লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এলপিজি আমদানিতে বিপিসির টানা ব্যর্থতা, বাজারে সিন্ডিকেটের দাপট

এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) আমদানিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) টানা সাত মাসের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে বাজারে সিন্ডিকেট করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বেসরকারি খাত। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে খোদ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা ও রহস্যজনক সিদ্ধান্তের কারণে গত সাত মাসে এক কেজি এলপিজিও আমদানি করতে পারেনি সরকারি এই সংস্থা। পাঁচ দফা আন্তর্জাতিক দরপত্র ডেকেও সরবরাহকারী চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর সরাসরি ক্রয়নীতির আওতায় একটি অখ্যাত কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হলেও এখনো মেলেনি কোনো সুফল।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বাজারে সৃষ্ট এলপিজি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারিভাবে আমদানি ও মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন। এরপর এপ্রিল থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত বিপিসি পাঁচবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। এর মধ্যে তিন দফায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও তারা আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া (ফ্রেইড চার্জ) দাবি করে। তৎকালীন সময়ে বিশ্ববাজারে প্রতি টনে ফ্রেইড চার্জ ২০০ ডলারের নিচে থাকলেও দরপত্রে ২৭০ ডলার দাবি করা হয়। ফলে উচ্চদরের কারণে বিপিসি সরবরাহকারী চূড়ান্ত করতে পারেনি। সর্বশেষ ৩ জুলাই ডাকা দরপত্রটি ৪ আগস্ট উন্মুক্ত করা হলেও তাতে কোনো সাড়াও মেলেনি। মূলত আন্তর্জাতিক দরপত্র অনুযায়ী সৌদি সিপি অনুযায়ী এলপিজির দাম নির্ধারণ হলেও মূল প্রতিযোগিতা হয় ফ্রেইড চার্জ নিয়ে।

আন্তর্জাতিক দরপত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর গত ৭ অক্টোবর সরাসরি ক্রয়নীতি (ডিপিএম) অনুযায়ী ‘স্পিড মার্কেটিং করপোরেশন’ নামের একটি অখ্যাত কোম্পানিকে ৫ হাজার টন এলপিজি সরবরাহের কাজ দেয় বিপিসি। কোম্পানিটি প্রতি টন মাত্র ৯৭ ডলার ফ্রেইড চার্জে এলপিজি সরবরাহের প্রস্তাব দিলে তা অনুমোদন করা হয় এবং গত ২ সেপ্টেম্বর তারা ২ কোটি টাকার পারফরম্যান্স গ্যারান্টিও জমা দেয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে ফ্রেইড চার্জ ১৫০ ডলারের বেশি, সেখানে এত কম মূল্যের এই প্রস্তাবের পর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো এক কেজি এলপিজিও সরবরাহ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপিসির এই দীর্ঘ ব্যর্থতা অনেকটা ‘পরিকল্পিত’। সত্যিই যদি বেসরকারি সিন্ডিকেট ভাঙার সদিচ্ছা থাকত, তবে বিপিসি আরও আটঘাট বেঁধে মাঠে নামত।

এ বিষয়ে বিপিসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম জানান, পাঁচবার টেন্ডার ডেকেও অস্বাভাবিক প্রিমিয়াম দাবির কারণে কাজ দেওয়া যায়নি। বর্তমানে বিপিসি আরও বড় সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এলপিজি আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান বলেন, বিপিসি যত দ্রুত এলপিজি আমদানি করবে, জনগণ তত দ্রুত সুফল পাবে এবং বেসরকারি খাতের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমবে।

সরকারি উদ্যোগে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটি ব্যবহার করে মাসে অন্তত একবার বড় জাহাজে এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ নিয়ে চার মাস আগে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে মার্কিন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকও হয়। পরবর্তীতে ১ সেপ্টেম্বর ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটি কোম্পানির (আইআইএফসি) সঙ্গে চুক্তি করে বিপিসি, যার আওতায় সিঙ্গাপুরের ডিএসবি মাতারবাড়ীর জেটি ব্যবহারের সক্ষমতা নিয়ে সমীক্ষা চালাবে। এছাড়া ছোট জাহাজে (৫ থেকে ৮ হাজার টন) এলপিজি এনে বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রির জন্য জেএমআই এলপিজির সঙ্গে চুক্তি করলেও দাম পরিশোধের পদ্ধতি (নগদ নাকি বাকিতে) নিয়ে বিতর্ক চলায় তা ঝুলে আছে।

বর্তমানে সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপিজি গ্যাস লিমিটেড দেশের চাহিদার মাত্র ১.৩৩ শতাংশ (২ শতাংশের কম) সরবরাহ করে এবং তাদের পর্যাপ্ত মজুত সক্ষমতা নেই। এই সংকট কাটাতে সরকার মোংলায় ৮ হাজার ২০০ টন ধারণক্ষমতার ট্যাংক, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গার কালিহাতী ও রাজাবাড়িতে মজুত ও বটলিং প্ল্যান্ট এবং দক্ষিণ কাট্টলীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত জমিতে ট্যাংক ও বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে এসব প্রকল্পের কাজ এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি।

দেশে প্রতিবছর ১৭-১৮ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার ৯৮.৬৭ শতাংশই বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও গত মাসের শেষে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। জ্বালানি বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজারের ৬৮ শতাংশ এলপিজি নিয়ন্ত্রণ করে মাত্র চারটি কোম্পানি—ওমেরা পেট্রোলিয়াম, পেট্রোমেক্স, মেঘনা এবং যমুনা স্পেসটেক। এছাড়া বিএম এনার্জি ৮ শতাংশ, ইউনাইটেড আইগ্যাজ ৭ শতাংশ, ডেল্টা ৪ শতাংশ এবং জেএমআই ও প্রিমিয়াম এলপিজি ৩ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করে।

২৯টি কোম্পানির মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ১০টি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩,৫০০ টন আমদানি করেছে ইউনাইটেড আইগ্যাজ (যা আগস্টে ছিল ১২,০০০ টন)। এছাড়া যমুনা স্পেসটেক ২১,০০০ টন, বিএম এনার্জি ১৮,২৫২ টন, ওমেরা ১৪,৫০০ টন এবং মেঘনা গ্রুপ ১৩,৪০০ টন আমদানি করেছে। আগস্টে দেশে মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার টেন এবং সেপ্টেম্বরে দেড় লাখ টনের বেশি এলপিজি আমদানি করা হয়। উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাইয়ের মন্ত্রিসভা বৈঠকে দরিদ্র পরিবারগুলোকে ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারিভাবে অবকাঠামো করার উদ্যোগ : বিপিসির আওতাধীন এলপিজি গ্যাস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি আছে। এটি দেশের চাহিদার ২ শতাংশের কম এলপিজি সরবরাহ করে। তেমন কোনো মজুত ক্ষমতা নেই এই কোম্পানির। এখন সরকার মোংলায় ৬ দশমিক ৩৭ একর জমিতে ৮ হাজার ২০০ টন এলপিজি মজুতের ট্যাংক তৈরি, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গার কালিহাতী ও রাজাবাড়ি ৬ দশমিক ৯১ একর এলাকায় মজুত ও বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপন, দক্ষিণ কাট্টলীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত জমিতে (২৬ দশমিক ১১৯ একর) এলপিজির ট্যাংক ও বটলিং প্ল্যান্ট বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এই সব প্রকল্পের কাজ এখনো পুরাপুরি শুরু হয়নি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে রাজপথে বিরোধীরা ও তরুণেরা

এলপিজি আমদানিতে বিপিসির টানা ব্যর্থতা, বাজারে সিন্ডিকেটের দাপট

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:৫১:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) আমদানিতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) টানা সাত মাসের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে বাজারে সিন্ডিকেট করে শত শত কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বেসরকারি খাত। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে খোদ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হলেও আমলাতান্ত্রিক অদক্ষতা ও রহস্যজনক সিদ্ধান্তের কারণে গত সাত মাসে এক কেজি এলপিজিও আমদানি করতে পারেনি সরকারি এই সংস্থা। পাঁচ দফা আন্তর্জাতিক দরপত্র ডেকেও সরবরাহকারী চূড়ান্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর সরাসরি ক্রয়নীতির আওতায় একটি অখ্যাত কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হলেও এখনো মেলেনি কোনো সুফল।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর বাজারে সৃষ্ট এলপিজি সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারিভাবে আমদানি ও মজুত সক্ষমতা বাড়ানোর নির্দেশ দেন। এরপর এপ্রিল থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত বিপিসি পাঁচবার আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। এর মধ্যে তিন দফায় কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অংশ নিলেও তারা আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অতিরিক্ত জাহাজ ভাড়া (ফ্রেইড চার্জ) দাবি করে। তৎকালীন সময়ে বিশ্ববাজারে প্রতি টনে ফ্রেইড চার্জ ২০০ ডলারের নিচে থাকলেও দরপত্রে ২৭০ ডলার দাবি করা হয়। ফলে উচ্চদরের কারণে বিপিসি সরবরাহকারী চূড়ান্ত করতে পারেনি। সর্বশেষ ৩ জুলাই ডাকা দরপত্রটি ৪ আগস্ট উন্মুক্ত করা হলেও তাতে কোনো সাড়াও মেলেনি। মূলত আন্তর্জাতিক দরপত্র অনুযায়ী সৌদি সিপি অনুযায়ী এলপিজির দাম নির্ধারণ হলেও মূল প্রতিযোগিতা হয় ফ্রেইড চার্জ নিয়ে।

আন্তর্জাতিক দরপত্রে ব্যর্থ হওয়ার পর গত ৭ অক্টোবর সরাসরি ক্রয়নীতি (ডিপিএম) অনুযায়ী ‘স্পিড মার্কেটিং করপোরেশন’ নামের একটি অখ্যাত কোম্পানিকে ৫ হাজার টন এলপিজি সরবরাহের কাজ দেয় বিপিসি। কোম্পানিটি প্রতি টন মাত্র ৯৭ ডলার ফ্রেইড চার্জে এলপিজি সরবরাহের প্রস্তাব দিলে তা অনুমোদন করা হয় এবং গত ২ সেপ্টেম্বর তারা ২ কোটি টাকার পারফরম্যান্স গ্যারান্টিও জমা দেয়। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যেখানে ফ্রেইড চার্জ ১৫০ ডলারের বেশি, সেখানে এত কম মূল্যের এই প্রস্তাবের পর দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো এক কেজি এলপিজিও সরবরাহ করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপিসির এই দীর্ঘ ব্যর্থতা অনেকটা ‘পরিকল্পিত’। সত্যিই যদি বেসরকারি সিন্ডিকেট ভাঙার সদিচ্ছা থাকত, তবে বিপিসি আরও আটঘাট বেঁধে মাঠে নামত।

এ বিষয়ে বিপিসির নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ড. রফিকুল ইসলাম জানান, পাঁচবার টেন্ডার ডেকেও অস্বাভাবিক প্রিমিয়াম দাবির কারণে কাজ দেওয়া যায়নি। বর্তমানে বিপিসি আরও বড় সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে এলপিজি আমদানির চেষ্টা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) চেয়ারম্যান বলেন, বিপিসি যত দ্রুত এলপিজি আমদানি করবে, জনগণ তত দ্রুত সুফল পাবে এবং বেসরকারি খাতের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমবে।

সরকারি উদ্যোগে মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেটি ব্যবহার করে মাসে অন্তত একবার বড় জাহাজে এলপিজি আমদানির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এ নিয়ে চার মাস আগে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে মার্কিন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠকও হয়। পরবর্তীতে ১ সেপ্টেম্বর ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটি কোম্পানির (আইআইএফসি) সঙ্গে চুক্তি করে বিপিসি, যার আওতায় সিঙ্গাপুরের ডিএসবি মাতারবাড়ীর জেটি ব্যবহারের সক্ষমতা নিয়ে সমীক্ষা চালাবে। এছাড়া ছোট জাহাজে (৫ থেকে ৮ হাজার টন) এলপিজি এনে বেসরকারি কোম্পানির কাছে বিক্রির জন্য জেএমআই এলপিজির সঙ্গে চুক্তি করলেও দাম পরিশোধের পদ্ধতি (নগদ নাকি বাকিতে) নিয়ে বিতর্ক চলায় তা ঝুলে আছে।

বর্তমানে সরকারি প্রতিষ্ঠান এলপিজি গ্যাস লিমিটেড দেশের চাহিদার মাত্র ১.৩৩ শতাংশ (২ শতাংশের কম) সরবরাহ করে এবং তাদের পর্যাপ্ত মজুত সক্ষমতা নেই। এই সংকট কাটাতে সরকার মোংলায় ৮ হাজার ২০০ টন ধারণক্ষমতার ট্যাংক, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গার কালিহাতী ও রাজাবাড়িতে মজুত ও বটলিং প্ল্যান্ট এবং দক্ষিণ কাট্টলীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত জমিতে ট্যাংক ও বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে এসব প্রকল্পের কাজ এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি।

দেশে প্রতিবছর ১৭-১৮ লাখ টন এলপিজির চাহিদা রয়েছে, যার ৯৮.৬৭ শতাংশই বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও গত মাসের শেষে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বিইআরসি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রি করেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। জ্বালানি বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাজারের ৬৮ শতাংশ এলপিজি নিয়ন্ত্রণ করে মাত্র চারটি কোম্পানি—ওমেরা পেট্রোলিয়াম, পেট্রোমেক্স, মেঘনা এবং যমুনা স্পেসটেক। এছাড়া বিএম এনার্জি ৮ শতাংশ, ইউনাইটেড আইগ্যাজ ৭ শতাংশ, ডেল্টা ৪ শতাংশ এবং জেএমআই ও প্রিমিয়াম এলপিজি ৩ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করে।

২৯টি কোম্পানির মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসে মাত্র ১০টি কোম্পানি এলপিজি আমদানি করেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ২৩,৫০০ টন আমদানি করেছে ইউনাইটেড আইগ্যাজ (যা আগস্টে ছিল ১২,০০০ টন)। এছাড়া যমুনা স্পেসটেক ২১,০০০ টন, বিএম এনার্জি ১৮,২৫২ টন, ওমেরা ১৪,৫০০ টন এবং মেঘনা গ্রুপ ১৩,৪০০ টন আমদানি করেছে। আগস্টে দেশে মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার টেন এবং সেপ্টেম্বরে দেড় লাখ টনের বেশি এলপিজি আমদানি করা হয়। উল্লেখ্য, গত ৯ জুলাইয়ের মন্ত্রিসভা বৈঠকে দরিদ্র পরিবারগুলোকে ভর্তুকি মূল্যে এলপিজি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারিভাবে অবকাঠামো করার উদ্যোগ : বিপিসির আওতাধীন এলপিজি গ্যাস লিমিটেড নামে একটি কোম্পানি আছে। এটি দেশের চাহিদার ২ শতাংশের কম এলপিজি সরবরাহ করে। তেমন কোনো মজুত ক্ষমতা নেই এই কোম্পানির। এখন সরকার মোংলায় ৬ দশমিক ৩৭ একর জমিতে ৮ হাজার ২০০ টন এলপিজি মজুতের ট্যাংক তৈরি, টাঙ্গাইলের এলেঙ্গার কালিহাতী ও রাজাবাড়ি ৬ দশমিক ৯১ একর এলাকায় মজুত ও বটলিং প্ল্যান্ট স্থাপন, দক্ষিণ কাট্টলীর পানি উন্নয়ন বোর্ডের পরিত্যক্ত জমিতে (২৬ দশমিক ১১৯ একর) এলপিজির ট্যাংক ও বটলিং প্ল্যান্ট বসানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এই সব প্রকল্পের কাজ এখনো পুরাপুরি শুরু হয়নি।