লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারকে নয়, আজ থেকে ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করার ঘোষণা জামায়াত আমীরের

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনা সভায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এতদিন সরকারকে সহযোগিতার কথা বলা হলেও এখন থেকে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করা হবে। সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে দাবি করে তিনি জানান, নির্বাচনে কারচুপির পরও তাদের পাওয়া আসনগুলোর ৮৯ জন সংসদ সদস্য ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

রোববার আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির উদ্যোগে ‘জুলাই সনদের ১ বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শিরোনামে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, বিরোধী দল বিএনপি সরকারের পতন চায়নি, বরং তাদের সফলতা চেয়েছিল। সম্প্রতি লোডশেডিং সংকট নিরসনে সংসদীয় কমিটির বদলে বিরোধী দলের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিম দিয়ে মন্ত্রণালয়ে কাজ করার লিখিত প্রস্তাব দিলেও দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়ে সরকার তা গ্রহণ করেনি। এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও প্রকৃতপক্ষে নিজেদের পরিবার, সন্তান, ভাগ্নে, ভাতিজা ও শ্বশুর-স্ত্রীর স্বার্থই তাদের কাছে মুখ্য।

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট দুপুরের আগ পর্যন্ত বিএনপি তাদের মতোই একটি মজলুম দল ছিল, কিন্তু এরপর থেকে তারা রাতারাতি অতীত ভুলে গেছে। জুলাই সনদের কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও গণভোটের প্রশ্নে তারা একমত ছিল। তবে জামায়াত আগেই গণভোট চাইলেও বিএনপি একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জোরালো দাবি জানায়। পরবর্তীতে একই দিনে ভোট ও দুটি শপথের সিদ্ধান্ত হলেও বিএনপি মাত্র একটি শপথ গ্রহণ করে। তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ঐতিহ্য অনুযায়ী সরকারি ও বিরোধী দল পাশাপাশি দাঁড়িয়ে শপথ নেওয়ার নিয়ম থাকলেও আলাদা শপথের মাধ্যমে শুরু থেকেই জাতির সঙ্গে প্রতারণা ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পোষা লোকদের দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে দাবি করে জামায়াত প্রধান বলেন, রাষ্ট্র মেরামত ও সরকার পরিচালনার দুটি ভোটের সঠিক মূল্যায়ন করা হলে বিরোধী দল সংসদের বাইরে আন্দোলন করত না। বিএনপিই তাদের আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে। ছাত্রদের আন্দোলনের পর প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে এখন পিএসসির ওপর হাত দেওয়া হয়েছে। একজন মন্ত্রী পিএসসি সদস্যদের ডেকে চা চক্রের নামে রাজনৈতিক সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী চলার পরামর্শ দিয়ে পদত্যাগের চাপ দিয়েছেন। এ ছাড়া রংপুরে আবু সাঈদের এলাকায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং সংসদে চিফ হুইপ হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি যে বৈষম্যমূলক বক্তব্য দিয়েছেন—বিএনপিকে ভোট না দিলে উন্নয়ন হবে না, তা স্রেফ অশালীনতা নয়, একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ।

দেশের প্রতিটি নাগরিকের ট্যাক্সে রাজকোষ সমৃদ্ধ হয় উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, সরকারি দলের এমপিদের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের এমপিদের বঞ্চিত করে গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাকে অপমান করা হয়েছে। এমনকি দেশের বর্তমান অবস্থায় মহিষের ওপর ট্যাক্স বসানো এবং ঘাস খাওয়ার চাঁদা না পেয়ে মহিষ মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটছে। গত সাত মাসে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে আগের স্বৈরাচারের পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে। তবে কোনো প্রলোভনে না ভুলে এবং কোনো সিন্ডিকেটের কাছে দেশকে সমর্পণ না করে যুবসমাজকে সাথে নিয়ে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জামায়াত শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবে বলে তিনি ব্যক্ত করেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারের উদ্দেশে মতিউর রহমান চৌধুরী: দয়া করে হাতটা বাঁধবেন না

সরকারকে নয়, আজ থেকে ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করার ঘোষণা জামায়াত আমীরের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:৩৮:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত এক মুক্ত আলোচনা সভায় সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এতদিন সরকারকে সহযোগিতার কথা বলা হলেও এখন থেকে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করা হবে। সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্যতা হারিয়েছে দাবি করে তিনি জানান, নির্বাচনে কারচুপির পরও তাদের পাওয়া আসনগুলোর ৮৯ জন সংসদ সদস্য ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

রোববার আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির উদ্যোগে ‘জুলাই সনদের ১ বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শিরোনামে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির বলেন, বিরোধী দল বিএনপি সরকারের পতন চায়নি, বরং তাদের সফলতা চেয়েছিল। সম্প্রতি লোডশেডিং সংকট নিরসনে সংসদীয় কমিটির বদলে বিরোধী দলের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিম দিয়ে মন্ত্রণালয়ে কাজ করার লিখিত প্রস্তাব দিলেও দুর্নীতির তথ্য ফাঁস হওয়ার ভয়ে সরকার তা গ্রহণ করেনি। এর মাধ্যমে তারা প্রমাণ করেছে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও প্রকৃতপক্ষে নিজেদের পরিবার, সন্তান, ভাগ্নে, ভাতিজা ও শ্বশুর-স্ত্রীর স্বার্থই তাদের কাছে মুখ্য।

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন, ৫ আগস্ট দুপুরের আগ পর্যন্ত বিএনপি তাদের মতোই একটি মজলুম দল ছিল, কিন্তু এরপর থেকে তারা রাতারাতি অতীত ভুলে গেছে। জুলাই সনদের কিছু বিষয়ে ভিন্নমত থাকলেও গণভোটের প্রশ্নে তারা একমত ছিল। তবে জামায়াত আগেই গণভোট চাইলেও বিএনপি একই দিনে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জোরালো দাবি জানায়। পরবর্তীতে একই দিনে ভোট ও দুটি শপথের সিদ্ধান্ত হলেও বিএনপি মাত্র একটি শপথ গ্রহণ করে। তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। ঐতিহ্য অনুযায়ী সরকারি ও বিরোধী দল পাশাপাশি দাঁড়িয়ে শপথ নেওয়ার নিয়ম থাকলেও আলাদা শপথের মাধ্যমে শুরু থেকেই জাতির সঙ্গে প্রতারণা ও ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

পোষা লোকদের দিয়ে বিরোধী দলের আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে দাবি করে জামায়াত প্রধান বলেন, রাষ্ট্র মেরামত ও সরকার পরিচালনার দুটি ভোটের সঠিক মূল্যায়ন করা হলে বিরোধী দল সংসদের বাইরে আন্দোলন করত না। বিএনপিই তাদের আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে। ছাত্রদের আন্দোলনের পর প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে এখন পিএসসির ওপর হাত দেওয়া হয়েছে। একজন মন্ত্রী পিএসসি সদস্যদের ডেকে চা চক্রের নামে রাজনৈতিক সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী চলার পরামর্শ দিয়ে পদত্যাগের চাপ দিয়েছেন। এ ছাড়া রংপুরে আবু সাঈদের এলাকায় বর্তমান প্রেসিডেন্ট এবং সংসদে চিফ হুইপ হাসনাত আবদুল্লাহ এমপি যে বৈষম্যমূলক বক্তব্য দিয়েছেন—বিএনপিকে ভোট না দিলে উন্নয়ন হবে না, তা স্রেফ অশালীনতা নয়, একটি রাষ্ট্রীয় অপরাধ।

দেশের প্রতিটি নাগরিকের ট্যাক্সে রাজকোষ সমৃদ্ধ হয় উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, সরকারি দলের এমপিদের বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের এমপিদের বঞ্চিত করে গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষাকে অপমান করা হয়েছে। এমনকি দেশের বর্তমান অবস্থায় মহিষের ওপর ট্যাক্স বসানো এবং ঘাস খাওয়ার চাঁদা না পেয়ে মহিষ মেরে ফেলার ঘটনাও ঘটছে। গত সাত মাসে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে আগের স্বৈরাচারের পথেই বর্তমান সরকার হাঁটছে। তবে কোনো প্রলোভনে না ভুলে এবং কোনো সিন্ডিকেটের কাছে দেশকে সমর্পণ না করে যুবসমাজকে সাথে নিয়ে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে জামায়াত শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবে বলে তিনি ব্যক্ত করেন।