লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অপরাধে জড়িত শিশুদের ৩৩ শতাংশই হত্যা মামলার আসামি: গবেষণা

দেশের শিশুদের একটি বড় অংশ গুরুতর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যার মধ্যে হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, মাদক ও অপহরণের মতো ঘটনা উল্লেখযোগ্য। পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অপরাধে জড়িত শিশুদের মধ্যে ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশই হত্যা মামলার আসামি। ‘সোশিওইকোনমিক ডিটারমিন্যান্টস অব চিলড্রেন ইন কনফ্লিক্ট উইথ দ্য ল ইন বাংলাদেশ: আ ক্রিমিনোলজিক্যাল অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক এই গবেষণাটি পিএসসি জার্নালের জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন পিএসসির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ও রামন চন্দ্র তালুকদার। দেশের আট বিভাগের ১৬০টি থানার মামলার তথ্যের পাশাপাশি গাজীপুরের দুটি ও যশোরের একটি সরকারি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ৪০৪ জন শিশু এবং তাদের ১৫৬ জন অভিভাবকের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, হত্যা মামলার পাশাপাশি ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিশু ধর্ষণ বা ধর্ষণে সহায়তা ও প্ররোচনার মামলায় অভিযুক্ত। এছাড়া ১৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ চুরির, ১০ দশমিক ৯৭ শতাংশ মাদক ব্যবহারের, ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ অপহরণের এবং ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ উত্ত্যক্ত করার অপরাধে জড়িত।

অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে বন্ধুমহলের প্রভাবকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অপরাধের সময় ৫২ দশমিক ৯৭ শতাংশ শিশু অন্য কারও সঙ্গে ছিল, যাদের মধ্যে ৮৬ দশমিক ৯২ শতাংশই ছিল বন্ধু। গড়ে আট বছর ধরে তাদের এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের এই বন্ধুত্ব, সমবয়সীদের চাপ এবং কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব শিশুদের অপরাধের পথে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ শিশুর পরিবারের আয় ব্যয়ের তুলনায় কম, যাদের মাসিক গড় আয় ১৯ হাজার ২৭৫ টাকা। ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ শিশুর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিশু দিনের দীর্ঘ সময়—গড়ে প্রায় আট ঘণ্টা—ঘরের বাইরে কাটায়।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার একে অশনিসংকেত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, পারিবারিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি কাউন্সেলিং, পারিবারিক তত্ত্বাবধান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন। শিশু সুরক্ষা কর্মী বিজন চৌধুরী মনে করেন, দারিদ্র্য ও মানসম্মত শিক্ষার অভাব শিশুদের অপরাধী চক্রের হাতে মাদকাসক্ত হয়ে কাজ করার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, তাই তাদের পুনর্বাসন ও শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা জরুরি। এছাড়া সাবেক গুম কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে তাদের বয়স ও মানসিক পরিপক্বতা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাদের অপরাধপ্রবণতা আরও না বাড়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লির ব্যারিকেড সরানোর নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের, ইন্টারনেট চালুর বার্তা

অপরাধে জড়িত শিশুদের ৩৩ শতাংশই হত্যা মামলার আসামি: গবেষণা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

দেশের শিশুদের একটি বড় অংশ গুরুতর সব অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, যার মধ্যে হত্যা, ধর্ষণ, চুরি, মাদক ও অপহরণের মতো ঘটনা উল্লেখযোগ্য। পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অপরাধে জড়িত শিশুদের মধ্যে ৩২ দশমিক ৯২ শতাংশই হত্যা মামলার আসামি। ‘সোশিওইকোনমিক ডিটারমিন্যান্টস অব চিলড্রেন ইন কনফ্লিক্ট উইথ দ্য ল ইন বাংলাদেশ: আ ক্রিমিনোলজিক্যাল অ্যানালাইসিস’ শীর্ষক এই গবেষণাটি পিএসসি জার্নালের জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন পিএসসির গবেষণা ও প্রকাশনা বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ কামরুজ্জামান ও রামন চন্দ্র তালুকদার। দেশের আট বিভাগের ১৬০টি থানার মামলার তথ্যের পাশাপাশি গাজীপুরের দুটি ও যশোরের একটি সরকারি শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের ৪০৪ জন শিশু এবং তাদের ১৫৬ জন অভিভাবকের ওপর এই জরিপ চালানো হয়। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, হত্যা মামলার পাশাপাশি ১৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ শিশু ধর্ষণ বা ধর্ষণে সহায়তা ও প্ররোচনার মামলায় অভিযুক্ত। এছাড়া ১৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ চুরির, ১০ দশমিক ৯৭ শতাংশ মাদক ব্যবহারের, ১০ দশমিক ৪৫ শতাংশ অপহরণের এবং ৯ দশমিক ৬১ শতাংশ উত্ত্যক্ত করার অপরাধে জড়িত।

অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে বন্ধুমহলের প্রভাবকে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, অপরাধের সময় ৫২ দশমিক ৯৭ শতাংশ শিশু অন্য কারও সঙ্গে ছিল, যাদের মধ্যে ৮৬ দশমিক ৯২ শতাংশই ছিল বন্ধু। গড়ে আট বছর ধরে তাদের এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকদের মতে, দীর্ঘদিনের এই বন্ধুত্ব, সমবয়সীদের চাপ এবং কিশোর গ্যাংয়ের প্রভাব শিশুদের অপরাধের পথে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া ৪৪ দশমিক ৬ শতাংশ শিশুর পরিবারের আয় ব্যয়ের তুলনায় কম, যাদের মাসিক গড় আয় ১৯ হাজার ২৭৫ টাকা। ১৭ দশমিক ৮ শতাংশ শিশুর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ শিশু দিনের দীর্ঘ সময়—গড়ে প্রায় আট ঘণ্টা—ঘরের বাইরে কাটায়।

সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার একে অশনিসংকেত হিসেবে অভিহিত করে বলেন, পারিবারিক, সামাজিক ও মনস্তাত্ত্বিক কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি কাউন্সেলিং, পারিবারিক তত্ত্বাবধান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়েছেন। শিশু সুরক্ষা কর্মী বিজন চৌধুরী মনে করেন, দারিদ্র্য ও মানসম্মত শিক্ষার অভাব শিশুদের অপরাধী চক্রের হাতে মাদকাসক্ত হয়ে কাজ করার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়, তাই তাদের পুনর্বাসন ও শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা জরুরি। এছাড়া সাবেক গুম কমিশনের সদস্য ও মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন শিশুদের জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে তাদের বয়স ও মানসিক পরিপক্বতা বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে তাদের অপরাধপ্রবণতা আরও না বাড়ে।