লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাঁচিতে রান ও ছক্কার রেকর্ড গড়ে ভারতের বিপক্ষে উইন্ডিজের জয়

ক্রিকেটপ্রেমীরা রাঁচিতে সাক্ষী হলেন এক অবিশ্বাস্য ও রেকর্ডভাঙা টি-টোয়েন্টি ম্যাচের। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে ২৫০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য সফলভাবে টপকে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দল মিলে ৩৮.৩ ওভারে মোট ৫০১ রান তুলেছে, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড।

এই জয়ের মূল কারিগর ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ও উইকেটকিপার শাই হোপ। মাত্র ৪৫ বলে ১০২ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেন তিনি। ছেলেদের টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। এর আগে গত বছর জনসন চার্লস দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ৩৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এছাড়া উইকেটকিপার-অধিনায়ক হিসেবে এটি হোপের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ছয় দিন আগে নিউ চণ্ডীগড়ে ওয়ানডেতে অপরাজিত ১৬২ রানের ইনিংসের পর এই সেঞ্চুরিটি যেন তার দুর্দান্ত ফর্মেরই বহিঃপ্রকাশ।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ওভারে ২৪৯ রান সংগ্রহ করে, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি সংগ্রহ। ভারতের হয়ে সঞ্জু স্যামসন ৮২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শাই হোপ ও শেরফান রাদারফোর্ডের চতুর্থ উইকেটে ১২০ রানের জুটি এবং রাদারফোর্ডের ঝোড়ো ফিফটির সুবাদে ক্যারিবীয়রা জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের এটি দ্বিতীয় সফলতম রান তাড়া। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই ২৫৯ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি।

ম্যাচটিতে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা সব মিলিয়ে ২০টি ছক্কা হাঁকান। পুরো ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে মোট ৩৩টি ছক্কা মারেন এবং বাউন্ডারি থেকে আসে ৩৮২ রান। এছাড়া সঞ্জু স্যামসন (৮২) ও শাই হোপ (১০২) মিলে মোট ১৮৪ রান করেন, যা টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে দুই উইকেটকিপারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ যৌথ সংগ্রহ। একই ম্যাচে দুই উইকেটকিপারের ৮০ বা তার বেশি রান করার ঘটনা এই প্রথম।

বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্নের এই ম্যাচে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন ক্যারিবীয় স্পিনার রোস্টন চিজ। মিতব্যয়ী বোলিং করে তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান খরচ করে ৩টি উইকেট তুলে নেন। বোলারদের বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত এই ম্যাচের স্মৃতি ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দীর্ঘকাল গেঁথে থাকবে। সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ইন্দোরে অনুষ্ঠিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

জনতার আদালতে সানাউল্লাহ নুর বাবুর খুনিদের বিচার হবে: হুইপ দুলু

রাঁচিতে রান ও ছক্কার রেকর্ড গড়ে ভারতের বিপক্ষে উইন্ডিজের জয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩১:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ক্রিকেটপ্রেমীরা রাঁচিতে সাক্ষী হলেন এক অবিশ্বাস্য ও রেকর্ডভাঙা টি-টোয়েন্টি ম্যাচের। ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বোলারদের ওপর রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়ে ২৫০ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য সফলভাবে টপকে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুই দল মিলে ৩৮.৩ ওভারে মোট ৫০১ রান তুলেছে, যা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংগ্রহের রেকর্ড।

এই জয়ের মূল কারিগর ছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ও উইকেটকিপার শাই হোপ। মাত্র ৪৫ বলে ১০২ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেন তিনি। ছেলেদের টি-টোয়েন্টিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে এটি দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি। এর আগে গত বছর জনসন চার্লস দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মাত্র ৩৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন। এছাড়া উইকেটকিপার-অধিনায়ক হিসেবে এটি হোপের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। ছয় দিন আগে নিউ চণ্ডীগড়ে ওয়ানডেতে অপরাজিত ১৬২ রানের ইনিংসের পর এই সেঞ্চুরিটি যেন তার দুর্দান্ত ফর্মেরই বহিঃপ্রকাশ।

প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ভারত নির্ধারিত ওভারে ২৪৯ রান সংগ্রহ করে, যা ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তাদের সর্বোচ্চ টি-টোয়েন্টি সংগ্রহ। ভারতের হয়ে সঞ্জু স্যামসন ৮২ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শাই হোপ ও শেরফান রাদারফোর্ডের চতুর্থ উইকেটে ১২০ রানের জুটি এবং রাদারফোর্ডের ঝোড়ো ফিফটির সুবাদে ক্যারিবীয়রা জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়। টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের এটি দ্বিতীয় সফলতম রান তাড়া। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে ২০২৩ সালে সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজেরই ২৫৯ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি।

ম্যাচটিতে ক্যারিবীয় ব্যাটাররা সব মিলিয়ে ২০টি ছক্কা হাঁকান। পুরো ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে মোট ৩৩টি ছক্কা মারেন এবং বাউন্ডারি থেকে আসে ৩৮২ রান। এছাড়া সঞ্জু স্যামসন (৮২) ও শাই হোপ (১০২) মিলে মোট ১৮৪ রান করেন, যা টি-টোয়েন্টিতে এক ম্যাচে দুই উইকেটকিপারের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ যৌথ সংগ্রহ। একই ম্যাচে দুই উইকেটকিপারের ৮০ বা তার বেশি রান করার ঘটনা এই প্রথম।

বোলারদের জন্য দুঃস্বপ্নের এই ম্যাচে একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন ক্যারিবীয় স্পিনার রোস্টন চিজ। মিতব্যয়ী বোলিং করে তিনি ৪ ওভারে মাত্র ২৪ রান খরচ করে ৩টি উইকেট তুলে নেন। বোলারদের বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত এই ম্যাচের স্মৃতি ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে দীর্ঘকাল গেঁথে থাকবে। সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি ইন্দোরে অনুষ্ঠিত হবে।