লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবিধান সংস্কার এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক ঐকমত্যের তাগিদ ইইউ রাষ্ট্রদূতের

চব্বিশ-উত্তর বাংলাদেশে শুরু হওয়া সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কাজটিকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে দেশের রাজনীতিতে একটি বৃহত্তর ঐকমত্য গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত 'বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬'-এর দ্বিতীয় দিনের কর্মঅধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে তার উন্নয়ন যাত্রার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে যেমন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া চলছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক রূপান্তর, জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুজ্জীবন, অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এবং জটিল বৈদেশিক পরিবেশ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব বাহ্যিক চাপ সামলাতে হলে বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি, স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অনুমানযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। এ অবস্থায় সংবিধান সংস্কারের যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হলেও এখনও শেষ হয়নি, তা এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক ঐকমত্যের উদ্যোগ নেওয়া আবশ্যক।

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ইইউ এখন আর বাংলাদেশকে কেবল দাতা ও গ্রহীতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে না, বরং ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। এলডিসি থেকে বাংলাদেশের মসৃণ ও সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ইইউ কাজ করতে আগ্রহী। এছাড়া, ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণ সম্পন্ন করেনি এমন কোনো দেশের সঙ্গে এ ধরনের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসে এটাই প্রথম। বাংলাদেশ যে গতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রদর্শন করবে, ইইউ-ও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছে।

একটি ভারসাম্যপূর্ণ, পারস্পরিক ও উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক চুক্তি নিশ্চিত করতে প্রথমে পর্যাপ্ত অভিন্ন ভিত্তি চিহ্নিত করার ওপর জোর দেন মাইকেল মিলার। এ ক্ষেত্রে ইইউর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, শ্রম অধিকার ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান, সুশাসন এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত মিলার আরও বলেন, দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং তরুণদের জন্য অর্থপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও তদারকি ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ সুরক্ষিত রাখা এবং তথ্য ও উপাত্তের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগের বিশেষত্ব হলো এর সঙ্গে মূল্যবোধের সমন্বয়। প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির মাধ্যমে ইইউ বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায়। এ প্রসঙ্গে তিনি চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং গ্রিন বন্ডের উদাহরণ তুলে ধরেন। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, উন্মুক্ত, সার্বভৌম, স্থিতিস্থাপক ও সংযুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ইইউর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর অভিযানে ৭ শতাধিক হুথি যোদ্ধা নিহত

সংবিধান সংস্কার এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক ঐকমত্যের তাগিদ ইইউ রাষ্ট্রদূতের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

চব্বিশ-উত্তর বাংলাদেশে শুরু হওয়া সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কাজটিকে সফলভাবে এগিয়ে নিতে দেশের রাজনীতিতে একটি বৃহত্তর ঐকমত্য গড়ে তোলার তাগিদ দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। রবিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত 'বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬'-এর দ্বিতীয় দিনের কর্মঅধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এই মন্তব্য করেন। তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস)।

রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে তার উন্নয়ন যাত্রার এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে যেমন স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া চলছে, অন্যদিকে রাজনৈতিক রূপান্তর, জবাবদিহিতামূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুজ্জীবন, অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি এবং জটিল বৈদেশিক পরিবেশ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব বাহ্যিক চাপ সামলাতে হলে বাংলাদেশের জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি, স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অনুমানযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া অত্যন্ত জরুরি। এ অবস্থায় সংবিধান সংস্কারের যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হলেও এখনও শেষ হয়নি, তা এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক ঐকমত্যের উদ্যোগ নেওয়া আবশ্যক।

বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, ইইউ এখন আর বাংলাদেশকে কেবল দাতা ও গ্রহীতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে না, বরং ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। এলডিসি থেকে বাংলাদেশের মসৃণ ও সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে ইইউ কাজ করতে আগ্রহী। এছাড়া, ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। এলডিসি থেকে উত্তরণ সম্পন্ন করেনি এমন কোনো দেশের সঙ্গে এ ধরনের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির প্রস্তাব দেওয়ার ঘটনা ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসে এটাই প্রথম। বাংলাদেশ যে গতি ও উচ্চাকাঙ্ক্ষা প্রদর্শন করবে, ইইউ-ও তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে প্রস্তুত রয়েছে।

একটি ভারসাম্যপূর্ণ, পারস্পরিক ও উভয় পক্ষের জন্য লাভজনক চুক্তি নিশ্চিত করতে প্রথমে পর্যাপ্ত অভিন্ন ভিত্তি চিহ্নিত করার ওপর জোর দেন মাইকেল মিলার। এ ক্ষেত্রে ইইউর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য জবাবদিহিতামূলক প্রতিষ্ঠান, আইনের শাসন, শ্রম অধিকার ও মানবাধিকারের প্রতি সম্মান, সুশাসন এবং পরিবেশ সুরক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত মিলার আরও বলেন, দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে এবং তরুণদের জন্য অর্থপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ও তদারকি ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ সুরক্ষিত রাখা এবং তথ্য ও উপাত্তের স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে। বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগের বিশেষত্ব হলো এর সঙ্গে মূল্যবোধের সমন্বয়। প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, উদ্ভাবন এবং দীর্ঘমেয়াদি পুঁজির মাধ্যমে ইইউ বাংলাদেশকে সহযোগিতা করতে চায়। এ প্রসঙ্গে তিনি চট্টগ্রামের লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল এবং গ্রিন বন্ডের উদাহরণ তুলে ধরেন। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে বাংলাদেশকে একটি আধুনিক, উন্মুক্ত, সার্বভৌম, স্থিতিস্থাপক ও সংযুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ইইউর সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।