আত্মীয়স্বজনের ভিড় ছিল।
‎
‎পরিবারের ভাষ্য, মঙ্গলবার ভোরে কোনো একসময় বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান নিত্য বালা। দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরে সকালে কয়েকজন আত্মীয় রেললাইন দিয়ে হাঁটার সময় রেললাইনে তার মরদেহ দেখতে পান। ধারণা করা হচ্ছে, রাজশাহী থেকে পঞ্চগড়গামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেসের নিচে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়।
‎
‎নিত্য বালার ছেলে রবীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, আমার বাবা অনেক দিন ধরে বার্ধক্যজনিত কারণে অসুস্থ ছিলেন। গতকাল সোমবার রাত নয়টার দিকে তিনি মারা যান। আমার মা বাবাকে অনেক ভালোবাসতেন। তিনি সারারাত বাবার পাশে বসে কান্না করেছেন। বাসা ভর্তি আত্মীয়স্বজন ছিল।
‎তিনি বলেন, সকালে মা বাড়ির বাইরে বের হন। পরে অনেকক্ষণ তাঁকে পাওয়া যাচ্ছিল না। আত্মীয়স্বজনেরা সকালে ব্রাশ করার জন্য রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। তখন তারা লাইনে একজনকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় দেখতে পান। কাছে গিয়ে দেখা যায়, আমার মা মারা গেছেন। পরে আমরা তার মরদেহ বাসায় নিয়ে আসি।

‎প্রতিবেশী যতীন চন্দ্র বর্মণ বলেন, তারা দুজনই আমার কাকা-কাকী। ছোটবেলা থেকে দেখেছি, কাকী কাকাকে অনেক ভালোবাসতেন। কাকা মারা যাওয়ার পর তার শোক সইতে না পেরে কাকীও চলে গেলেন।