লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে হুতি হামলা: ঝুঁকিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও কর্মসংস্থান

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ১৭ হাজার ৮৭১ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৮০৪ জন। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক কর্মসংস্থান কমেছে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ। বিএমইটির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, করোনা মহামারির পরবর্তী সময়ের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিদেশে কর্মী পাঠানোর হার ছিল সর্বনিম্ন।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবেও পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে কর্মী যাওয়ার হার প্রায় ৫৫ শতাংশ কমেছে। বিএমইটির তথ্যমতে, গত ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন ২ লাখ ১ হাজার ৩৬১ জন কর্মী, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার ৯০৭ জন। এর মধ্যেই সৌদি আরবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলা দেশটির শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

গত দুই দিনে সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, বিমানঘাঁটি এবং বেসামরিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় অন্তত চারজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এসব হামলার ঘটনা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১ লাখ ৬০ হাজার ২৭৬ জন বাংলাদেশি বিদেশে চাকরি নিয়ে গিয়েছিলেন, যা গত বছরের একই সময়ের ১ লাখ ২৯১ জনের তুলনায় বেশি ছিল। তবে সামগ্রিক হিসেবে চলতি বছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৯৭ জন, যা গত বছরের একই সময়ের ৮ লাখ ৫১ হাজার ৯৫ জনের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ কম। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ জন কর্মী বিদেশে গিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ জনই সৌদি আরবে কর্মসংস্থান পেয়েছিলেন। মালয়েশিয়া, ওমান ও মালদ্বীপের শ্রমবাজার বন্ধ থাকলেও সৌদি আরবে বেশি কর্মী যাওয়ায় ওই বছর সামগ্রিক বৈদেশিক কর্মসংস্থান বেড়েছিল।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

সৌদিতে হুতি হামলা: ঝুঁকিতে বাংলাদেশের শ্রমবাজার ও কর্মসংস্থান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০৬:০৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিরতার নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাতে। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত মোট ৪ লাখ ১৭ হাজার ৮৭১ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গেছেন। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৯০ হাজার ৮০৪ জন। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরের ব্যবধানে বৈদেশিক কর্মসংস্থান কমেছে ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ। বিএমইটির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, করোনা মহামারির পরবর্তী সময়ের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত বিদেশে কর্মী পাঠানোর হার ছিল সর্বনিম্ন।

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার সৌদি আরবেও পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দেশটিতে কর্মী যাওয়ার হার প্রায় ৫৫ শতাংশ কমেছে। বিএমইটির তথ্যমতে, গত ১ মার্চ থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত সৌদি আরবে গেছেন ২ লাখ ১ হাজার ৩৬১ জন কর্মী, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৪ লাখ ৫০ হাজার ৯০৭ জন। এর মধ্যেই সৌদি আরবে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক হামলা দেশটির শ্রমবাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

গত দুই দিনে সৌদি আরবের তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন, বিমানঘাঁটি এবং বেসামরিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় অন্তত চারজন বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। এসব হামলার ঘটনা ওই অঞ্চলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগে চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১ লাখ ৬০ হাজার ২৭৬ জন বাংলাদেশি বিদেশে চাকরি নিয়ে গিয়েছিলেন, যা গত বছরের একই সময়ের ১ লাখ ২৯১ জনের তুলনায় বেশি ছিল। তবে সামগ্রিক হিসেবে চলতি বছরের ১০ অক্টোবর পর্যন্ত বিদেশে যাওয়া কর্মীর সংখ্যা ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৯৭ জন, যা গত বছরের একই সময়ের ৮ লাখ ৫১ হাজার ৯৫ জনের তুলনায় প্রায় ৩২ শতাংশ কম। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে মোট ১১ লাখ ৩২ হাজার ৩৬০ জন কর্মী বিদেশে গিয়েছিলেন, যার মধ্যে ৭ লাখ ৫৫ হাজার ১৯৪ জনই সৌদি আরবে কর্মসংস্থান পেয়েছিলেন। মালয়েশিয়া, ওমান ও মালদ্বীপের শ্রমবাজার বন্ধ থাকলেও সৌদি আরবে বেশি কর্মী যাওয়ায় ওই বছর সামগ্রিক বৈদেশিক কর্মসংস্থান বেড়েছিল।