লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে অশুল্ক বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি বাংলাদেশের

নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম সভায় ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এবং স্থলবন্দরকেন্দ্রিক বিধিনিষেধ দূর করার দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পাটপণ্য ও পেট ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও বর্তমানের শুল্কসুবিধা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা নিরসন, স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার।

সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশীয় রপ্তানিকারকদের স্বার্থ রক্ষায় ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানির বিধিনিষেধগুলো পর্যালোচনা ও তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। বিশেষ করে, সাফটা (সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া) চুক্তির আওতায় বর্তমানে প্রাপ্ত শুল্কসুবিধা যাতে এলডিসি উত্তরণের পরও বহাল থাকে, সে বিষয়টি বিবেচনার জন্য ভারতের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পণ্যের মান নির্ধারণে সামঞ্জস্য আনা, পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) প্রয়োজনীয় সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ।

বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সুযোগ সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও বাংলাদেশের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। এছাড়া দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে সিইওস ফোরাম কার্যকর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সহজ করতে ভারতের স্থল কাস্টমস স্টেশনগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, যেমন—প্রবেশপথ, পার্কিং ইয়ার্ড, গুদাম, শেড, পণ্য পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকেও তাদের নিজস্ব বাণিজ্য ও যোগাযোগের বিভিন্ন প্রস্তাব বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে তুলার সুতা ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থলবন্দরে থাকা বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে পণ্য রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা। এছাড়া আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, আখাউড়া-আগরতলা সংযোগসহ বাণিজ্যিক রুটগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, রেল যোগাযোগ উন্নয়ন এবং সীমান্ত হাট চালুর বিষয়গুলো ভারতের আলোচ্যসূচিতে স্থান পেয়েছে। উভয় পক্ষই স্থলবন্দর, কাস্টমস ও সীমান্ত কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সময় ও ব্যয় কমানোর ওপর জোর দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জনতার আদালতে সানাউল্লাহ নুর বাবুর খুনিদের বিচার হবে: হুইপ দুলু

ভারতে অশুল্ক বাধা ও অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহারের দাবি বাংলাদেশের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩৬:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্যবিষয়ক যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম সভায় ভারতের বাজারে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাধা এবং স্থলবন্দরকেন্দ্রিক বিধিনিষেধ দূর করার দাবি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পাটপণ্য ও পেট ফিল্মের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও বর্তমানের শুল্কসুবিধা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের প্রতিবন্ধকতা নিরসন, স্থলবন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আঞ্চলিক পণ্য পরিবহন ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের ১০ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার।

সভায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে দেশীয় রপ্তানিকারকদের স্বার্থ রক্ষায় ভারতের স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানির বিধিনিষেধগুলো পর্যালোচনা ও তা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। বিশেষ করে, সাফটা (সাউথ এশিয়ান ফ্রি ট্রেড এরিয়া) চুক্তির আওতায় বর্তমানে প্রাপ্ত শুল্কসুবিধা যাতে এলডিসি উত্তরণের পরও বহাল থাকে, সে বিষয়টি বিবেচনার জন্য ভারতের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি পণ্যের মান নির্ধারণে সামঞ্জস্য আনা, পারস্পরিক স্বীকৃতি এবং ব্যুরো অব ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডসের (বিআইএস) প্রয়োজনীয় সনদ পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বাংলাদেশ।

বাজারে প্রবেশাধিকার বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্য পরিবহনের সুযোগ সম্প্রসারণে জোর দিয়েছে বাংলাদেশ। ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে নেপাল ও ভুটানে পণ্যবাহী ট্রাক চলাচলের সুযোগ বাড়ানোর বিষয়টিও বাংলাদেশের আলোচ্যসূচিতে রয়েছে। এছাড়া দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়াতে সিইওস ফোরাম কার্যকর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাণিজ্য সহজ করতে ভারতের স্থল কাস্টমস স্টেশনগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন, যেমন—প্রবেশপথ, পার্কিং ইয়ার্ড, গুদাম, শেড, পণ্য পরীক্ষা ও কোয়ারেন্টাইন সুবিধা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

অন্যদিকে, ভারতের পক্ষ থেকেও তাদের নিজস্ব বাণিজ্য ও যোগাযোগের বিভিন্ন প্রস্তাব বৈঠকে তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশে তুলার সুতা ও অন্যান্য পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট স্থলবন্দরে থাকা বিধিনিষেধ প্রত্যাহার এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো থেকে পণ্য রপ্তানির প্রতিবন্ধকতা দূর করা। এছাড়া আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, বহুমাত্রিক পরিবহন ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, আখাউড়া-আগরতলা সংযোগসহ বাণিজ্যিক রুটগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি, রেল যোগাযোগ উন্নয়ন এবং সীমান্ত হাট চালুর বিষয়গুলো ভারতের আলোচ্যসূচিতে স্থান পেয়েছে। উভয় পক্ষই স্থলবন্দর, কাস্টমস ও সীমান্ত কার্যক্রমের দক্ষতা বাড়িয়ে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের সময় ও ব্যয় কমানোর ওপর জোর দিয়েছে।