লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে রাজপথে বিরোধীরা ও তরুণেরা

ভারতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী দলগুলো এবং তরুণদের একটি বড় অংশ। দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এখন রাজপথে সবচেয়ে বেশি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একটি স্লোগান—‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’ (জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ ভাই)। তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে পড়া এই স্লোগান এখন বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এই নজিরবিহীন বিক্ষোভের সূত্রপাত গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর আপত্তি উপেক্ষা করেই সিইসি জ্ঞানেশ কুমার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। নিয়ম অনুযায়ী, সমমর্যাদার তিন কমিশনারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলেও এই ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

এই অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোট। গত ৬ অক্টোবর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও অন্য বিরোধী নেতারা দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। সে সময় পুলিশ রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করে পরে ছেড়ে দেয়। এর পরদিন, ৭ অক্টোবরও যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় আবারও আটক হন রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে এবং কমিশনকে এই অভিযোগের জবাব দিতে হবে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আন্দোলনকারী সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে স্মারকলিপি নেওয়ার জন্য তারা একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গেই সাক্ষাতের দাবিতে অনড় ছিলেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী এই আন্দোলনের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, বিরোধীরা আদৌ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সিইসিকে সরাসরি তলব করাকে তিনি সংবিধানবিরোধী কাজ বলে অভিহিত করেন।

আন্দোলনের শুরুতেই তরুণদের অংশগ্রহণ কম থাকলেও গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কের এক সমাবেশের পর দৃশ্যপট বদলে যায়। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপক ওই সমাবেশে তরুণদের ভাষায় স্লোগান দেন, ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’। এই স্লোগান দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপুলসংখ্যক তরুণকে আন্দোলনে টেনে আনে। এর আগে গত জুলাইয়ে ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর অনিয়মের বিরুদ্ধেও সক্রিয় ছিলেন অভিজিৎ। মুম্বাইয়ের সমাবেশে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এক গরিব মায়ের সন্তান। অথচ আপনার কারণে আজ দেশের সব সন্তানই গরিব মায়ের সন্তান হয়ে গেছে।’

ভোটার তালিকার এই অনিয়মকে তরুণদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যতের সংকটের সঙ্গে যুক্ত করেছেন আন্দোলনকারীরা। এ বিষয়ে ভারতের সাবেক আমলা জহর সরকার বিবিসি নিউজ বাংলাকে বলেন, বর্তমানে ২৫ বছর বয়সী একজন তরুণ ১২ বছর বয়স থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি শুনে বড় হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে সে কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থান পায়নি। ফলে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মূলত সরকারের প্রতি তরুণদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।

দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসএ) সর্বভারতীয় সভাপতি ও বামপন্থী নেত্রী নেহা বোরা বলেন, দেশের ১৩ কোটি মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় জাতীয় ইস্যু। গত সপ্তাহ থেকে ককরোচ জনতা পার্টি, বামপন্থী দল ও বিভিন্ন সংগঠন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে এবং বুধবার দিল্লি থেকে তারা এই আন্দোলন আরও জোরদার করার ডাক দিয়েছেন।

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ২৯আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ৩২

জনপ্রিয় সংবাদ

সিইসির পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিরোধীদের বড় বিক্ষোভ, যোগ দিচ্ছেন মমতা

ভারতে সিইসির পদত্যাগ দাবিতে রাজপথে বিরোধীরা ও তরুণেরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩৫:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আন্দোলনে নেমেছে বিরোধী দলগুলো এবং তরুণদের একটি বড় অংশ। দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এখন রাজপথে সবচেয়ে বেশি প্রতিধ্বনিত হচ্ছে একটি স্লোগান—‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’ (জ্ঞানেশ, তোমার খেলা শেষ ভাই)। তরুণদের মাঝে ছড়িয়ে পড়া এই স্লোগান এখন বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের আন্দোলনের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এই নজিরবিহীন বিক্ষোভের সূত্রপাত গত ২৩ সেপ্টেম্বর ‘ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এ প্রকাশিত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন থেকে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন সদস্যের নির্বাচন কমিশনের অন্য দুই কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশীর আপত্তি উপেক্ষা করেই সিইসি জ্ঞানেশ কুমার ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) সংক্রান্ত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। নিয়ম অনুযায়ী, সমমর্যাদার তিন কমিশনারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলেও এই ক্ষেত্রে তা মানা হয়নি বলে অভিযোগ বিরোধীদের।

এই অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই জ্ঞানেশ কুমারের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধীদের ‘ইন্ডিয়া’ জোট। গত ৬ অক্টোবর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও অন্য বিরোধী নেতারা দিল্লিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। সে সময় পুলিশ রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে আটক করে পরে ছেড়ে দেয়। এর পরদিন, ৭ অক্টোবরও যন্তর মন্তরের দিকে অগ্রসর হওয়ার সময় আবারও আটক হন রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী নেতারা। রাহুল গান্ধীর অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ষড়যন্ত্র চলছে এবং কমিশনকে এই অভিযোগের জবাব দিতে হবে।

এদিকে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আন্দোলনকারী সংসদ সদস্যদের কাছ থেকে স্মারকলিপি নেওয়ার জন্য তারা একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সরাসরি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গেই সাক্ষাতের দাবিতে অনড় ছিলেন। অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির মুখপাত্র সুধাংশু ত্রিবেদী এই আন্দোলনের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, বিরোধীরা আদৌ নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলতে আগ্রহী কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। সিইসিকে সরাসরি তলব করাকে তিনি সংবিধানবিরোধী কাজ বলে অভিহিত করেন।

আন্দোলনের শুরুতেই তরুণদের অংশগ্রহণ কম থাকলেও গত ২ অক্টোবর মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কের এক সমাবেশের পর দৃশ্যপট বদলে যায়। ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপক ওই সমাবেশে তরুণদের ভাষায় স্লোগান দেন, ‘জ্ঞানেশ, ইটস ডান ব্রো’। এই স্লোগান দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপুলসংখ্যক তরুণকে আন্দোলনে টেনে আনে। এর আগে গত জুলাইয়ে ডাক্তারি প্রবেশিকা পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর অনিয়মের বিরুদ্ধেও সক্রিয় ছিলেন অভিজিৎ। মুম্বাইয়ের সমাবেশে তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি এক গরিব মায়ের সন্তান। অথচ আপনার কারণে আজ দেশের সব সন্তানই গরিব মায়ের সন্তান হয়ে গেছে।’

ভোটার তালিকার এই অনিয়মকে তরুণদের শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যতের সংকটের সঙ্গে যুক্ত করেছেন আন্দোলনকারীরা। এ বিষয়ে ভারতের সাবেক আমলা জহর সরকার বিবিসি নিউজ বাংলাকে বলেন, বর্তমানে ২৫ বছর বয়সী একজন তরুণ ১২ বছর বয়স থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি শুনে বড় হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে সে কোনো স্থায়ী কর্মসংস্থান পায়নি। ফলে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মূলত সরকারের প্রতি তরুণদের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে।

দিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বামপন্থী ছাত্র সংগঠন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসএ) সর্বভারতীয় সভাপতি ও বামপন্থী নেত্রী নেহা বোরা বলেন, দেশের ১৩ কোটি মানুষের ভোটাধিকার রক্ষা করা এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় জাতীয় ইস্যু। গত সপ্তাহ থেকে ককরোচ জনতা পার্টি, বামপন্থী দল ও বিভিন্ন সংগঠন জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চালিয়ে আসছে এবং বুধবার দিল্লি থেকে তারা এই আন্দোলন আরও জোরদার করার ডাক দিয়েছেন।

প্রকাশ : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ২৯আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯: ৩২