লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করার সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, কেবল নীরোগ থাকাটাই প্রকৃত স্বাস্থ্য নয়; বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকার নামই হলো স্বাস্থ্য। তাই মানসিক স্বাস্থ্যকে কোনোভাবেই অবহেলা বা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেও সারাবিশ্বের মতো দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সাথে উদযাপিত হবে। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য কেবল চিকিৎসার বিষয় নয়, এটি মানুষের মর্যাদা, পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। মানসিক রোগ ঘিরে সমাজে যে ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। কাউকে অবহেলা বা বিচ্ছিন্ন না করে তার পাশে দাঁড়ানো এবং তার অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানানোই প্রকৃত পরিবর্তনের পূর্বশর্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একটি মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার উপজেলা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে কাজ করছে। দক্ষ জনবল তৈরি, কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে সচেতনতার অভাব, সামাজিক সংকোচ এবং সীমিত সুযোগের কারণে অনেকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এই ঘাটতি পূরণে সরকার উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে টেলি-কাউন্সেলিং এবং সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা চালু করছে।

সরকারি পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, সরকারি হাসপাতালের পেশাজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের মানসিক যত্ন, শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের প্রতি আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমসহ সমাজের সব স্তরে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে কেউ সংকোচ বোধ করবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লিতে ২৪ ঘণ্টার জন্য ইন্টারনেট বন্ধের নির্দেশ, সুপ্রিম কোর্টের তীব্র সমালোচনা

মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করার সুযোগ নেই: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪৬:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানুষের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমুখী স্বাস্থ্যনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, কেবল নীরোগ থাকাটাই প্রকৃত স্বাস্থ্য নয়; বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকার নামই হলো স্বাস্থ্য। তাই মানসিক স্বাস্থ্যকে কোনোভাবেই অবহেলা বা উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘জীবনের কথা শুনি, বাস্তব পরিবর্তন আনি’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশেও সারাবিশ্বের মতো দিবসটি যথাযথ গুরুত্বের সাথে উদযাপিত হবে। তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য কেবল চিকিৎসার বিষয় নয়, এটি মানুষের মর্যাদা, পরিবার ও সমাজের সামগ্রিক কল্যাণের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। মানসিক রোগ ঘিরে সমাজে যে ভয়, লজ্জা, কুসংস্কার ও বৈষম্য রয়েছে, তা দূর করতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। কাউকে অবহেলা বা বিচ্ছিন্ন না করে তার পাশে দাঁড়ানো এবং তার অভিজ্ঞতাকে সম্মান জানানোই প্রকৃত পরিবর্তনের পূর্বশর্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

একটি মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার উপজেলা ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে কাজ করছে। দক্ষ জনবল তৈরি, কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিনির্ভর কাউন্সেলিং সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে সচেতনতার অভাব, সামাজিক সংকোচ এবং সীমিত সুযোগের কারণে অনেকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। এই ঘাটতি পূরণে সরকার উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে টেলি-কাউন্সেলিং এবং সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা চালু করছে।

সরকারি পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের বিশেষ প্রশিক্ষণ, সরকারি হাসপাতালের পেশাজীবীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের মানসিক যত্ন, শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে সরকার বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের প্রতি আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমসহ সমাজের সব স্তরে সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দেন। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে কেউ সংকোচ বোধ করবে না।