লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়ার বিনিয়োগের প্রস্তাব

পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জায়গায় রাশিয়ার অর্থায়নে গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটির বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সরকার-টু-সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে বাংলাদেশে গম রপ্তানির প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব দেন। তবে মহেশখালীতে জমির অপ্রতুলতার কথা উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী জানান, সেখানে বড় অবকাঠামো নির্মাণ করা কঠিন হতে পারে। এর বিকল্প হিসেবে তিনি পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জায়গা ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

মন্ত্রী বলেন, পায়রা বন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় সেখানে বড় ধারণক্ষমতার সাইলো নির্মাণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা নিয়ে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে তা ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আফরোজা খানম আরও জানান, এই সাইলো নির্মিত হলে রাশিয়া থেকে আমদানি করা গম দেশে মজুত রাখা সম্ভব হবে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে বেসরকারি আমদানিকারকদের কাছে গম বিক্রির পাশাপাশি সরকারের প্রয়োজনেও মজুত থেকে গম সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে। এতে দেশের গম সরবরাহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হবে এবং উভয় দেশ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে। এছাড়া পায়রা বন্দরে সাইলো নির্মাণ করা হলে নারায়ণগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্রগুলোতে গম পরিবহন ও বিতরণ সহজ হবে।

প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে পায়রা সমুদ্রবন্দর সরেজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করলে সাইলো নির্মাণের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন এবং প্রকল্পের অবকাঠামোগত সুবিধার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। অন্যদিকে, রাশিয়ার কাছ থেকে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর সিইওকে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

পায়রা বন্দরে গমের সাইলো নির্মাণে রাশিয়ার বিনিয়োগের প্রস্তাব

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০২:০৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালীর পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জায়গায় রাশিয়ার অর্থায়নে গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে বৈঠকের সময় তিনি এই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন। প্রস্তাবটির বিষয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

বৈঠকে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সরকার-টু-সরকার (জি টু জি) ভিত্তিতে বাংলাদেশে গম রপ্তানির প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি গমের সাইলো নির্মাণের প্রস্তাব দেন। তবে মহেশখালীতে জমির অপ্রতুলতার কথা উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী জানান, সেখানে বড় অবকাঠামো নির্মাণ করা কঠিন হতে পারে। এর বিকল্প হিসেবে তিনি পায়রা সমুদ্রবন্দরের অব্যবহৃত জায়গা ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

মন্ত্রী বলেন, পায়রা বন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও যোগাযোগ ব্যবস্থা থাকায় সেখানে বড় ধারণক্ষমতার সাইলো নির্মাণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ২ লাখ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতা নিয়ে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু করে পর্যায়ক্রমে তা ৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

আফরোজা খানম আরও জানান, এই সাইলো নির্মিত হলে রাশিয়া থেকে আমদানি করা গম দেশে মজুত রাখা সম্ভব হবে। এর ফলে স্থানীয় বাজারে বেসরকারি আমদানিকারকদের কাছে গম বিক্রির পাশাপাশি সরকারের প্রয়োজনেও মজুত থেকে গম সরবরাহের সুযোগ তৈরি হবে। এতে দেশের গম সরবরাহ ও সংরক্ষণ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী হবে এবং উভয় দেশ অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হবে। এছাড়া পায়রা বন্দরে সাইলো নির্মাণ করা হলে নারায়ণগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহকেন্দ্রগুলোতে গম পরিবহন ও বিতরণ সহজ হবে।

প্রস্তাবটির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে পায়রা সমুদ্রবন্দর সরেজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরেজমিনে পরিদর্শন করলে সাইলো নির্মাণের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন এবং প্রকল্পের অবকাঠামোগত সুবিধার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হবে। অন্যদিকে, রাশিয়ার কাছ থেকে সরকারি পর্যায়ে গম আমদানির প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে এবং পরবর্তী সময়ে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।