লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অস্থির সন্তানকে শান্ত রাখতে বাবা-মায়ের করণীয়

বর্তমান সময়ের দ্রুতগতির জীবনে একাডেমিক চাপ, হোমওয়ার্ক, স্কুলের সময়ানুবর্তিতা এবং ডিজিটাল গ্যাজেটের আসক্তির কারণে শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ ও অস্থিরতা বাড়ছে। একটি শিশু যখন অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ, রাগান্বিত বা অস্থির হয়ে পড়ে, তখন সে নিজে থেকে শান্ত হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে না। এ সময় তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় এমন একজন প্রাপ্তবয়স্কের, যিনি তার অস্থিরতার মধ্যেও নিজেকে শান্ত রেখে সন্তানকে নিরাপদ বোধ করাতে পারেন।

শিশুদের শান্ত হতে শেখানোর প্রক্রিয়ায় বাবা-মায়ের শান্ত থাকাটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। একে বলা হয় 'কো-রেগুলেশন', যা শিশুর অস্থিরতা ও শান্ত হয়ে ওঠার মাঝে একটি অদৃশ্য সেতু হিসেবে কাজ করে। তাই সন্তান উত্তেজিত হলে তাকে বকাঝকা না করে আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি নিজে শান্ত আছেন কি না। আপনার শান্ত কণ্ঠ, ধৈর্য এবং চোখের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা আপনার সন্তানের নার্ভাস সিস্টেমকে শিথিল করতে সাহায্য করে।

ইউনাইটেড উই কেয়ারের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. ভাসুধা আগরওয়াল টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরামর্শ দিয়েছেন যে, সন্তানের সঙ্গে কথা বলার সময় অতিরিক্ত উপদেশ না দিয়ে বরং তার বয়স অনুযায়ী চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় তাকে স্বাধীনতা দিন। পরীক্ষার সময় নার্ভাস মনে হলে তাকে নিজের মতো করে পড়ার সুযোগ দিন এবং গেম প্ল্যান করার মাধ্যমে তাকে সহযোগিতা করুন। কোনো বিষয়কে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে বা নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করবেন না, এতে শিশু আরও উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারে।

শিশুদের উদ্বেগ প্রকাশ পেলে ইতিবাচক সংলাপের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়িত করুন এবং চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করুন। ডা. আগরওয়ালের মতে, শিশুদের শারীরিক সংবেদনগুলো বুঝতে হবে এবং তাদের শরীর ও মন শান্ত করার অনুশীলনে গাইড করতে হবে। এছাড়া, সন্তান উত্তেজিত হলে তাকে আলিঙ্গন করা বা শারীরিক স্পর্শ প্রদান করা তার ওপর প্রশান্তিদায়ক প্রভাব ফেলে এবং উদ্বেগের লক্ষণগুলো দূর না হওয়া পর্যন্ত এই নির্ভরতা বজায় রাখা প্রয়োজন।

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষক ওয়াহেদ চৌধুরীর বরখাস্তের প্রতিবাদে বার্লিনে প্রবাসীদের সমাবেশ

অস্থির সন্তানকে শান্ত রাখতে বাবা-মায়ের করণীয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:১৩:১৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বর্তমান সময়ের দ্রুতগতির জীবনে একাডেমিক চাপ, হোমওয়ার্ক, স্কুলের সময়ানুবর্তিতা এবং ডিজিটাল গ্যাজেটের আসক্তির কারণে শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ ও অস্থিরতা বাড়ছে। একটি শিশু যখন অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ, রাগান্বিত বা অস্থির হয়ে পড়ে, তখন সে নিজে থেকে শান্ত হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে না। এ সময় তার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হয় এমন একজন প্রাপ্তবয়স্কের, যিনি তার অস্থিরতার মধ্যেও নিজেকে শান্ত রেখে সন্তানকে নিরাপদ বোধ করাতে পারেন।

শিশুদের শান্ত হতে শেখানোর প্রক্রিয়ায় বাবা-মায়ের শান্ত থাকাটাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করে। একে বলা হয় 'কো-রেগুলেশন', যা শিশুর অস্থিরতা ও শান্ত হয়ে ওঠার মাঝে একটি অদৃশ্য সেতু হিসেবে কাজ করে। তাই সন্তান উত্তেজিত হলে তাকে বকাঝকা না করে আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন, আপনি নিজে শান্ত আছেন কি না। আপনার শান্ত কণ্ঠ, ধৈর্য এবং চোখের দিকে তাকিয়ে বোঝার চেষ্টা আপনার সন্তানের নার্ভাস সিস্টেমকে শিথিল করতে সাহায্য করে।

ইউনাইটেড উই কেয়ারের ক্লিনিক্যাল ডিরেক্টর ডা. ভাসুধা আগরওয়াল টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরামর্শ দিয়েছেন যে, সন্তানের সঙ্গে কথা বলার সময় অতিরিক্ত উপদেশ না দিয়ে বরং তার বয়স অনুযায়ী চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় তাকে স্বাধীনতা দিন। পরীক্ষার সময় নার্ভাস মনে হলে তাকে নিজের মতো করে পড়ার সুযোগ দিন এবং গেম প্ল্যান করার মাধ্যমে তাকে সহযোগিতা করুন। কোনো বিষয়কে খুব বেশি গুরুত্ব দিয়ে বা নাটকীয়ভাবে উপস্থাপন করবেন না, এতে শিশু আরও উত্তেজিত হয়ে পড়তে পারে।

শিশুদের উদ্বেগ প্রকাশ পেলে ইতিবাচক সংলাপের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়িত করুন এবং চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করুন। ডা. আগরওয়ালের মতে, শিশুদের শারীরিক সংবেদনগুলো বুঝতে হবে এবং তাদের শরীর ও মন শান্ত করার অনুশীলনে গাইড করতে হবে। এছাড়া, সন্তান উত্তেজিত হলে তাকে আলিঙ্গন করা বা শারীরিক স্পর্শ প্রদান করা তার ওপর প্রশান্তিদায়ক প্রভাব ফেলে এবং উদ্বেগের লক্ষণগুলো দূর না হওয়া পর্যন্ত এই নির্ভরতা বজায় রাখা প্রয়োজন।