লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা শঙ্কা, ভার্চ্যুয়াল শুনানির প্রস্তাব প্রসিকিউশনের

আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে আলোচিত গুম অভিযানের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রায় শতাধিক ব্যক্তির গুম সংক্রান্ত এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর এখন কেবল উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন বাকি রয়েছে। এরপরই ট্রাইব্যুনাল এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে শুনানি চলাকালে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জিয়াউল আহসান। আদালতে তিনি অভিযোগ করেন, কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার সময় পুরো একটি প্রিজন ভ্যানে কেবল তাকে একাই বহন করা হচ্ছে। পথিমধ্যে যেকোনো সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটিয়ে এর দায় তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আসামিপক্ষের এই আশঙ্কার পর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসামির নিরাপত্তা নিয়ে যদি সত্যিই কোনো শঙ্কা থাকে, তবে প্রয়োজন মনে করলে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে তার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম দাবি করেন, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা গুমের অভিযোগগুলো রাষ্ট্রপক্ষ তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তাই আসামির ভার্চ্যুয়াল শুনানির ক্ষেত্রে প্রসিকিউশনের কোনো আপত্তি নেই।

এদিকে জিয়াউল আহসানের বোন নাজনীন নাহার এবং তার আইনজীবীরা এই পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, তাকে একা প্রিজন ভ্যানে বহন করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর ফলে বড় ধরনের নাশকতার ঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জিয়াউল আহসানকে আদালতে হাজির করার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতার অংশ হিসেবে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে আনা হতো। তবে সম্প্রতি তাকে একা প্রিজন ভ্যানে আনা-নেওয়া করাকে কেন্দ্র করেই এই নিরাপত্তা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন তার আইনজীবী। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৩ই অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২।

জনপ্রিয় সংবাদ

‎শারদীয় দুর্গাপূজা কেন্দ্র করে বোদায় গ্রাম পুলিশদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় সভা।

জিয়াউল আহসানের নিরাপত্তা শঙ্কা, ভার্চ্যুয়াল শুনানির প্রস্তাব প্রসিকিউশনের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩১:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে আলোচিত গুম অভিযানের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়েছে। প্রায় শতাধিক ব্যক্তির গুম সংক্রান্ত এই মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর এখন কেবল উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন বাকি রয়েছে। এরপরই ট্রাইব্যুনাল এই মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন।

বৃহস্পতিবার ট্রাইব্যুনালে শুনানি চলাকালে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন জিয়াউল আহসান। আদালতে তিনি অভিযোগ করেন, কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা-নেওয়ার সময় পুরো একটি প্রিজন ভ্যানে কেবল তাকে একাই বহন করা হচ্ছে। পথিমধ্যে যেকোনো সময় কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটিয়ে এর দায় তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

আসামিপক্ষের এই আশঙ্কার পর প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আসামির নিরাপত্তা নিয়ে যদি সত্যিই কোনো শঙ্কা থাকে, তবে প্রয়োজন মনে করলে ভার্চ্যুয়াল প্ল্যাটফর্মে তার বিচার কার্যক্রম পরিচালনা করা যেতে পারে। পরবর্তীতে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম দাবি করেন, জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা গুমের অভিযোগগুলো রাষ্ট্রপক্ষ তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে। তাই আসামির ভার্চ্যুয়াল শুনানির ক্ষেত্রে প্রসিকিউশনের কোনো আপত্তি নেই।

এদিকে জিয়াউল আহসানের বোন নাজনীন নাহার এবং তার আইনজীবীরা এই পরিবহন ব্যবস্থাকে একটি গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের দাবি, তাকে একা প্রিজন ভ্যানে বহন করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং এর ফলে বড় ধরনের নাশকতার ঝুঁকি তৈরি করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, এর আগে সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জিয়াউল আহসানকে আদালতে হাজির করার সময় সর্বোচ্চ সতর্কতার অংশ হিসেবে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে আনা হতো। তবে সম্প্রতি তাকে একা প্রিজন ভ্যানে আনা-নেওয়া করাকে কেন্দ্র করেই এই নিরাপত্তা জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে।

অন্যদিকে, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসার অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন তার আইনজীবী। এ বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ১৩ই অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন ট্রাইব্যুনাল-২।