লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উপস্থাপনায় সুন্দর কণ্ঠই শেষ কথা নয়, প্রয়োজন প্রস্তুতি ও নিজস্বতা

প্রথম আলো বন্ধুসভা ও অল ব্রডকাস্টার্স কমিউনিটি (এবিসি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রেজেন্টেশন অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক অনলাইন কর্মশালার চতুর্থ সেশনে দেশের প্রতিষ্ঠিত উপস্থাপকেরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ তুলে ধরেছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই সেশনে বক্তারা জানান, কেবল সুন্দর কণ্ঠই উপস্থাপনার জন্য যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন গভীর জানাশোনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরির নিজস্ব ভঙ্গি। ‘সংবাদ ও অনুষ্ঠান উপস্থাপনা’ বিষয়ের এই সেশনে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন ক্রীড়া উপস্থাপক ফাহিম রহমান, যমুনা টিভির জ্যেষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপক মৌসুমী আহমেদ লোপা এবং উপস্থাপক ও অভিনয়শিল্পী মৌসুমী মৌ।

কর্মশালায় সংবাদ পরিবেশনের প্রক্রিয়াটিকে একটি রেস্টুরেন্টের সঙ্গে তুলনা করেন ফাহিম রহমান। তিনি বলেন, রান্নাঘরে খাবার প্রস্তুত হওয়ার পর তা টেবিলে যেভাবে পরিবেশন করা হয়, উপস্থাপকের কাজও ঠিক তেমন। দর্শকের সঙ্গে প্রথম কয়েক মুহূর্তের যোগাযোগ বা ‘ফার্স্ট ইম্প্রেশন’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা তৈরি হয় কণ্ঠ, শব্দচয়ন, চোখের দৃষ্টি, গতি ও স্বাভাবিকতার মাধ্যমে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু টেলিপ্রম্পটার দেখে রিডিং পড়লেই চলে না, সংশ্লিষ্ট খবরের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব সম্পর্কে উপস্থাপকের স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। এ জন্য তিনি ঘরের আয়নাকে প্রথম স্টুডিও বানিয়ে নিয়মিত অনুশীলনের পরামর্শ দেন, যা জড়তা ও ভয় কাটাতে সাহায্য করে।

লাইভ সংবাদে ভুল এড়ানো এবং দর্শকের সঙ্গে ঘরোয়াভাবে যোগাযোগের উপায় বাতলে দেন মৌসুমী আহমেদ লোপা। তিনি বলেন, স্ক্রিপ্টে ভুল থাকলেও উপস্থাপকের যদি খবর সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা থাকে, তবে তিনি পরিস্থিতি সামলে নিতে পারেন। ভুল পড়ে ফেললেও আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে সংশোধন করে পরের লাইনে চলে যাওয়া উচিত। তিনি যোগ করেন, দর্শকের কাছে উপস্থাপনা যেন যান্ত্রিক না মনে হয়, বরং বসার ঘরে পরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলার মতো সহজ হওয়া প্রয়োজন। হিজাব পরে সংবাদ উপস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি মূলত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে বেশ কয়েকটি চ্যানেলে হিজাব পরেই নারীরা সফলভাবে কাজ করছেন; কারণ মূল বিষয় হলো দক্ষতা ও পেশাদারত্ব, নির্দিষ্ট কোনো পোশাক নয়।

উপস্থাপনাকে দীর্ঘমেয়াদি শেখার প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে মৌসুমী মৌ ধৈর্য ধারণের ওপর জোর দেন। তিনি নিজের প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানান, অতিথিদের সম্পর্কে তথ্য লিখে রাখার জন্য তাঁর কাছে ২০ থেকে ২৫টি ডায়েরি রয়েছে। তাঁর মতে, একজন উপস্থাপকের দুটি সত্তা থাকে—ব্যক্তি ‘আমি’ এবং উপস্থাপক ‘আমি’। মঞ্চে বা ক্যামেরার সামনে একজন উপস্থাপক মূলত একজন পারফর্মার, যাকে পরিস্থিতি অনুযায়ী কণ্ঠের গতি ও অভিব্যক্তি পরিবর্তন করতে হয়। তিনি উপস্থাপকের কাজকে তিনটি মূল লক্ষ্যে সংক্ষেপ করেন—'টু ইনফর্ম, টু এডুকেট, টু এন্টারটেইন'। অন্যের নকল না করে নিজের একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও পরিচয় গড়ে তোলার মাধ্যমে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়া সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

নাভি পিল্লাইয়ের নোবেল জয়ের পরই আইসিসির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা

উপস্থাপনায় সুন্দর কণ্ঠই শেষ কথা নয়, প্রয়োজন প্রস্তুতি ও নিজস্বতা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩২:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

প্রথম আলো বন্ধুসভা ও অল ব্রডকাস্টার্স কমিউনিটি (এবিসি)-এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘প্রেজেন্টেশন অ্যান্ড বিয়ন্ড’ শীর্ষক অনলাইন কর্মশালার চতুর্থ সেশনে দেশের প্রতিষ্ঠিত উপস্থাপকেরা তাঁদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ তুলে ধরেছেন। গত ৩০ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এই সেশনে বক্তারা জানান, কেবল সুন্দর কণ্ঠই উপস্থাপনার জন্য যথেষ্ট নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন গভীর জানাশোনা, নিয়মিত অনুশীলন এবং দর্শকের সঙ্গে সংযোগ তৈরির নিজস্ব ভঙ্গি। ‘সংবাদ ও অনুষ্ঠান উপস্থাপনা’ বিষয়ের এই সেশনে নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন ক্রীড়া উপস্থাপক ফাহিম রহমান, যমুনা টিভির জ্যেষ্ঠ সংবাদ উপস্থাপক মৌসুমী আহমেদ লোপা এবং উপস্থাপক ও অভিনয়শিল্পী মৌসুমী মৌ।

কর্মশালায় সংবাদ পরিবেশনের প্রক্রিয়াটিকে একটি রেস্টুরেন্টের সঙ্গে তুলনা করেন ফাহিম রহমান। তিনি বলেন, রান্নাঘরে খাবার প্রস্তুত হওয়ার পর তা টেবিলে যেভাবে পরিবেশন করা হয়, উপস্থাপকের কাজও ঠিক তেমন। দর্শকের সঙ্গে প্রথম কয়েক মুহূর্তের যোগাযোগ বা ‘ফার্স্ট ইম্প্রেশন’ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা তৈরি হয় কণ্ঠ, শব্দচয়ন, চোখের দৃষ্টি, গতি ও স্বাভাবিকতার মাধ্যমে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু টেলিপ্রম্পটার দেখে রিডিং পড়লেই চলে না, সংশ্লিষ্ট খবরের প্রেক্ষাপট ও গুরুত্ব সম্পর্কে উপস্থাপকের স্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। এ জন্য তিনি ঘরের আয়নাকে প্রথম স্টুডিও বানিয়ে নিয়মিত অনুশীলনের পরামর্শ দেন, যা জড়তা ও ভয় কাটাতে সাহায্য করে।

লাইভ সংবাদে ভুল এড়ানো এবং দর্শকের সঙ্গে ঘরোয়াভাবে যোগাযোগের উপায় বাতলে দেন মৌসুমী আহমেদ লোপা। তিনি বলেন, স্ক্রিপ্টে ভুল থাকলেও উপস্থাপকের যদি খবর সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা থাকে, তবে তিনি পরিস্থিতি সামলে নিতে পারেন। ভুল পড়ে ফেললেও আতঙ্কিত না হয়ে স্বাভাবিকভাবে সংশোধন করে পরের লাইনে চলে যাওয়া উচিত। তিনি যোগ করেন, দর্শকের কাছে উপস্থাপনা যেন যান্ত্রিক না মনে হয়, বরং বসার ঘরে পরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলার মতো সহজ হওয়া প্রয়োজন। হিজাব পরে সংবাদ উপস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এটি মূলত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নীতির ওপর নির্ভর করে। বর্তমানে বেশ কয়েকটি চ্যানেলে হিজাব পরেই নারীরা সফলভাবে কাজ করছেন; কারণ মূল বিষয় হলো দক্ষতা ও পেশাদারত্ব, নির্দিষ্ট কোনো পোশাক নয়।

উপস্থাপনাকে দীর্ঘমেয়াদি শেখার প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করে মৌসুমী মৌ ধৈর্য ধারণের ওপর জোর দেন। তিনি নিজের প্রস্তুতির অভিজ্ঞতা শেয়ার করে জানান, অতিথিদের সম্পর্কে তথ্য লিখে রাখার জন্য তাঁর কাছে ২০ থেকে ২৫টি ডায়েরি রয়েছে। তাঁর মতে, একজন উপস্থাপকের দুটি সত্তা থাকে—ব্যক্তি ‘আমি’ এবং উপস্থাপক ‘আমি’। মঞ্চে বা ক্যামেরার সামনে একজন উপস্থাপক মূলত একজন পারফর্মার, যাকে পরিস্থিতি অনুযায়ী কণ্ঠের গতি ও অভিব্যক্তি পরিবর্তন করতে হয়। তিনি উপস্থাপকের কাজকে তিনটি মূল লক্ষ্যে সংক্ষেপ করেন—'টু ইনফর্ম, টু এডুকেট, টু এন্টারটেইন'। অন্যের নকল না করে নিজের একটি স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও পরিচয় গড়ে তোলার মাধ্যমে দর্শকের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেওয়া সম্ভব বলে তিনি মন্তব্য করেন।