লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুলিয়ায় সাড়ে ৭ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ৬ ডাকাত আটক

আশুলিয়ার ইয়ারপুরে সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে অভিযান চালিয়ে কুখ্যাত অস্ত্রধারী আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার শাওনসহ ছয়জনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় দেশীয় অস্ত্র ও মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম। আশুলিয়ার ইয়ারপুরে পুলিশের এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে কুখ্যাত অস্ত্রধারী আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার শাওনসহ ছয়জন ধরা পড়েছেন। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘ সাড়ে সাত ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং আসামিদের এক নজর দেখার জন্য শত শত মানুষ ভিড় জমান।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়ার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুজ্জামান। পুলিশ জানায়, কাশিমপুর থানার একটি ডাকাতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের মূল রহস্য ও সর্দার শাওনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রাত আড়াইটার দিকে জামগড়ার মোত্তালেবের বাড়ির একটি আধাপাকা বাসায় অভিযান শুরু করে। ডাকাতরা সুকৌশলে ওই বাড়ি ভাড়া নিয়ে আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে সেখানে নিজেদের লোকজন ঢুকিয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল।

পুলিশ বাড়িটি ঘেরাও করলে ভেতরে থাকা সশস্ত্র ডাকাত দলটি প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা বারবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং পালানোর জন্য ঘরের তিন-চারটি দরজা ভেঙে ফেলে। এমনকি এক নারী পোশাক শ্রমিকের গলাতেও তারা ছুরি ধরেছিল। তবুও পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দীর্ঘ সাড়ে সাত ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাদের কব্জা করতে সক্ষম হয়।

অভিযান শেষে পুলিশ ১০ থেকে ১২টি দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। আটককৃতরা টঙ্গী, বাড়ি, জিরাবো ও কাশিমপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়মিত ডাকাতি ও ছিনতাই চালিয়ে আসছিল। শাওনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, কাশিমপুর থানাকে সহায়তা করতে গিয়ে এই ডাকাতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা কাশিমপুর থানায় থাকলেও বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলার কারণে তাদের আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হবে। আটক বাকিদের বিস্তারিত পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

তাইজের সাবির পাহাড়ে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ, চাপে ইয়েমেন সরকার

আশুলিয়ায় সাড়ে ৭ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযানে ৬ ডাকাত আটক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩২:২৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৯ পিএম। আশুলিয়ার ইয়ারপুরে পুলিশের এক রুদ্ধশ্বাস অভিযানে কুখ্যাত অস্ত্রধারী আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সর্দার শাওনসহ ছয়জন ধরা পড়েছেন। গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দীর্ঘ সাড়ে সাত ঘণ্টার যৌথ প্রচেষ্টায় তাদের আটক করা সম্ভব হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং আসামিদের এক নজর দেখার জন্য শত শত মানুষ ভিড় জমান।

অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়ার জামগড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) রাশেদুজ্জামান। পুলিশ জানায়, কাশিমপুর থানার একটি ডাকাতি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এই আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের মূল রহস্য ও সর্দার শাওনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ রাত আড়াইটার দিকে জামগড়ার মোত্তালেবের বাড়ির একটি আধাপাকা বাসায় অভিযান শুরু করে। ডাকাতরা সুকৌশলে ওই বাড়ি ভাড়া নিয়ে আশপাশের লোকজনকে সরিয়ে সেখানে নিজেদের লোকজন ঢুকিয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছিল।

পুলিশ বাড়িটি ঘেরাও করলে ভেতরে থাকা সশস্ত্র ডাকাত দলটি প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তারা বারবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর আক্রমণ চালায় এবং পালানোর জন্য ঘরের তিন-চারটি দরজা ভেঙে ফেলে। এমনকি এক নারী পোশাক শ্রমিকের গলাতেও তারা ছুরি ধরেছিল। তবুও পুলিশ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দীর্ঘ সাড়ে সাত ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাদের কব্জা করতে সক্ষম হয়।

অভিযান শেষে পুলিশ ১০ থেকে ১২টি দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে। আটককৃতরা টঙ্গী, বাড়ি, জিরাবো ও কাশিমপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিয়মিত ডাকাতি ও ছিনতাই চালিয়ে আসছিল। শাওনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, কাশিমপুর থানাকে সহায়তা করতে গিয়ে এই ডাকাতদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা কাশিমপুর থানায় থাকলেও বিভিন্ন অপরাধমূলক মামলার কারণে তাদের আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হবে। আটক বাকিদের বিস্তারিত পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।