লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হামলা-ভাঙচুর ও দখলের ঘটনায় বিব্রত সরকার, বাড়ছে উদ্বেগ

দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক হামলা, ভাঙচুর, দখল ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জনমনে গভীর অস্বস্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার কয়েকটিতে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় খোদ সরকার ও রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা চলছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে সরকারের পক্ষ থেকে এসব ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ ও বিব্রত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান। মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির নাম জড়ানো এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ভাড়াটে হিসেবে পাঠানোর পেছনে দলটির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে, তাঁর স্থাপনা ভাঙা হলে বা তিনি হামলার শিকার হলে সরকার প্রতিটি ঘটনায় দুঃখিত ও বিব্রত। তিনি আরও বলেন, “কারণ, এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের ছিল, বিব্রত এই অর্থে।”

সাম্প্রতিক এসব ঘটনা নিয়ে সরকার ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্যেও চরম উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ এবং বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি সরকারের জন্য বাড়তি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিজ দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টিও এখন সামনে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’ গুঁড়িয়ে দেওয়া ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এই সমালোচনার মধ্যেই শনিবার মধ্যরাতে ইসিবি এলাকায় নিউগিনি প্রোপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা চালিয়ে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া শনিবার ভোরে আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে একটি বহুতল ভবন দখলের চেষ্টা এবং একই দিন মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে একটি প্লটে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায়ও স্থানীয় সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, যা সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

গত সোমবার রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বিপুলসংখ্যক মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চালানোর পরও জড়িতদের শনাক্ত করতে না পারাকে ‘রহস্যজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অবশ্য আগে থেকেই সতর্ক করে আসছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দলের সংসদীয় দল ও অভ্যন্তরীণ একাধিক সভায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “সতর্ক না হলে কারও মুখ দেখা হবে না।” তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সতর্কবার্তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গত রোববার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। অপরাধী সে অপরাধীই।”

সাম্প্রতিক এসব ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন জাতীয় অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর গুম, খুন, জেল ও নির্যাতনের মতো চরম বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ঐক্যবদ্ধ থেকে বিএনপি একটি সুসময়ের জন্য লড়াই করেছে। এখন দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নেতা-কর্মীদের মধ্যে একধরনের আইন না মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বড় সমস্যা তৈরি করছে। এসব নেতা-কর্মীকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা ও নিবৃত্ত করা দলেরই দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।

ফার্নেস অয়েলের দাম বাড়লো প্রতি লিটারে প্রায় ১২ টাকা

হামলা-ভাঙচুর ও দখলের ঘটনায় বিব্রত সরকার, বাড়ছে উদ্বেগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩২:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক হামলা, ভাঙচুর, দখল ও ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জনমনে গভীর অস্বস্তি ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এসব ঘটনার কয়েকটিতে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় খোদ সরকার ও রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোচনা চলছে। নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে সরকারের পক্ষ থেকে এসব ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ ও বিব্রত হওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরকারের এই অবস্থানের কথা জানান। মিরপুরের রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় বিএনপির নাম জড়ানো এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ভাড়াটে হিসেবে পাঠানোর পেছনে দলটির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, কোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন হলে, তাঁর স্থাপনা ভাঙা হলে বা তিনি হামলার শিকার হলে সরকার প্রতিটি ঘটনায় দুঃখিত ও বিব্রত। তিনি আরও বলেন, “কারণ, এই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারের ছিল, বিব্রত এই অর্থে।”

সাম্প্রতিক এসব ঘটনা নিয়ে সরকার ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের মধ্যেও চরম উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে জনমনে অসন্তোষ এবং বিরোধী দলগুলোর ধারাবাহিক কর্মসূচির মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন অবনতি সরকারের জন্য বাড়তি চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিজ দলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণে রাখার বিষয়টিও এখন সামনে এসেছে।

গত বৃহস্পতিবার রাতে জায়গা দখলের উদ্দেশ্যে রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’ গুঁড়িয়ে দেওয়া ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়। এই সমালোচনার মধ্যেই শনিবার মধ্যরাতে ইসিবি এলাকায় নিউগিনি প্রোপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা চালিয়ে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া শনিবার ভোরে আদাবরের শ্যামলী হাউজিংয়ে একটি বহুতল ভবন দখলের চেষ্টা এবং একই দিন মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যানে একটি প্লটে ঢুকে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায়ও স্থানীয় সরকারি দলের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, যা সরকারের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

গত সোমবার রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বিপুলসংখ্যক মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে হামলা চালানোর পরও জড়িতদের শনাক্ত করতে না পারাকে ‘রহস্যজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিএনপির মাঠপর্যায়ের নেতা-কর্মীদের অবশ্য আগে থেকেই সতর্ক করে আসছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দলের সংসদীয় দল ও অভ্যন্তরীণ একাধিক সভায় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “সতর্ক না হলে কারও মুখ দেখা হবে না।” তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো সেই সতর্কবার্তার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গত রোববার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আবারও কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “অপরাধীর কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। অপরাধী সে অপরাধীই।”

সাম্প্রতিক এসব ঘটনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন জাতীয় অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মাহবুব উল্লাহ। তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর গুম, খুন, জেল ও নির্যাতনের মতো চরম বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা করে ঐক্যবদ্ধ থেকে বিএনপি একটি সুসময়ের জন্য লড়াই করেছে। এখন দল রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় তাদের দায়িত্ব অনেক বেশি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে নেতা-কর্মীদের মধ্যে একধরনের আইন না মানার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা বড় সমস্যা তৈরি করছে। এসব নেতা-কর্মীকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা ও নিবৃত্ত করা দলেরই দায়িত্ব বলে মনে করেন তিনি।