লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৭ কিশোর টঙ্গী কেন্দ্রে

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে ২৭ জন কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে মোট ৫০ জন কিশোরকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব কিশোরের দ্রুত জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জনকে টঙ্গী কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিরা জামিনে মুক্তি পেয়েছে। এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুইজন কিশোরকে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানায় পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের তথ্যমতে, শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত পাঁচ ধাপের অভিযানে সর্বমোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকা প্রদানের মাধ্যমে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬২৬ জনকে বিভিন্ন অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আদালতের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

এদিকে, চলমান এই অভিযানের ফলে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানান, কারাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় দেড় হাজার হলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বন্দী রয়েছে। গাদাগাদি করে থাকার ফলে বন্দীদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং কারা কর্তৃপক্ষকেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কারাগারের চারটি নতুন বহুতল ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা চালু হলে বন্দীদের থাকার সংকটের সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। নগরীর রানীর বাজার এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম দুলাল এই অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নগরীতে অপরাধের মাত্রা কমে আসে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনামূল্যে মালয়েশিয়া যাবে ১০ হাজার কর্মী: শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৭ কিশোর টঙ্গী কেন্দ্রে

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০০:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে ২৭ জন কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন সময়ে মোট ৫০ জন কিশোরকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, যেসব কিশোরের দ্রুত জামিন পাওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ জনকে টঙ্গী কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিরা জামিনে মুক্তি পেয়েছে। এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষিকা ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুইজন কিশোরকে টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছিল।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। এই প্রেক্ষাপটে গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানায় পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। জেলা পুলিশের মিডিয়া সেলের তথ্যমতে, শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত পাঁচ ধাপের অভিযানে সর্বমোট ২ হাজার ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃতদের মধ্যে ১ হাজার ৪০৯ জনকে মুচলেকা প্রদানের মাধ্যমে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬২৬ জনকে বিভিন্ন অপরাধে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে আদালতের মাধ্যমে শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।

এদিকে, চলমান এই অভিযানের ফলে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দীর সংখ্যা ধারণক্ষমতার চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান জানান, কারাগারের ধারণক্ষমতা প্রায় দেড় হাজার হলেও বর্তমানে সেখানে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ বন্দী রয়েছে। গাদাগাদি করে থাকার ফলে বন্দীদের বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং কারা কর্তৃপক্ষকেও পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি আরও জানান, কারাগারের চারটি নতুন বহুতল ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে, যা চালু হলে বন্দীদের থাকার সংকটের সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। নগরীর রানীর বাজার এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম দুলাল এই অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে নগরীতে অপরাধের মাত্রা কমে আসে।