লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকে ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ পাঠ্যবই

দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার গতানুগতিক মুখস্থ নির্ভরতা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আরও আনন্দময়, জীবনমুখী ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের দুটি শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ভিন্নমাত্রার চারটি নতুন পাঠ্যবই। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নতুন এই বইগুলো প্রণয়ন করেছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ নামে চারটি বই যুক্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, নীতি-নৈতিকতা, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি এবং বাস্তবমুখী কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এসব বই তৈরি করা হয়েছে বলে এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আনন্দ, খেলাধুলা, সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং হাতে-কলমে কারিগরি দক্ষতানির্ভর এই পাঠ্যপুস্তকগুলো নতুন প্রজন্মের শিখন পদ্ধতি ও অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন আনবে।

বইগুলোর প্রাথমিক কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভায় বইগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, নতুন চার পাঠ্যপুস্তকের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও ভ্যালিডেশনের কাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এনসিসির সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের পরপরই বিষয়বস্তু বা কন্টেন্টগুলো মুদ্রণের জন্য প্রেসে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, চারটি নতুন বইয়ের আনুমানিক ১ কোটি ৫০ লাখ কপি ছাপা হবে।

এর আগে গত ১২ জুলাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চারটি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মশালায় বইগুলোর প্রাথমিক রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। এরপর বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করা হয়। এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মাদ আবু নাসের টুকু বাসসকে জানান, নতুন বই মুদ্রণের যাবতীয় প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এনসিসি কমিটির অনুমোদন মেলার পর আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি কপি বই মুদ্রণের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

নতুন এই শিক্ষাক্রম উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বাসসকে জানান, রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারে মনোনিবেশ করেছেন। শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে চিন্তাধারা ও গবেষণা পরিচালনা করেছেন, তারই প্রতিফলন এই নতুন বইগুলো। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শিষ্টাচার, পারিবারিক সংস্কৃতি, সুনাগরিকের গুণাবলি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হোক। নির্বাচনে জয়ের পর তাঁর নির্দেশনায় এনসিটিবিকে সম্পৃক্ত করে একটি দল গঠন করা হয়, যেখানে নীতি প্রণয়নকারী ও বরেণ্য শিক্ষাবিদরা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা ও বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রীর এই রূপকল্প বাস্তবায়নে কাজ করেছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চাটমোহরে বৃত্তিপ্রাপ্ত ২৩৯ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা প্রদান

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিকে ও মাধ্যমিকে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ পাঠ্যবই

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

দেশের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার গতানুগতিক মুখস্থ নির্ভরতা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আরও আনন্দময়, জীবনমুখী ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলতে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের দুটি শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে ভিন্নমাত্রার চারটি নতুন পাঠ্যবই। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) নতুন এই বইগুলো প্রণয়ন করেছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ নামে চারটি বই যুক্ত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, নীতি-নৈতিকতা, সৃজনশীল চিন্তাশক্তি এবং বাস্তবমুখী কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এসব বই তৈরি করা হয়েছে বলে এনসিটিবি সূত্র জানিয়েছে। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আনন্দ, খেলাধুলা, সংস্কৃতির মেলবন্ধন এবং হাতে-কলমে কারিগরি দক্ষতানির্ভর এই পাঠ্যপুস্তকগুলো নতুন প্রজন্মের শিখন পদ্ধতি ও অভিজ্ঞতায় পরিবর্তন আনবে।

বইগুলোর প্রাথমিক কার্যক্রম ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভায় বইগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে জানান, নতুন চার পাঠ্যপুস্তকের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও ভ্যালিডেশনের কাজ ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। এনসিসির সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের পরপরই বিষয়বস্তু বা কন্টেন্টগুলো মুদ্রণের জন্য প্রেসে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, চারটি নতুন বইয়ের আনুমানিক ১ কোটি ৫০ লাখ কপি ছাপা হবে।

এর আগে গত ১২ জুলাই আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে চারটি মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মশালায় বইগুলোর প্রাথমিক রূপরেখা উপস্থাপন করা হয়। এরপর বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে চূড়ান্ত পাণ্ডুলিপি প্রস্তুত করা হয়। এনসিটিবির সদস্য (পাঠ্যপুস্তক) প্রফেসর মোহাম্মাদ আবু নাসের টুকু বাসসকে জানান, নতুন বই মুদ্রণের যাবতীয় প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এনসিসি কমিটির অনুমোদন মেলার পর আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি কপি বই মুদ্রণের কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

নতুন এই শিক্ষাক্রম উদ্যোগের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বাসসকে জানান, রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কারে মনোনিবেশ করেছেন। শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দময়, বাস্তবমুখী ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে চিন্তাধারা ও গবেষণা পরিচালনা করেছেন, তারই প্রতিফলন এই নতুন বইগুলো। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী চান শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মাঝে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শিষ্টাচার, পারিবারিক সংস্কৃতি, সুনাগরিকের গুণাবলি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হোক। নির্বাচনে জয়ের পর তাঁর নির্দেশনায় এনসিটিবিকে সম্পৃক্ত করে একটি দল গঠন করা হয়, যেখানে নীতি প্রণয়নকারী ও বরেণ্য শিক্ষাবিদরা ধারাবাহিকভাবে আলোচনা ও বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রীর এই রূপকল্প বাস্তবায়নে কাজ করেছেন।