লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের ওপর আস্থা ফেরাতে ও অপরাধ দমনে নতুন আইনের পরিকল্পনা

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা ধরনের সমালোচনা রয়েছে। পুলিশ যদি অপরাধ দমনে বল প্রয়োগ করে, তবে তাদের ফ্যাসিবাদী আখ্যা দেওয়া হয়। আবার কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পুলিশকে দুর্বল মনে করা হয়। গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা পুলিশ লাইনসে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) আয়োজিত সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। কেএমপি ও খুলনা অঞ্চলে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আইজিপি জানান, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অনেকেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত অথবা ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ থানায় অভিযোগ করতে বা সাক্ষ্য দিতে সাহস পান না। তাই অভিযোগের অপেক্ষায় না থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরির কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই এই আইনের অগ্রগতি দেখা যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন, যদিও কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি।

অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের আগাম তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা নিয়ে আইজিপি বলেন, অপরাধ সংঘটনের পর পুলিশ তৎপর হলেও প্রতিরোধে আগাম তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম যথেষ্ট সক্রিয় নয়। পুলিশের সোর্সগুলো কার্যকরভাবে কাজ করলে অপরাধীদের তৎপরতা আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতো। তিনি ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

৫ আগস্টের পর পুলিশ যখন বিভিন্ন স্থানে ছিল না, তখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছিল উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, পুলিশ মনোবল ফিরে পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি জানান, মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চলছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।

কমিউনিটি পুলিশিংয়ের বিষয়ে আইজিপি বলেন, আগের পুলিশ রিফর্ম প্রোগ্রাম (পিআরপি) প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কিছু দুর্বলতা ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত কেউ কেউ পুলিশের ক্ষমতা ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করতেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি করা হবে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে এটিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে পুলিশের একটি শাখা হিসেবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে কেএমপি কমিশনার সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, খুলনার কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মার্কিন চাপে ইরানের সীমান্তপথ বন্ধ করলো পাকিস্তান ও ইরাক

পুলিশের ওপর আস্থা ফেরাতে ও অপরাধ দমনে নতুন আইনের পরিকল্পনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৩০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে জনমনে নানা ধরনের সমালোচনা রয়েছে। পুলিশ যদি অপরাধ দমনে বল প্রয়োগ করে, তবে তাদের ফ্যাসিবাদী আখ্যা দেওয়া হয়। আবার কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পুলিশকে দুর্বল মনে করা হয়। গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে, তা কমিয়ে আস্থা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে খুলনা পুলিশ লাইনসে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) আয়োজিত সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। কেএমপি ও খুলনা অঞ্চলে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও উগ্রবাদবিরোধী উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

আইজিপি জানান, চাঁদাবাজি ও প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের অনেকেই সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত অথবা ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট। তাদের ভয়ে সাধারণ মানুষ থানায় অভিযোগ করতে বা সাক্ষ্য দিতে সাহস পান না। তাই অভিযোগের অপেক্ষায় না থেকে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ তৈরির কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে নতুন আইন প্রণয়ন ও বিদ্যমান আইন সংস্কারের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যেই এই আইনের অগ্রগতি দেখা যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন, যদিও কার্যকর হওয়ার নির্দিষ্ট কোনো তারিখ জানাননি।

অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের আগাম তথ্য সংগ্রহের সক্ষমতা নিয়ে আইজিপি বলেন, অপরাধ সংঘটনের পর পুলিশ তৎপর হলেও প্রতিরোধে আগাম তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম যথেষ্ট সক্রিয় নয়। পুলিশের সোর্সগুলো কার্যকরভাবে কাজ করলে অপরাধীদের তৎপরতা আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতো। তিনি ডিজিটাল প্রমাণের ভিত্তিতে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

৫ আগস্টের পর পুলিশ যখন বিভিন্ন স্থানে ছিল না, তখন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলছিল উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, পুলিশ মনোবল ফিরে পেয়ে ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং বর্তমানে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি জানান, মাদক, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান চলছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে।

কমিউনিটি পুলিশিংয়ের বিষয়ে আইজিপি বলেন, আগের পুলিশ রিফর্ম প্রোগ্রাম (পিআরপি) প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত কমিউনিটি পুলিশিংয়ের কিছু দুর্বলতা ছিল। এর সঙ্গে যুক্ত কেউ কেউ পুলিশের ক্ষমতা ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করতেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপব্যবহার ঠেকাতে কঠোর নজরদারি করা হবে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে এটিকে আইনি কাঠামোর মধ্যে পুলিশের একটি শাখা হিসেবে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে কেএমপি কমিশনার সাজ্জাদুর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম এবং পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার, খুলনার কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি) এ কে এম মোশাররফ হোসেন মিয়াজী। এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।