লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণ শুরু, মিলবে ৩ মাসের বকেয়া

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। বেতন নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীরা এককালীন প্রায় তিন মাসের বকেয়া বেতন তোলার সুযোগ পাবেন।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের এই বেতন নির্ধারণের কাজটি সম্পন্ন হবে সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++)-এর পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে। এজন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রবেশ করে নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি, গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে।

অনলাইনে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্বে কোনো পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড কিংবা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে সে সংক্রান্ত অফিস আদেশের নথিপত্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো চাকরিজীবীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে চাকরির নথিতে থাকা তথ্য হালনাগাদ করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। অনলাইনে তথ্য সাবমিট করার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই-বাছাই করবে এবং কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্ন করতে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা হিসাব কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় অনলাইন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে অর্থ বিভাগের এসপিএফএমএস কর্মসূচি।

দীর্ঘ ১১ বছর পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এই নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-৮ অর্থবছরের মধ্যে মোট তিনটি ধাপে এই নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে।

বেতন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের বিদ্যমান মূল বেতনকে ভিত্তি ধরা হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পার্থক্যের ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা পূর্ণাঙ্গ নতুন মূল বেতন পাবেন। চলতি অর্থবছরে এই বর্ধিত বেতন পরিশোধের জন্য সরকারের বাজেট থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতার অংশটি ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

নতুন বেতন আদেশে পদোন্নতিহীন সন্তোষজনক চাকরির আট বছর পূর্ণ হলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড এবং পরবর্তী ছয় বছর পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার নিয়ম রাখা হয়েছে। অতীতে একই পদে একাধিকবার টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড নেওয়া কর্মীদের নতুন কাঠামোয় সমন্বয় নিয়ে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছিল, যা বর্তমানে অর্থ বিভাগ সমাধান করছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অতীতে একই পদে একাধিক উচ্চতর সুবিধা পেয়ে থাকলে নতুন কাঠামোয় আর কোনো বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে না। তবে যারা একটি উচ্চতর স্কেল পেয়েছিলেন, তারা পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাবেন। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এসব তথ্য যাচাই করে সবার বকেয়া ও নতুন বেতনের চূড়ান্ত হিসাব নিষ্পত্তি করা হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমু, শাজাহান ও ফারুক খানের বিরুদ্ধে শিগগিরই ফরমাল চার্জ: প্রসিকিউটর

নতুন পে-স্কেলে বেতন নির্ধারণ শুরু, মিলবে ৩ মাসের বকেয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩৭:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের (পে ফিক্সেশন) আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হবে। বেতন নির্ধারণের কাজ চূড়ান্ত হওয়ার পর সরকারি চাকরিজীবীরা এককালীন প্রায় তিন মাসের বকেয়া বেতন তোলার সুযোগ পাবেন।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের এই বেতন নির্ধারণের কাজটি সম্পন্ন হবে সমন্বিত বাজেট ও হিসাবরক্ষণ পদ্ধতি ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++)-এর পে ফিক্সেশন মডিউলের মাধ্যমে। এজন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্দিষ্ট পোর্টালে প্রবেশ করে নিজেদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মতারিখ, বর্তমান পদবি, গ্রেড, চাকরিতে যোগদানের তারিখ এবং বর্তমান মূল বেতনের সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে।

অনলাইনে তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্বে কোনো পদোন্নতি, বদলি, টাইম স্কেল, সিলেকশন গ্রেড কিংবা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে সে সংক্রান্ত অফিস আদেশের নথিপত্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোনো চাকরিজীবীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে চাকরির নথিতে থাকা তথ্য হালনাগাদ করে আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। অনলাইনে তথ্য সাবমিট করার পর সংশ্লিষ্ট হিসাবরক্ষণ কার্যালয় তা যাচাই-বাছাই করবে এবং কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি নির্বিঘ্ন করতে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা হিসাব কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় অনলাইন প্রশিক্ষণ দিচ্ছে অর্থ বিভাগের এসপিএফএমএস কর্মসূচি।

দীর্ঘ ১১ বছর পর গত ১৯ সেপ্টেম্বর নতুন জাতীয় বেতনকাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এই নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ২০২৬-২৭ এবং ২০২৭-৮ অর্থবছরের মধ্যে মোট তিনটি ধাপে এই নতুন মূল বেতন কার্যকর করা হবে।

বেতন সমন্বয়ের ক্ষেত্রে গত ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের বিদ্যমান মূল বেতনকে ভিত্তি ধরা হবে। প্রথম ধাপে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নতুন ও পুরোনো মূল বেতনের পার্থক্যের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত পার্থক্যের ৭০ শতাংশ কার্যকর হবে। এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে সরকারি চাকরিজীবীরা পূর্ণাঙ্গ নতুন মূল বেতন পাবেন। চলতি অর্থবছরে এই বর্ধিত বেতন পরিশোধের জন্য সরকারের বাজেট থেকে ৩৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে নতুন কাঠামোর বিভিন্ন ভাতার অংশটি ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

নতুন বেতন আদেশে পদোন্নতিহীন সন্তোষজনক চাকরির আট বছর পূর্ণ হলে প্রথম উচ্চতর গ্রেড এবং পরবর্তী ছয় বছর পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার নিয়ম রাখা হয়েছে। অতীতে একই পদে একাধিকবার টাইম স্কেল বা সিলেকশন গ্রেড নেওয়া কর্মীদের নতুন কাঠামোয় সমন্বয় নিয়ে কিছু জটিলতা দেখা দিয়েছিল, যা বর্তমানে অর্থ বিভাগ সমাধান করছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অতীতে একই পদে একাধিক উচ্চতর সুবিধা পেয়ে থাকলে নতুন কাঠামোয় আর কোনো বাড়তি সুবিধা পাওয়া যাবে না। তবে যারা একটি উচ্চতর স্কেল পেয়েছিলেন, তারা পরবর্তী ছয় বছর পূর্ণ হওয়ার পর দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাবেন। আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে এসব তথ্য যাচাই করে সবার বকেয়া ও নতুন বেতনের চূড়ান্ত হিসাব নিষ্পত্তি করা হবে।