লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দালালচক্রের খপ্পরে প্রবাসীরা: কঠোর ব্যবস্থার তাগিদ সংসদীয় কমিটির

দালালদের প্রলোভনে পড়ে ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে বিদেশে গিয়ে চরম বিপদে পড়ছেন অসংখ্য বাংলাদেশি। কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে আটকা পড়ছেন, কেউ জড়িয়ে পড়ছেন অবৈধ অভিবাসনের জালে, আবার কেউ ভিসা জালিয়াতির শিকার হয়ে অর্থ ও নিরাপত্তা হারাচ্ছেন। এসব ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি দেশের পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতাও সংকটের মুখে পড়ছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে ভিসা জালিয়াতি, দালালচক্র ও অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী। বৈঠকে বিদেশে বাংলাদেশি মিশনের সেবার মান উন্নয়ন, প্রবাসীদের লাশ দ্রুত দেশে আনা, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, অবৈধ অভিবাসন ও প্রবাসীদের নানাবিধ সমস্যা মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি নতুন ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে মারা যাওয়া প্রবাসীদের লাশ দেশে আনার বিষয়টি অনেক সময় স্থানীয় আইন ও তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে, তবে পরিচয় শনাক্তকরণে জটিলতা থাকলেও মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে লাশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন কমিটির সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি অন্তত ১০টি ভিসা বাতিলের ঘটনা তদন্তের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, জালিয়াতি বা তথ্যের ত্রুটি শনাক্ত করা গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সহজ হবে। এর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিজনেস ভিসা এখন সহজ হয়েছে, তবে ভিসা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এছাড়া সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন এবং অনেকের আকামার মেয়াদ শেষ ছিল বলে জানান তিনি।

কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী ওমানে চার প্রবাসীর লাশ দ্রুত দেশে আনার উদাহরণ দিয়ে ইতালি থেকে লাশ আনতে আড়াই মাস সময় লাগার কারণ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। তিনি প্রবাসীদের লাশ ফিরিয়ে আনতে একটি স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তিনি বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর নাজুক অবকাঠামো এবং অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর জবাবে জানান, মিশন ভবন কেনার বাজেট থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া কঠিন হয়, যা লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মিশনের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিকীকরণের লক্ষ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দিল্লির আশ্রয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে অন্তর্বর্তী ও বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারকে দুই দফা আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভারতে অভিযুক্ত ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও যোগাযোগ চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেফতার সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে ৮৬টি মিশনের পাশাপাশি আরও ১৯টি নতুন দূতাবাস চালুর প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপের স্বপ্ন দেখিয়ে দালালের ফাঁদ, নিঃস্ব হচ্ছেন বহু বাংলাদেশি

দালালচক্রের খপ্পরে প্রবাসীরা: কঠোর ব্যবস্থার তাগিদ সংসদীয় কমিটির

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

দালালদের প্রলোভনে পড়ে ভুয়া কাগজপত্র নিয়ে বিদেশে গিয়ে চরম বিপদে পড়ছেন অসংখ্য বাংলাদেশি। কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে আটকা পড়ছেন, কেউ জড়িয়ে পড়ছেন অবৈধ অভিবাসনের জালে, আবার কেউ ভিসা জালিয়াতির শিকার হয়ে অর্থ ও নিরাপত্তা হারাচ্ছেন। এসব ঘটনার ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি দেশের পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতাও সংকটের মুখে পড়ছে। এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে ভিসা জালিয়াতি, দালালচক্র ও অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী। বৈঠকে বিদেশে বাংলাদেশি মিশনের সেবার মান উন্নয়ন, প্রবাসীদের লাশ দ্রুত দেশে আনা, রোহিঙ্গা সংকটের সমাধান, নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, অবৈধ অভিবাসন ও প্রবাসীদের নানাবিধ সমস্যা মোকাবিলায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি নতুন ‘মাইগ্রেশন উইং’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিদেশে মারা যাওয়া প্রবাসীদের লাশ দেশে আনার বিষয়টি অনেক সময় স্থানীয় আইন ও তদন্ত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে, তবে পরিচয় শনাক্তকরণে জটিলতা থাকলেও মন্ত্রণালয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে লাশ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে।

বৈঠকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন কমিটির সদস্য সাঈদ আল নোমান। তিনি অন্তত ১০টি ভিসা বাতিলের ঘটনা তদন্তের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, জালিয়াতি বা তথ্যের ত্রুটি শনাক্ত করা গেলে সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সহজ হবে। এর জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতে বিজনেস ভিসা এখন সহজ হয়েছে, তবে ভিসা-সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা এড়াতে দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। এছাড়া সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি অবৈধভাবে অবস্থান করছিলেন এবং অনেকের আকামার মেয়াদ শেষ ছিল বলে জানান তিনি।

কমিটির সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরী ওমানে চার প্রবাসীর লাশ দ্রুত দেশে আনার উদাহরণ দিয়ে ইতালি থেকে লাশ আনতে আড়াই মাস সময় লাগার কারণ খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান। তিনি প্রবাসীদের লাশ ফিরিয়ে আনতে একটি স্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে তিনি বিদেশে বাংলাদেশ মিশনগুলোর নাজুক অবকাঠামো এবং অর্থ ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী এর জবাবে জানান, মিশন ভবন কেনার বাজেট থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া কঠিন হয়, যা লন্ডনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মিশনের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটকে আন্তর্জাতিকীকরণের লক্ষ্যে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন ফোরামে বিষয়টি জোরালোভাবে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দিল্লির আশ্রয়ে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে অন্তর্বর্তী ও বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে ভারত সরকারকে দুই দফা আনুষ্ঠানিক চিঠি দেওয়া হয়েছে। ভারতে অভিযুক্ত ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও যোগাযোগ চলছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতে গ্রেফতার সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও কূটনৈতিক কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা বাড়াতে ৮৬টি মিশনের পাশাপাশি আরও ১৯টি নতুন দূতাবাস চালুর প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও বৈঠকে জানানো হয়।