লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কানাডার প্রতিমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে কানাডার মতো বন্ধুরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের অবস্থান দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের স্থায়ী সমাধানের জন্য তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেন। এ সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। কানাডার প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

বৈঠকে কানাডার পক্ষ থেকে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে কানাডা বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে বলে জানানো হয়, যা বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানিয়েছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়াতেও কানাডা আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রে কানাডার বর্তমান কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে ডাল ও তৈলবীজের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা জোরদার এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যমান কার্যক্রমের কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। বাংলাদেশের কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, এর মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার ও বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তথ্য ব্যবস্থাপনা ও উপাত্তভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ সহযোগিতা পেতে পারে বলে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্রিত করে নগদ সহায়তা কর্মসূচির লক্ষ্য নির্ধারণ এবং এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব। তিনি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পাশাপাশি মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেওয়ার বিষয়ে কানাডার আগ্রহ রয়েছে, যা থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনার ক্ষেত্রেও কানাডা সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাই কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের কর্মদক্ষতা ও ইতিবাচক মানসিকতার প্রশংসা করেন এবং দুজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি কানাডার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানান। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কানাডার প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং কানাডার ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার অজিত সিং উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ৫৮আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৪: ০৩

জনপ্রিয় সংবাদ

দিল্লির প্রতিবাদস্থল থেকে যন্তর মন্তর বাদ, ক্ষুব্ধ অভিজিৎ দীপকে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কানাডার প্রতিমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কানাডার আন্তর্জাতিক উন্নয়নবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি নিরাপত্তা, কারিগরি শিক্ষা, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, জলবায়ু অর্থায়ন এবং দারিদ্র্য বিমোচনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে কানাডার মতো বন্ধুরাষ্ট্রের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। রোহিঙ্গা সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে নিজস্ব অর্থনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের অবস্থান দেশের অর্থনীতি ও পরিবেশের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ সৃষ্টি করছে। প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের স্থায়ী সমাধানের জন্য তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দেন। এ সংকটের উৎপত্তি মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও সেখানেই নিহিত বলে তিনি উল্লেখ করেন। কানাডার প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের গুরুত্বের বিষয়ে একমত পোষণ করেন।

বৈঠকে কানাডার পক্ষ থেকে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) খাতে কানাডা বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অংশীদার হতে পারে বলে জানানো হয়, যা বাংলাদেশ ইতিবাচকভাবে বিবেচনার কথা জানিয়েছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়াতেও কানাডা আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এছাড়া নার্সিং প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং দক্ষ নার্স তৈরির ক্ষেত্রে কানাডার বর্তমান কার্যক্রম ভবিষ্যতে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি খাতে সহযোগিতার বিষয়ে ডাল ও তৈলবীজের উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা জোরদার এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক ভুট্টা ও গম উন্নয়ন কেন্দ্রের মাধ্যমে বিদ্যমান কার্যক্রমের কথা প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়। বাংলাদেশের কৃষক কার্ড কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময় প্রধানমন্ত্রী জানান, এর মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সার ও বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তথ্য ব্যবস্থাপনা ও উপাত্তভিত্তিক পরিকল্পনা প্রণয়নে কানাডার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ সহযোগিতা পেতে পারে বলে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাংকের তথ্য উল্লেখ করে বলেন, একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একত্রিত করে নগদ সহায়তা কর্মসূচির লক্ষ্য নির্ধারণ এবং এর সঙ্গে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ যুক্ত করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে মুক্ত করা সম্ভব। তিনি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির পাশাপাশি মানুষের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, খাল খনন এবং ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা হয়। কানাডার প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী পাঁচ বছরে বিশ্বব্যাপী জলবায়ু অর্থায়নে ১ হাজার ৩০০ কোটি কানাডীয় ডলার দেওয়ার বিষয়ে কানাডার আগ্রহ রয়েছে, যা থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হওয়ার সুযোগ পাবে। এছাড়া উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) পরিচালনার ক্ষেত্রেও কানাডা সহযোগিতা করতে আগ্রহী।

প্রতিমন্ত্রী রণদীপ সরাই কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের কর্মদক্ষতা ও ইতিবাচক মানসিকতার প্রশংসা করেন এবং দুজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি কানাডার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে প্রধানমন্ত্রীকে জানান। বৈঠকের শেষ পর্যায়ে কানাডার প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে কানাডা সফরের আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদি আমিন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং কানাডার ঢাকায় নিযুক্ত হাইকমিশনার অজিত সিং উপস্থিত ছিলেন।

প্রকাশ : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৩: ৫৮আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৪: ০৩