লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। তাজমিন কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির একজন অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে এবং বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা রেইসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন।

স্থানীয় বাসিন্দা তমাল বনিক জানান, জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া সংলগ্ন এলাকায় সড়কের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমির আইলে মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। উদ্ধারের সময় মরদেহের গলায় গামছা প্যাঁচানো এবং মুখ মাটির দিকে চেপে রাখা অবস্থায় ছিল। পরে দুপুরের দিকে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।

তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে মেয়ে বাসা থেকে বের হয়। পরে বুধবার গভীর রাতে তাজমিন তাকে মুঠোফোনে একটি মেসেজ ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে নিয়ে যেতে বলে। কিন্তু ঘুমিয়ে থাকায় তিনি মেসেজটি তাৎক্ষণিক দেখতে পাননি। ভোরে ঘুম থেকে উঠে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। তার অভিযোগ, মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে শহর থেকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনি জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন।

সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস জানান, তদন্তে জানা গেছে তাজমিন ৪ অক্টোবর কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গিয়েছিলেন এবং পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফেরেন। এরপর তিনি ভোরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে ফিরে তিনি রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার এলাকায় নামেন এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করেন। ওই অটোরিকশা থেকে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হলেও পরিবারের দাবি সেটি তাজমিনের নয়।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ফসলি জমিতে ফেলে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাজমিনের গত চার দিনের অবস্থান এবং অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। এছাড়া ফরিদা বিদ্যায়তনের প্রধান শিক্ষক হানিফ মজুমদার জানিয়েছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে হাজিরা খাতায় তাজমিনের আর উপস্থিতির তথ্য নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের স্থগিত নিয়োগ পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা

লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০০:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামের এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। তাজমিন কুমিল্লা নগরের ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির একজন অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে এবং বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে কুমিল্লা রেইসকোর্স এলাকায় বসবাস করতেন।

স্থানীয় বাসিন্দা তমাল বনিক জানান, জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া সংলগ্ন এলাকায় সড়কের পাশে একটি পরিত্যক্ত সিএনজিচালিত অটোরিকশা দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে সড়ক থেকে প্রায় ৫০ গজ দূরে ফসলি জমির আইলে মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। উদ্ধারের সময় মরদেহের গলায় গামছা প্যাঁচানো এবং মুখ মাটির দিকে চেপে রাখা অবস্থায় ছিল। পরে দুপুরের দিকে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন।

তাজমিনের বাবা আবদুল আলীম জানান, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে মেয়ে বাসা থেকে বের হয়। পরে বুধবার গভীর রাতে তাজমিন তাকে মুঠোফোনে একটি মেসেজ ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে নিয়ে যেতে বলে। কিন্তু ঘুমিয়ে থাকায় তিনি মেসেজটি তাৎক্ষণিক দেখতে পাননি। ভোরে ঘুম থেকে উঠে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে ঘটনাস্থলে গিয়ে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান। তার অভিযোগ, মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে শহর থেকে অন্যত্র নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনি জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন।

সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লা ফেরদৌস জানান, তদন্তে জানা গেছে তাজমিন ৪ অক্টোবর কুমিল্লা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গিয়েছিলেন এবং পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফেরেন। এরপর তিনি ভোরে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে ফিরে তিনি রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লা নগরের পদুয়ার বাজার এলাকায় নামেন এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাতায়াত করেন। ওই অটোরিকশা থেকে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ উদ্ধার করা হলেও পরিবারের দাবি সেটি তাজমিনের নয়।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ফসলি জমিতে ফেলে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তাজমিনের গত চার দিনের অবস্থান এবং অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। এছাড়া ফরিদা বিদ্যায়তনের প্রধান শিক্ষক হানিফ মজুমদার জানিয়েছেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে হাজিরা খাতায় তাজমিনের আর উপস্থিতির তথ্য নেই।