লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুষ্টিয়ায় এখনো চলছে আওয়ামী আমলের সেই পুরনো রাজনৈতিক সহিংসতা

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ২৭ আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ৫৪

ফ্যাসিবাদী শাসক শেখ হাসিনার পতন এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পরও কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতির তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সহায়তায় যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, সেই একই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি এখনো ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আমার দেশ-এর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে সারা দেশে ১৩০টি মামলা করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল কুষ্টিয়া ছাত্রলীগের করা মামলা। অতীতে কুষ্টিয়া ছিল বিরোধীদের ওপর হামলার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর মাহমুদুর রহমানকে নিয়ে কথিত মানহানির মামলায় জামিন নিতে গিয়ে ২০১৮ সালের ২২ জুলাই তিনি কুষ্টিয়ার আদালতে হামলার শিকার হন। সেদিন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে আদালত চত্বরে তার ওপর নৃশংস হামলা চালায়। তখনকার বিতর্কিত এসপি মেহেদী হাসান এই হামলার নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেই ভয়াবহতার রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ৪ অক্টোবর লালন শাহর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এনসিপির দাবি অনুযায়ী, এটি ছিল তার ওপর পঞ্চম হামলার ঘটনা। এ হামলার জন্য স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া দৌলতপুরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে মন্তব্যের জেরে আটক করার ঘটনাও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। যদিও পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়, তবুও এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এখনো বিদ্যমান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বস্তরে যে শুদ্ধি অভিযান ও পেশাদারিত্বের প্রয়োজন ছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। পুলিশ বাহিনী এখনো অনেক ক্ষেত্রে দলীয় লাঠিয়াল বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার চেষ্টা করছে। অতীতে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার বিচার না হওয়া কিংবা হবিগঞ্জে হামলার বিচার না হওয়ার সংস্কৃতিই মূলত বর্তমানের সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। রাষ্ট্র এবং এর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে বর্তমান সরকারের জন্যও এই পরিস্থিতি বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ ব্যাংককে না জানিয়েই ৩০ ব্যাংকের এটিএম সেবা সাময়িক বন্ধ

কুষ্টিয়ায় এখনো চলছে আওয়ামী আমলের সেই পুরনো রাজনৈতিক সহিংসতা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৭:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ২৭ আপডেট : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০: ৫৪

ফ্যাসিবাদী শাসক শেখ হাসিনার পতন এবং চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের পরও কুষ্টিয়ার রাজনৈতিক পরিস্থিতির তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠন রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সহায়তায় যে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল, সেই একই সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি এখনো ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আমার দেশ-এর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে সারা দেশে ১৩০টি মামলা করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ছিল কুষ্টিয়া ছাত্রলীগের করা মামলা। অতীতে কুষ্টিয়া ছিল বিরোধীদের ওপর হামলার অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। ২০১৭ সালের ১ ডিসেম্বর মাহমুদুর রহমানকে নিয়ে কথিত মানহানির মামলায় জামিন নিতে গিয়ে ২০১৮ সালের ২২ জুলাই তিনি কুষ্টিয়ার আদালতে হামলার শিকার হন। সেদিন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আগ্নেয়াস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও ইটপাটকেল নিয়ে আদালত চত্বরে তার ওপর নৃশংস হামলা চালায়। তখনকার বিতর্কিত এসপি মেহেদী হাসান এই হামলার নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সেই ভয়াবহতার রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি কুষ্টিয়ায় নতুন করে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত ৪ অক্টোবর লালন শাহর মাজার পরিদর্শনে গিয়ে হামলার শিকার হন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এনসিপির দাবি অনুযায়ী, এটি ছিল তার ওপর পঞ্চম হামলার ঘটনা। এ হামলার জন্য স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদলকে দায়ী করা হয়েছে। এছাড়া দৌলতপুরের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষককে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ নিয়ে মন্তব্যের জেরে আটক করার ঘটনাও বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। যদিও পরবর্তীকালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়, তবুও এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা এখনো বিদ্যমান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, জুলাই বিপ্লবের পর রাষ্ট্রযন্ত্রের সর্বস্তরে যে শুদ্ধি অভিযান ও পেশাদারিত্বের প্রয়োজন ছিল, তা এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। পুলিশ বাহিনী এখনো অনেক ক্ষেত্রে দলীয় লাঠিয়াল বাহিনীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার চেষ্টা করছে। অতীতে মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার বিচার না হওয়া কিংবা হবিগঞ্জে হামলার বিচার না হওয়ার সংস্কৃতিই মূলত বর্তমানের সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিচ্ছে। রাষ্ট্র এবং এর গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে বর্তমান সরকারের জন্যও এই পরিস্থিতি বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।