লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান হুমায়ুন কবিরের

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত পৃথক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকে দ্রুত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর, কোরিয়া থেকে বৃহত্তর বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশিদের জন্য বর্ধিত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, সিউল সফরকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। প্রথম উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে বৈঠককালে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং-এর জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন। এতে সুবিধাজনক সময়ে তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে আলোচনায় হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করতে কোরিয়া সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ-কোরিয়া কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সইয়ের অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি এটি দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য কোরিয়ার বাজারে আরও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান। প্রতিমন্ত্রী সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হাই-এন্ড তৈরি পোশাক এবং আইসিটির মতো প্রযুক্তি-নির্ভর খাতে কোরিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি কৃষি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও সেবা খাতে বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগের কথা তুলে ধরেন。

এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় দক্ষ ও অর্ধদক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানোর জন্য কোরিয়া সরকারের সহযোগিতা চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। কোরিয়ার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশটির উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। এছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা, অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কোরিয়ার উন্নয়ন অংশীদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এসব খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বৈঠকে নিয়মিত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক (এফওসি) এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা দেওয়ায় কোরিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে মিয়ানমারে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনে দেশটির অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। বৈঠকে উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে মতবিনিময় করে এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে।

অন্যদিকে, কোরিয়ার প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে মূলত প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যদের প্রশিক্ষণে কোরিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করে হুমায়ুন কবির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানান। পাশাপাশি কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদেরও বাংলাদেশের বিশেষায়িত কোর্সে অংশ নিতে আসার আমন্ত্রণ জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কোরিয়ার প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রীকে জানান যে, বাংলাদেশ একটি নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এই খাতে প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতা এগিয়ে নিতে তিনি কোরিয়ার বিনিয়োগকারীদের সুযোগ অন্বেষণের আহ্বান জানান। কোরিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করার এই আগ্রহকে স্বাগত জানানো হয়। তারা প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শান্তিরক্ষী কার্যক্রমসহ পারস্পরিক সম্মত ক্ষেত্রগুলোতে বৃহত্তর সহযোগিতার পথ খুঁজতে প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করে।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকার সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গুরুত্বারোপ

কোরিয়ার সঙ্গে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদারের আহ্বান হুমায়ুন কবিরের

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১০:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে অনুষ্ঠিত পৃথক মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান। বৈঠকে দ্রুত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সিইপিএ) স্বাক্ষর, কোরিয়া থেকে বৃহত্তর বিনিয়োগ এবং বাংলাদেশিদের জন্য বর্ধিত প্রশিক্ষণের সুযোগ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে জানা গেছে, সিউল সফরকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির দক্ষিণ কোরিয়ার প্রথম উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জু এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। প্রথম উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে বৈঠককালে প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং-এর জন্য একটি আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করেন। এতে সুবিধাজনক সময়ে তাকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

পার্ক ইউন-জুর সঙ্গে আলোচনায় হুমায়ুন কবির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও গভীর করতে কোরিয়া সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ-কোরিয়া কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ এগ্রিমেন্ট (সিইপিএ) সইয়ের অগ্রগতির প্রশংসা করে তিনি এটি দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ দেন। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশি পণ্যের জন্য কোরিয়ার বাজারে আরও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার অনুরোধ জানান। প্রতিমন্ত্রী সেমিকন্ডাক্টর, ইলেকট্রনিক্স, জাহাজ নির্মাণ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হাই-এন্ড তৈরি পোশাক এবং আইসিটির মতো প্রযুক্তি-নির্ভর খাতে কোরিয়ার বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি কৃষি, কৃষি-প্রক্রিয়াজাতকরণ, লজিস্টিকস, ডিজিটাল রূপান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন ও সেবা খাতে বিদ্যমান বিভিন্ন সুযোগের কথা তুলে ধরেন。

এমপ্লয়মেন্ট পারমিট সিস্টেমের (ইপিএস) আওতায় দক্ষ ও অর্ধদক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ানোর জন্য কোরিয়া সরকারের সহযোগিতা চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। কোরিয়ার বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত নেতৃত্বের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশটির উন্নয়নের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। এছাড়া জলবায়ু সহনশীলতা, অবকাঠামো, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং ডিজিটাল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে কোরিয়ার উন্নয়ন অংশীদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং এসব খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

বৈঠকে নিয়মিত পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠক (এফওসি) এবং অন্যান্য উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রতি বাংলাদেশের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। রোহিঙ্গাদের জন্য মানবিক সহায়তা দেওয়ায় কোরিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়ে মিয়ানমারে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনে দেশটির অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি। বৈঠকে উভয় পক্ষ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে মতবিনিময় করে এবং বহুপক্ষীয় ফোরামে পারস্পরিক সহযোগিতার গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে।

অন্যদিকে, কোরিয়ার প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রী লি ডু-হির সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা হয়। এতে মূলত প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী কার্যক্রম এবং প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া হয়। বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও সিভিল ডিফেন্স সদস্যদের প্রশিক্ষণে কোরিয়ার সহযোগিতার প্রশংসা করে হুমায়ুন কবির বিশেষায়িত প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানান। পাশাপাশি কোরিয়ার সামরিক কর্মকর্তাদেরও বাংলাদেশের বিশেষায়িত কোর্সে অংশ নিতে আসার আমন্ত্রণ জানান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কোরিয়ার প্রতিরক্ষা উপমন্ত্রীকে জানান যে, বাংলাদেশ একটি নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠার প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। এই খাতে প্রযুক্তি ও শিল্প সহযোগিতা এগিয়ে নিতে তিনি কোরিয়ার বিনিয়োগকারীদের সুযোগ অন্বেষণের আহ্বান জানান। কোরিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করার এই আগ্রহকে স্বাগত জানানো হয়। তারা প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও শান্তিরক্ষী কার্যক্রমসহ পারস্পরিক সম্মত ক্ষেত্রগুলোতে বৃহত্তর সহযোগিতার পথ খুঁজতে প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করে।