লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জার্মান চ্যান্সেলরের কিয়েভ সফরের মধ্যেই রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলা

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের আকস্মিক ইউক্রেন সফরের মধ্যেই দেশটিতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে টানা চতুর্থ দিনের মতো ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। রোববারের হামলায় পিভনিচনি (নর্দার্ন) সেতুতে দুজন আহত হয়েছেন। এর আগেও এই সেতুটিতে কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। সপ্তাহের শুরুতে পিভদেননি (সাদার্ন) সেতুও রুশ হামলার শিকার হয়েছে।

হামলার তীব্রতার মধ্যেই কিয়েভে পৌঁছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন মের্ৎস। দুই নেতা যুদ্ধে নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় মের্ৎস বলেন, ইউক্রেন এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি কিয়েভকে আশ্বস্ত করে বলেন, ইউক্রেন জার্মানির ওপর নির্ভর করতে পারে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের ফলাফলের ওপর জার্মানির নিরাপত্তা নির্ভর করছে, তাই নিজেদের স্বার্থেই বার্লিন কিয়েভকে সহায়তা দিচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসে চ্যান্সেলর হওয়ার পর জার্মানি ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় একক দাতা রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। মের্ৎস সতর্ক করে বলেন, রাশিয়াকে থামানো না গেলে তাদের যুদ্ধযন্ত্র ইউরোপের দিকেও ঘুরে যেতে পারে।

এদিকে রুশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা আরও জোরদার করা হবে। এর আগে তারা দাবি করে, ইউক্রেনীয় সেনা ও সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি সেতুতে হামলা চালানো হয়েছে। বিবিসি যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, পিভনিচনি সেতু দিয়ে গাড়ি চলাচলের সময় একটি ড্রোন আঘাত করে বিস্ফোরিত হয়, যার ফলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়। সেতুর লেনে বড় গর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে সেতুতে যানবাহন ও গণপরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, রাতভর রাশিয়া ১৩৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে ৫২টি ছিল জেটচালিত। ইউক্রেন দাবি করেছে যে তারা ১২৫টি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ২৭ কিশোর টঙ্গী কেন্দ্রে

জার্মান চ্যান্সেলরের কিয়েভ সফরের মধ্যেই রাশিয়ার ভয়াবহ ড্রোন হামলা

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৩১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের আকস্মিক ইউক্রেন সফরের মধ্যেই দেশটিতে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। কিয়েভের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে টানা চতুর্থ দিনের মতো ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে রাশিয়া। রোববারের হামলায় পিভনিচনি (নর্দার্ন) সেতুতে দুজন আহত হয়েছেন। এর আগেও এই সেতুটিতে কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। সপ্তাহের শুরুতে পিভদেননি (সাদার্ন) সেতুও রুশ হামলার শিকার হয়েছে।

হামলার তীব্রতার মধ্যেই কিয়েভে পৌঁছে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছেন মের্ৎস। দুই নেতা যুদ্ধে নিহত ইউক্রেনীয় সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় মের্ৎস বলেন, ইউক্রেন এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি কিয়েভকে আশ্বস্ত করে বলেন, ইউক্রেন জার্মানির ওপর নির্ভর করতে পারে। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের ফলাফলের ওপর জার্মানির নিরাপত্তা নির্ভর করছে, তাই নিজেদের স্বার্থেই বার্লিন কিয়েভকে সহায়তা দিচ্ছে। ২০২৫ সালের মে মাসে চ্যান্সেলর হওয়ার পর জার্মানি ইউক্রেনের সবচেয়ে বড় একক দাতা রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে। মের্ৎস সতর্ক করে বলেন, রাশিয়াকে থামানো না গেলে তাদের যুদ্ধযন্ত্র ইউরোপের দিকেও ঘুরে যেতে পারে।

এদিকে রুশ সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে হামলা আরও জোরদার করা হবে। এর আগে তারা দাবি করে, ইউক্রেনীয় সেনা ও সরঞ্জাম পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি সেতুতে হামলা চালানো হয়েছে। বিবিসি যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, পিভনিচনি সেতু দিয়ে গাড়ি চলাচলের সময় একটি ড্রোন আঘাত করে বিস্ফোরিত হয়, যার ফলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়। সেতুর লেনে বড় গর্তের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিৎসকো জানিয়েছেন, এই হামলার ফলে সেতুতে যানবাহন ও গণপরিবহন চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, যার কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, রাতভর রাশিয়া ১৩৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করে, যার মধ্যে ৫২টি ছিল জেটচালিত। ইউক্রেন দাবি করেছে যে তারা ১২৫টি ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে।