লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম চার বছরের শীর্ষে

সরবরাহ সংকট এবং পরিবহন অনিশ্চয়তার কারণে গত সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে চিনি, ভোজ্যতেল এবং কিছু নির্দিষ্ট খাদ্যশস্যের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক জানান, কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গমের দাম ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এছাড়া শস্যের দাম সামগ্রিকভাবে ৫ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ সংকট এবং হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তার কারণে ভুট্টার দামও তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দর গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম মাসভিত্তিক হিসেবে কিছুটা কমেছে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ২৯৮ কোটি টন, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শস্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ এবং বাণিজ্য পথে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা সার্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে উস্কে দিচ্ছে।

খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। জ্বালানি খরচ বাড়ার কারণে ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অঞ্চলে এক বছরে জ্বালানির দাম বেড়েছে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এছাড়া যুক্তরাজ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির উচ্চমূল্যে জনজীবন নাজেহাল। দেশটির জ্বালানি গবেষণা সংস্থার আশঙ্কা, ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে ব্রিটেনে জ্বালানির দাম ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, ফলে ব্রিটিশ পরিবারগুলোর বার্ষিক গড় জ্বালানি খরচ ১ হাজার ৭০০ পাউন্ড থেকে বেড়ে ২ হাজার পাউন্ডে দাঁড়াতে পারে। গ্রিস সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি ও করছাড়সহ চার বছরমেয়াদি সহায়তা প্যাকেজ চালু করলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করছেন ভোক্তারা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অকৃষি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। সেপ্টেম্বরে দেশটিতে মাত্র ২৯ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, যেখানে আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার। একই সঙ্গে বেকারত্বের হার বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগ গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষক নিয়োগের নির্দেশ দিলেন মন্ত্রী, ভিটেবাড়িহীন মিশন পেল সুখবর

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম চার বছরের শীর্ষে

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৩০:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

সরবরাহ সংকট এবং পরিবহন অনিশ্চয়তার কারণে গত সেপ্টেম্বরে বিশ্বব্যাপী খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর মধ্যে চিনি, ভোজ্যতেল এবং কিছু নির্দিষ্ট খাদ্যশস্যের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক জানান, কৃষ্ণ সাগরীয় অঞ্চলে সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় গমের দাম ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এছাড়া শস্যের দাম সামগ্রিকভাবে ৫ দশমিক ১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সরবরাহ সংকট এবং হরমুজ প্রণালিতে অনিশ্চয়তার কারণে ভুট্টার দামও তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে চিনির দর গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রেকর্ড করা হয়েছে। যদিও মাংস ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম মাসভিত্তিক হিসেবে কিছুটা কমেছে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী খাদ্যশস্য উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ২৯৮ কোটি টন, যা ২০২৫ সালের তুলনায় ২ দশমিক ১ শতাংশ কম। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এশিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শস্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধ এবং বাণিজ্য পথে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় আমদানিনির্ভর দেশগুলোতে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা সার্বিক মুদ্রাস্ফীতিকে উস্কে দিচ্ছে।

খাদ্যপণ্যের উচ্চমূল্যের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে। জ্বালানি খরচ বাড়ার কারণে ইউরোজোনের মুদ্রাস্ফীতি তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ প্রায় ৪ শতাংশে পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই অঞ্চলে এক বছরে জ্বালানির দাম বেড়েছে ১৮ দশমিক ৮ শতাংশ। এছাড়া যুক্তরাজ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় জ্বালানির উচ্চমূল্যে জনজীবন নাজেহাল। দেশটির জ্বালানি গবেষণা সংস্থার আশঙ্কা, ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে ব্রিটেনে জ্বালানির দাম ১৬ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে, ফলে ব্রিটিশ পরিবারগুলোর বার্ষিক গড় জ্বালানি খরচ ১ হাজার ৭০০ পাউন্ড থেকে বেড়ে ২ হাজার পাউন্ডে দাঁড়াতে পারে। গ্রিস সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি ও করছাড়সহ চার বছরমেয়াদি সহায়তা প্যাকেজ চালু করলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে দাবি করছেন ভোক্তারা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে অকৃষি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টির হার প্রত্যাশা অনুযায়ী হয়নি। সেপ্টেম্বরে দেশটিতে মাত্র ২৯ হাজার কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, যেখানে আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার। একই সঙ্গে বেকারত্বের হার বেড়ে ৪ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের উদ্বেগ গত ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে।