লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নবাবগঞ্জে চালক রাহুল হত্যা: ইয়াবার তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় খুন, গ্রেপ্তার ৫

ঢাকার নবাবগঞ্জে অটোরিকশা চালক ১৯ বছরের তরুণ রাহুল হত্যাকাণ্ডের দুই বছরেরও বেশি সময় পর জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মো. সবুজ মিয়া (২৮) ও মো. লালন মোল্লা (৪৩) নামের দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামিদের দেওয়া জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, ইয়াবা বিক্রির তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার আশঙ্কায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাহুলকে হত্যা করা হয়।

নিহত রাহুলের বাড়ি নবাবগঞ্জ থানার চক সিংহড়া এলাকায়। তিনি নিজের ভাড়া করা অটোরিকশাটি একই এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুকের ওয়ার্কশপে রাখতেন এবং রাতে সেখানেই ঘুমাতেন। ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে রাহুল বাসা থেকে রাতের খাবার খেয়ে ওই ওয়ার্কশপে ঘুমাতে যান। পরদিন তিনি বাড়ি না ফেরায় তাঁর বাবা সেখানে খোঁজ নিয়ে রাহুলের সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ওয়ার্কশপের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি ভুট্টা খেতের আইলের ঝোপ থেকে রাহুলের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আবদুর রহমান বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে থানা-পুলিশ মামলাটি তদন্ত করলেও পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। পিবিআইয়ের এসআই মো. আব্দুর রহিম মামলাটির তদন্ত শুরু করেন।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত মার্চ মাসে প্রথমে নবাবগঞ্জের পাতিলঝাপ এলাকা থেকে মো. সমেজ (৩২) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। সবুজ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন। সবুজের জবানবন্দির সূত্র ধরে পরে খবির ওরফে গোবিন্দ (২৮), মো. হাবিব ওরফে সজল (৩৬) এবং মো. লালন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। লালন মোল্লাও আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ উত্তরার এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ও পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানান, রাহুল ও গ্রেপ্তার আসামিরা পরস্পর পূর্বপরিচিত ছিলেন। লালন মোল্লা এলাকায় ইয়াবার কারবার করতেন। রাহুলসহ অন্য আসামিরা তাঁর কাছ থেকে ইয়াবা কিনে একসঙ্গে সেবন করতেন। একপর্যায়ে লালন জানতে পারেন যে তাঁর ইয়াবা বিক্রির তথ্য বাইরে ফাঁস করে দেওয়ার কথা সবুজকে জানিয়েছেন রাহুল। এই আশঙ্কায় আসামিরা রাহুলকে হত্যা করে তাঁর অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে লালন তাঁর সহযোগী সবুজের মাধ্যমে রাহুলকে অটোরিকশাসহ নবাবগঞ্জের তমসেল মাদবরের খোলা মাঠে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকেই লালন, সজল, সমেজ ও গোবিন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে তাঁরা রাহুলকে ইয়াবা সেবন করান। এরপর সুযোগ বুঝে লালন একটি লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে রাহুলের মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে মাথা ফেটে রক্ত বের হলে রাহুলের কান ও মুখে ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হয়। এমনকি রাহুলের অটোরিকশার ব্যাটারি দিয়েও তাঁর মুখে আঘাত করা হয়। সবশেষে শ্বাসরোধ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ আরও জানান, রাহুলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশটি অটোরিকশায় বসিয়ে আসামিরা সজলের গরুর খামারে নিয়ে যান। সেখানে মৃতদেহটি দুই দিন লুকিয়ে রাখা হয়। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১টার পর মরদেহটি ওমর ফারুকের ওয়ার্কশপের পাশে ফেলে দেওয়া হয় এবং পরে সেখান থেকেই পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। হত্যাকাণ্ডের পর রাহুলের অটোরিকশাটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন আসামিরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইস্তাম্বুল জাস্টিস সামিটে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব ভাগের আহ্বান আইনমন্ত্রীর

নবাবগঞ্জে চালক রাহুল হত্যা: ইয়াবার তথ্য ফাঁসের আশঙ্কায় খুন, গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪৪:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকার নবাবগঞ্জে অটোরিকশা চালক ১৯ বছরের তরুণ রাহুল হত্যাকাণ্ডের দুই বছরেরও বেশি সময় পর জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মো. সবুজ মিয়া (২৮) ও মো. লালন মোল্লা (৪৩) নামের দুজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পিবিআইয়ের তদন্ত ও আসামিদের দেওয়া জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, ইয়াবা বিক্রির তথ্য ফাঁস করে দেওয়ার আশঙ্কায় পূর্বপরিকল্পিতভাবে রাহুলকে হত্যা করা হয়।

নিহত রাহুলের বাড়ি নবাবগঞ্জ থানার চক সিংহড়া এলাকায়। তিনি নিজের ভাড়া করা অটোরিকশাটি একই এলাকার বাসিন্দা ওমর ফারুকের ওয়ার্কশপে রাখতেন এবং রাতে সেখানেই ঘুমাতেন। ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে রাহুল বাসা থেকে রাতের খাবার খেয়ে ওই ওয়ার্কশপে ঘুমাতে যান। পরদিন তিনি বাড়ি না ফেরায় তাঁর বাবা সেখানে খোঁজ নিয়ে রাহুলের সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে ৯ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে ওয়ার্কশপের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে একটি ভুট্টা খেতের আইলের ঝোপ থেকে রাহুলের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মো. আবদুর রহমান বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। প্রথমে থানা-পুলিশ মামলাটি তদন্ত করলেও পরে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই। পিবিআইয়ের এসআই মো. আব্দুর রহিম মামলাটির তদন্ত শুরু করেন।

তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত মার্চ মাসে প্রথমে নবাবগঞ্জের পাতিলঝাপ এলাকা থেকে মো. সমেজ (৩২) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই এলাকা থেকে সবুজ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। সবুজ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডে নিজের সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন। সবুজের জবানবন্দির সূত্র ধরে পরে খবির ওরফে গোবিন্দ (২৮), মো. হাবিব ওরফে সজল (৩৬) এবং মো. লালন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়। লালন মোল্লাও আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।

আজ উত্তরার এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা ও পিবিআই ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ জানান, রাহুল ও গ্রেপ্তার আসামিরা পরস্পর পূর্বপরিচিত ছিলেন। লালন মোল্লা এলাকায় ইয়াবার কারবার করতেন। রাহুলসহ অন্য আসামিরা তাঁর কাছ থেকে ইয়াবা কিনে একসঙ্গে সেবন করতেন। একপর্যায়ে লালন জানতে পারেন যে তাঁর ইয়াবা বিক্রির তথ্য বাইরে ফাঁস করে দেওয়ার কথা সবুজকে জানিয়েছেন রাহুল। এই আশঙ্কায় আসামিরা রাহুলকে হত্যা করে তাঁর অটোরিকশাটি ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে লালন তাঁর সহযোগী সবুজের মাধ্যমে রাহুলকে অটোরিকশাসহ নবাবগঞ্জের তমসেল মাদবরের খোলা মাঠে ডেকে নেন। সেখানে আগে থেকেই লালন, সজল, সমেজ ও গোবিন্দ উপস্থিত ছিলেন। প্রথমে তাঁরা রাহুলকে ইয়াবা সেবন করান। এরপর সুযোগ বুঝে লালন একটি লোহার অ্যাঙ্গেল দিয়ে রাহুলের মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে মাথা ফেটে রক্ত বের হলে রাহুলের কান ও মুখে ব্লেড দিয়ে আঘাত করা হয়। এমনকি রাহুলের অটোরিকশার ব্যাটারি দিয়েও তাঁর মুখে আঘাত করা হয়। সবশেষে শ্বাসরোধ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ আরও জানান, রাহুলের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর লাশটি অটোরিকশায় বসিয়ে আসামিরা সজলের গরুর খামারে নিয়ে যান। সেখানে মৃতদেহটি দুই দিন লুকিয়ে রাখা হয়। এরপর ৯ ফেব্রুয়ারি রাত ১টার পর মরদেহটি ওমর ফারুকের ওয়ার্কশপের পাশে ফেলে দেওয়া হয় এবং পরে সেখান থেকেই পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। হত্যাকাণ্ডের পর রাহুলের অটোরিকশাটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন আসামিরা।