লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ও টার্মিনাল: নতুন যেসব সুবিধা যুক্ত হলো

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৭০০ ফুট বাড়িয়ে বর্তমানে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। এই সম্প্রসারণের ফলে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর-এর মতো সুপরিসর বড় উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। রানওয়েতে ক্যাটাগরি-২ এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং (এজিএল) ব্যবস্থা বসানো হয়েছে, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় উড়োজাহাজ পরিচালনায় সহায়তা করবে। এছাড়া সমুদ্রের দিকে ২ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইট এবং ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় সমুদ্রতীরে রক্ষাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রানওয়েতে পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে।

নতুন নির্মিত টার্মিনাল ভবনটির আয়তন ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার। বহির্গমন লাউঞ্জে একসঙ্গে ৪৫০ জন যাত্রী ধারণের সক্ষমতা রয়েছে। টার্মিনালে বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এস্কেলেটর ও কনভেয়ার বেল্টসহ আধুনিক সব সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া আগমনী ও বহির্গমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক, আগমনী লাউঞ্জ এবং ডিউটি ফ্রি শপ থাকছে। নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ও ভারী হ্যান্ড লাগেজ স্ক্যানিং ব্যবস্থা এবং ফ্লাইট তথ্য জানানোর জন্য এফআইডিএস ও ঘোষণা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোনের আয়তন ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটার, যেখানে দুটি সুপরিসর ও তিনটি ক্লাস-৮ উড়োজাহাজ পার্ক করা যাবে। টার্মিনালের সামনে ৩৫টি ভিআইপি ও ৯০টি সাধারণ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত বিমানবন্দর উন্নয়নকাজের অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং রানওয়ের কাজের অগ্রগতি ৯১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের পর চলতি অক্টোবর মাসেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সীমানাপ্রাচীর, টহল সড়ক ও নিষ্কাশনব্যবস্থার কিছু কাজ এখনো চলমান।

কক্সবাজারকে পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে তৃতীয় একটি বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৬৮২ একর জমিতে নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার, প্রশাসনিক ভবন, কার্গো কমপ্লেক্স, কনভেনশন সেন্টার, এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার এবং কোয়ারেন্টাইন হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের নকশা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে, যার অগ্রগতি ৫৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। তবে এর নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম মনে করেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর আগে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও যাত্রী চাহিদা যাচাই করা জরুরি। দৃষ্টিনন্দন ঝিনুক আকৃতির টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে নামতে পারবেন ৫০০ যাত্রী। তবে এই বিনিয়োগের সুফল কতটা মিলবে, তা নির্ভর করবে বিমানবন্দরটি কতটা ব্যবহার হচ্ছে, কতটি ফ্লাইট চালু হচ্ছে এবং কত যাত্রী নিয়মিত যাতায়াত করছে—তার ওপর। বর্তমানে কোনো এয়ারলাইনস কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ বা সূচি ঘোষণা করেনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাবি হলের নবম তলা থেকে ঝাঁপ দিয়েও প্রাণে বাঁচলেন শিক্ষার্থী

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে ও টার্মিনাল: নতুন যেসব সুবিধা যুক্ত হলো

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৫৪:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৭০০ ফুট বাড়িয়ে বর্তমানে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হয়েছে। এই সম্প্রসারণের ফলে বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর-এর মতো সুপরিসর বড় উড়োজাহাজ ওঠানামার সক্ষমতা তৈরি হয়েছে। রানওয়েতে ক্যাটাগরি-২ এয়ারফিল্ড গ্রাউন্ড লাইটিং (এজিএল) ব্যবস্থা বসানো হয়েছে, যা প্রতিকূল আবহাওয়ায় উড়োজাহাজ পরিচালনায় সহায়তা করবে। এছাড়া সমুদ্রের দিকে ২ হাজার ২০০ ফুট দীর্ঘ প্রিসিশন অ্যাপ্রোচ লাইট এবং ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি মোকাবিলায় সমুদ্রতীরে রক্ষাপ্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর রানওয়েতে পরীক্ষামূলক ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়েছে।

নতুন নির্মিত টার্মিনাল ভবনটির আয়তন ১৭ হাজার ৯৫৬ বর্গমিটার। বহির্গমন লাউঞ্জে একসঙ্গে ৪৫০ জন যাত্রী ধারণের সক্ষমতা রয়েছে। টার্মিনালে বোর্ডিং ব্রিজ, লিফট, এস্কেলেটর ও কনভেয়ার বেল্টসহ আধুনিক সব সুবিধা রাখা হয়েছে। এছাড়া আগমনী ও বহির্গমন ইমিগ্রেশন ডেস্ক, আগমনী লাউঞ্জ এবং ডিউটি ফ্রি শপ থাকছে। নিরাপত্তার জন্য সিসিটিভি ও ভারী হ্যান্ড লাগেজ স্ক্যানিং ব্যবস্থা এবং ফ্লাইট তথ্য জানানোর জন্য এফআইডিএস ও ঘোষণা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। বিমানবন্দরের অ্যাপ্রোনের আয়তন ৩৬ হাজার ৩০০ বর্গমিটার, যেখানে দুটি সুপরিসর ও তিনটি ক্লাস-৮ উড়োজাহাজ পার্ক করা যাবে। টার্মিনালের সামনে ৩৫টি ভিআইপি ও ৯০টি সাধারণ গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রয়েছে।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) তথ্য অনুযায়ী, আগস্ট পর্যন্ত বিমানবন্দর উন্নয়নকাজের অগ্রগতি ৯৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং রানওয়ের কাজের অগ্রগতি ৯১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ কার্যক্রমের পর চলতি অক্টোবর মাসেই আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সীমানাপ্রাচীর, টহল সড়ক ও নিষ্কাশনব্যবস্থার কিছু কাজ এখনো চলমান।

কক্সবাজারকে পূর্ণাঙ্গ এভিয়েশন হাব হিসেবে গড়ে তুলতে তৃতীয় একটি বড় প্রকল্পের পরিকল্পনা রয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ৬৮২ একর জমিতে নতুন প্যাসেঞ্জার টার্মিনাল, নিয়ন্ত্রণ টাওয়ার, প্রশাসনিক ভবন, কার্গো কমপ্লেক্স, কনভেনশন সেন্টার, এভিয়েশন ট্রেনিং সেন্টার এবং কোয়ারেন্টাইন হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এই প্রকল্পের নকশা ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে, যার অগ্রগতি ৫৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ। তবে এর নির্মাণকাজ এখনো শুরু হয়নি।

এভিয়েশন বিশেষজ্ঞ কাজী ওয়াহিদুল আলম মনে করেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর আগে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও যাত্রী চাহিদা যাচাই করা জরুরি। দৃষ্টিনন্দন ঝিনুক আকৃতির টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যেখানে একসঙ্গে নামতে পারবেন ৫০০ যাত্রী। তবে এই বিনিয়োগের সুফল কতটা মিলবে, তা নির্ভর করবে বিমানবন্দরটি কতটা ব্যবহার হচ্ছে, কতটি ফ্লাইট চালু হচ্ছে এবং কত যাত্রী নিয়মিত যাতায়াত করছে—তার ওপর। বর্তমানে কোনো এয়ারলাইনস কক্সবাজার থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার আগ্রহ বা সূচি ঘোষণা করেনি।