লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এল নিনোর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তায় প্রস্তুত আইএমএফ

প্রাকৃতিক বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতি ‘এল নিনো’র প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বুধবার (৭ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন।

সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনোর প্রভাব দেখা দেয়, যা বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, চলতি বছরের এল নিনো আধুনিক সময়ের অন্যতম তীব্র পরিস্থিতি হতে পারে, যা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম আবহাওয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।

সিঙ্গাপুরে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, আইএমএফ এল নিনোর প্রভাব নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে সংস্থাটি চিন্তিত। তিনি জানান, বাইরের বড় ধরনের প্রতিকূলতার মুখে দুর্বল দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া আইএমএফের অন্যতম দায়িত্ব। এল নিনোর আঘাত বড় ধরনের হলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে সংস্থাটি প্রস্তুত রয়েছে।

জর্জিয়েভা দেশগুলোকে তাদের সীমিত আর্থিক ও রাজস্ব সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেক দেশকে এই সংকট মোকাবিলায় বাইরের অর্থায়নের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। তিনি ‘দ্বৈত বাহ্যিক ধাক্কার’ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বলেন, এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কিছু দেশ হয়তো এই চরম পরিস্থিতির ধাক্কা সামলে নিতে সক্ষম হবে, তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র, বাংলাদেশের মতো তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ এবং লাওসের মতো দরিদ্র দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। বর্তমানে মধ্য আমেরিকার দেশগুলো খরার মুখে পড়েছে এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিপাতের ধরন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে উভয় অঞ্চলেই কৃষি ও ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় গাছে আশ্রয় নিয়েছে নিঃসঙ্গ হনুমান

এল নিনোর প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সহায়তায় প্রস্তুত আইএমএফ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০১:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রাকৃতিক বৈশ্বিক জলবায়ু পরিস্থিতি ‘এল নিনো’র প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোকে সহায়তা দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বুধবার (৭ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা জানিয়েছেন।

সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে সাধারণত প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনোর প্রভাব দেখা দেয়, যা বিশ্বজুড়ে বায়ুপ্রবাহ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। আবহাওয়াবিদদের ধারণা, চলতি বছরের এল নিনো আধুনিক সময়ের অন্যতম তীব্র পরিস্থিতি হতে পারে, যা জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চরম আবহাওয়াকে আরও জটিল করে তুলছে।

সিঙ্গাপুরে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা বলেন, আইএমএফ এল নিনোর প্রভাব নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে বিশ্বজুড়ে খাদ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং খাদ্যের দাম বাড়ার কারণে মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ে সংস্থাটি চিন্তিত। তিনি জানান, বাইরের বড় ধরনের প্রতিকূলতার মুখে দুর্বল দেশগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া আইএমএফের অন্যতম দায়িত্ব। এল নিনোর আঘাত বড় ধরনের হলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়াতে সংস্থাটি প্রস্তুত রয়েছে।

জর্জিয়েভা দেশগুলোকে তাদের সীমিত আর্থিক ও রাজস্ব সক্ষমতা ব্যবহারের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, অনেক দেশকে এই সংকট মোকাবিলায় বাইরের অর্থায়নের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে। তিনি ‘দ্বৈত বাহ্যিক ধাক্কার’ ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে বলেন, এল নিনোর প্রভাবে সৃষ্ট পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

আইএমএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সমন্বিত বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেন, কিছু দেশ হয়তো এই চরম পরিস্থিতির ধাক্কা সামলে নিতে সক্ষম হবে, তবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র, বাংলাদেশের মতো তুলনামূলকভাবে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ এবং লাওসের মতো দরিদ্র দেশগুলোর জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন হতে পারে। বর্তমানে মধ্য আমেরিকার দেশগুলো খরার মুখে পড়েছে এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিপাতের ধরন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে উভয় অঞ্চলেই কৃষি ও ফসল উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।