লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:০৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলপিজি সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট ও দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা

বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কয়েকটি অপারেটর বড় ধরনের মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শনিবার জ্বালানিমন্ত্রী এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে এলপিজি মজুতের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এনবিআর ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে চাহিদামতো এলপিজি আমদানি হওয়া সত্ত্বেও কেন সংকট তৈরি হয়েছে এবং কেন বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে—তা নিয়ে লোটাব নেতাদের কাছে জবাব চাওয়া হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে লোটাব নেতারা দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেশি হওয়ায় দেশের বাজারে দাম বাড়ালে পরিস্থিতির কিছুটা স্থিতিশীলতা আসতে পারে। বৈঠকের পর জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এদিকে আজ বিকালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অক্টোবরের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করবে। বৈঠকের একজন অংশগ্রহণকারী জানান, অপারেটররা আজ থেকে এক লাফে দাম বাড়ানোর পক্ষে, তবে তাদের চাহিদামতো দাম বিইআরসি বাড়াচ্ছে না বলে তারা অভিযোগ করেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট চলছে। ১ হাজার ৫৮৫ টাকার এলপিজি সিলিন্ডার বর্তমানে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে অনেক অপারেটর আগেভাগে এলপিজি মজুত করে রেখেছে অথবা ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বঙ্গোপসাগরের সীমার কাছে জাহাজ ভাসিয়ে রেখেছে।

মজুতের অভিযোগ অস্বীকার করে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, তারা এলপিজি মজুত করেননি এবং এনবিআরের রেকর্ডেও আগের তুলনায় আমদানির পরিমাণ কম দেখা যাচ্ছে। ওমেরা পেট্রোলিয়ামের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরীও মজুতের অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, দাম বাড়লে কোম্পানিগুলোর ক্ষতি, কারণ গ্রাহকরা তখন কম এলপিজি ব্যবহার করেন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রতি মাসে দেড় লাখ টনের বেশি এলপিজি ব্যবহৃত হয়, যার ৯৮ শতাংশ বেসরকারি কোম্পানিগুলো আমদানি করে। মাত্র চারটি কোম্পানি—ওমেরা পেট্রোলিয়াম, পেট্রোমেক্স, মেঘনা ও যমুনা স্পেসটেক—বাজারের ৬৮ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে। আগস্টে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপিজি আমদানি হলেও সেপ্টেম্বরেও একই পরিমাণ এলপিজি এসেছে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিইআরসি ১০-১২টি কোম্পানির কাছে সেপ্টেম্বরের দৈনিক বিক্রয়ের হিসাব চেয়েছে এবং আজকের মধ্যে তা জমা দিতে বলেছে। এদিকে জ্বালানি বিভাগ ও বিইআরসির সংগৃহীত নথিতে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে এলপিজি আমদানিতে টনে ১৮০ থেকে ২০০ ডলার প্রিমিয়াম খরচ হয়েছে এবং সৌদি আরামকো সিপি প্রাইসও বাড়িয়েছে, যা নিয়ে কমিশন কাজ করছে।

এলপিজি আমদানি সম্পর্কিত স্পর্শকাতর গোয়েন্দা প্রতিবেদন যুগান্তরের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায় বাজারের ৬৮ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ করে মাত্র চারটি কোম্পানি-ওমেরা পেট্রোলিয়াম, পেট্রোমেক্স, মেঘনা ও যমুনা স্পেসটেক। এরপর বিএম এনার্জি ৮ শতাংশ, ইউনাইটেড আয়গ্যাজ ৭ শতাংশ, ডেল্টা ৪ শতাংশ, জেএমআই ও প্রিমিয়াম এলপিজি ৩ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ করে। সবচেয়ে বেশি এলপিজি আমদানি করেছে ইউনাইটেড আইগ্যাজ। ২৩ হাজার ৫০০ টনের মতো এলপিজি আমদানি করে কোম্পানিটি। আগস্টে তারা আমদানি করেছিল ১২ হাজার টন। এরপর সবচেয়ে বেশি আমদানি করেছে যমুনা স্পেসটেক। ২১ হাজার টনের মতো। বিএম এনার্জি করেছে ১৮ হাজার ২৫২ টন। ওমেরা ১৪ হাজার ৫০০ টনের মতো। মেঘনা গ্রুপ ১৩ হাজার ৪০০ টনের মতো।

জনপ্রিয় সংবাদ

চলতি অর্থবছরেই ২০ জেলায় সমন্বিত অক্সিজেন প্রকল্প বাস্তবায়ন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

এলপিজি সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট ও দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

বাজারে এলপিজি সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে কয়েকটি অপারেটর বড় ধরনের মুনাফা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে বলে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শনিবার জ্বালানিমন্ত্রী এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোটাব) নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে এলপিজি মজুতের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। এনবিআর ও বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, দেশে চাহিদামতো এলপিজি আমদানি হওয়া সত্ত্বেও কেন সংকট তৈরি হয়েছে এবং কেন বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে—তা নিয়ে লোটাব নেতাদের কাছে জবাব চাওয়া হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে লোটাব নেতারা দাবি করেন, আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দাম বেশি হওয়ায় দেশের বাজারে দাম বাড়ালে পরিস্থিতির কিছুটা স্থিতিশীলতা আসতে পারে। বৈঠকের পর জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি। এদিকে আজ বিকালে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) অক্টোবরের জন্য এলপিজির নতুন দাম ঘোষণা করবে। বৈঠকের একজন অংশগ্রহণকারী জানান, অপারেটররা আজ থেকে এক লাফে দাম বাড়ানোর পক্ষে, তবে তাদের চাহিদামতো দাম বিইআরসি বাড়াচ্ছে না বলে তারা অভিযোগ করেন।

গত ২২ সেপ্টেম্বর থেকে বাজারে এলপিজির তীব্র সংকট চলছে। ১ হাজার ৫৮৫ টাকার এলপিজি সিলিন্ডার বর্তমানে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ ও জাহাজ ভাড়া বৃদ্ধির অজুহাতে অনেক অপারেটর আগেভাগে এলপিজি মজুত করে রেখেছে অথবা ৩০ সেপ্টেম্বরের আগে বঙ্গোপসাগরের সীমার কাছে জাহাজ ভাসিয়ে রেখেছে।

মজুতের অভিযোগ অস্বীকার করে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তফা কামাল জানান, তারা এলপিজি মজুত করেননি এবং এনবিআরের রেকর্ডেও আগের তুলনায় আমদানির পরিমাণ কম দেখা যাচ্ছে। ওমেরা পেট্রোলিয়ামের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরীও মজুতের অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তিনি বলেন, দাম বাড়লে কোম্পানিগুলোর ক্ষতি, কারণ গ্রাহকরা তখন কম এলপিজি ব্যবহার করেন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে প্রতি মাসে দেড় লাখ টনের বেশি এলপিজি ব্যবহৃত হয়, যার ৯৮ শতাংশ বেসরকারি কোম্পানিগুলো আমদানি করে। মাত্র চারটি কোম্পানি—ওমেরা পেট্রোলিয়াম, পেট্রোমেক্স, মেঘনা ও যমুনা স্পেসটেক—বাজারের ৬৮ শতাংশ সরবরাহ করে থাকে। আগস্টে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭৬০ টন এলপিজি আমদানি হলেও সেপ্টেম্বরেও একই পরিমাণ এলপিজি এসেছে। পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে বিইআরসি ১০-১২টি কোম্পানির কাছে সেপ্টেম্বরের দৈনিক বিক্রয়ের হিসাব চেয়েছে এবং আজকের মধ্যে তা জমা দিতে বলেছে। এদিকে জ্বালানি বিভাগ ও বিইআরসির সংগৃহীত নথিতে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বরে এলপিজি আমদানিতে টনে ১৮০ থেকে ২০০ ডলার প্রিমিয়াম খরচ হয়েছে এবং সৌদি আরামকো সিপি প্রাইসও বাড়িয়েছে, যা নিয়ে কমিশন কাজ করছে।

এলপিজি আমদানি সম্পর্কিত স্পর্শকাতর গোয়েন্দা প্রতিবেদন যুগান্তরের হাতে এসেছে। এতে দেখা যায় বাজারের ৬৮ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ করে মাত্র চারটি কোম্পানি-ওমেরা পেট্রোলিয়াম, পেট্রোমেক্স, মেঘনা ও যমুনা স্পেসটেক। এরপর বিএম এনার্জি ৮ শতাংশ, ইউনাইটেড আয়গ্যাজ ৭ শতাংশ, ডেল্টা ৪ শতাংশ, জেএমআই ও প্রিমিয়াম এলপিজি ৩ শতাংশ এলপিজি সরবরাহ করে। সবচেয়ে বেশি এলপিজি আমদানি করেছে ইউনাইটেড আইগ্যাজ। ২৩ হাজার ৫০০ টনের মতো এলপিজি আমদানি করে কোম্পানিটি। আগস্টে তারা আমদানি করেছিল ১২ হাজার টন। এরপর সবচেয়ে বেশি আমদানি করেছে যমুনা স্পেসটেক। ২১ হাজার টনের মতো। বিএম এনার্জি করেছে ১৮ হাজার ২৫২ টন। ওমেরা ১৪ হাজার ৫০০ টনের মতো। মেঘনা গ্রুপ ১৩ হাজার ৪০০ টনের মতো।