লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সবুজ সংকেত পেল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৬ পিএম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট অবশেষে সবুজ সংকেত পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করেছে। পরমাণু প্রযুক্তির ভাষায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পূর্বের এই জটিল প্রক্রিয়াটি ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ হিসেবে পরিচিত।

অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আরও দুটি ধাপের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। এর আগে প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমনের সেফটি ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে অনুমোদন প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। পরবর্তীতে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ দল নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান করে এবং কারিগরি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এই সবুজ সংকেত পাওয়া গেল। এই অগ্রগতির ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষনাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ‘ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে তার পূর্ণ তাপীয় ক্ষমতার এক শতাংশেরও কম শক্তিমাত্রায় পরিচালনা করে প্রাথমিক ক্রিটিক্যালিটি নিশ্চিত করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে, যেখানে রিঅ্যাক্টরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ সফল হলে প্রকল্পটি ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ ধাপে প্রবেশ করবে। এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বৃদ্ধি, টারবাইন সিনক্রোনাইজেশন এবং জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করার কাজ শুরু হবে। তবে এর জন্য পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রা থেকে আলাদাভাবে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে। এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, টারবাইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় বজায় রাখা একটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।

উৎপাদন শুরুর পর প্রাথমিকভাবে ৩ শতাংশ শক্তি দিয়ে কাজ শুরু হবে, যা পর্যায়ক্রমে ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এরপর জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে এবং বাণিজ্যিকভাবে যাওয়ার আগে টানা ৭ থেকে ৮ মাস পরীক্ষামূলক উৎপাদন কার্যক্রম চলতে পারে। রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইস্তাম্বুল জাস্টিস সামিটে বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দায়িত্ব ভাগের আহ্বান আইনমন্ত্রীর

সবুজ সংকেত পেল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৫:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২৬ পিএম। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট অবশেষে সবুজ সংকেত পেয়েছে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা) কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর আনুষ্ঠানিক অনুমোদন প্রদান করেছে। পরমাণু প্রযুক্তির ভাষায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর পূর্বের এই জটিল প্রক্রিয়াটি ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’ হিসেবে পরিচিত।

অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করে বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান জানিয়েছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য আরও দুটি ধাপের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে। এর আগে প্রকল্পটির প্রথম ইউনিটের স্বয়ংক্রিয় চাপ প্রশমনের সেফটি ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি) সংক্রান্ত প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে অনুমোদন প্রক্রিয়াটি কিছুটা বিলম্বিত হয়েছিল। পরবর্তীতে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ দল নিবিড় পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সমস্যাটির সমাধান করে এবং কারিগরি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর এই সবুজ সংকেত পাওয়া গেল। এই অগ্রগতির ফলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষনাগাদ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ‘ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ’ পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরকে তার পূর্ণ তাপীয় ক্ষমতার এক শতাংশেরও কম শক্তিমাত্রায় পরিচালনা করে প্রাথমিক ক্রিটিক্যালিটি নিশ্চিত করা হবে। এই প্রক্রিয়ায় ৩০ থেকে ৪০ দিন সময় লাগতে পারে, যেখানে রিঅ্যাক্টরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ সরঞ্জাম সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক হলে ধাপে ধাপে ক্ষমতা বাড়ানো হবে।

ফিজিক্যাল স্টার্ট-আপ সফল হলে প্রকল্পটি ‘পাওয়ার স্টার্ট-আপ’ ধাপে প্রবেশ করবে। এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা বৃদ্ধি, টারবাইন সিনক্রোনাইজেশন এবং জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করার কাজ শুরু হবে। তবে এর জন্য পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রা থেকে আলাদাভাবে ট্রায়াল অপারেশনাল লাইসেন্স নিতে হবে। এই পর্যায়ে রিঅ্যাক্টর, টারবাইন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে নিখুঁত সমন্বয় বজায় রাখা একটি বড় প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।

উৎপাদন শুরুর পর প্রাথমিকভাবে ৩ শতাংশ শক্তি দিয়ে কাজ শুরু হবে, যা পর্যায়ক্রমে ২০ থেকে ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। এরপর জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্ভব হবে এবং বাণিজ্যিকভাবে যাওয়ার আগে টানা ৭ থেকে ৮ মাস পরীক্ষামূলক উৎপাদন কার্যক্রম চলতে পারে। রূপপুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হলে বাংলাদেশ বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে, যা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হবে।