লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দেশীয় ফ্যাশনশিল্পের উন্নয়নে ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকতার সমন্বয় প্রয়োজন: মাহিন খান

বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে আগের তুলনায় অনেকখানি উন্নত হয়েছে, যেখানে নতুনরা নতুন সব ধারণা নিয়ে কাজ করছেন। তবে এই খাতের ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য পুঁজি বা বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে টিকে আছে। করোনাকালীন সময়ে পুরো ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছিল, যার ফলে অনেকের দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের ফ্যাশনকে পুনরায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন।

বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও পোশাক কারখানাগুলোর খুচরা বাজারে বিনিয়োগের ফলে দেশীয় কারুশিল্পের ওপর প্রভাব পড়ছে। বড় পরিসরে দ্রুত উৎপাদনের জন্য মেশিন ও ডিজিটাল সূচিশিল্প ব্যবহারের ফলে তাঁত, নকশিকাঁথা ও হাতের তৈরি কাজগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। মাহিন খানের মতে, দ্রুতগতির ফ্যাশনের বাজারে ছোট পরিসরে গবেষণামূলক ও হাতে তৈরি কাজকে টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

দেশীয় কারুশিল্পকে এগিয়ে নিতে কেবল ভালো নকশা যথেষ্ট নয়; বরং উৎপাদন, মান, নকশা ও বিপণনের মধ্যে সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ বাড়ালে কারুশিল্প আরও শক্তিশালী হবে।

ভৌগোলিক পরিচয়ের বা জিআই (GI) দাবির বিষয়ে মাহিন খান মনে করেন, প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব ঐতিহ্য থাকে এবং আমাদের জামদানি আমাদের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিজের ঐতিহ্যকে রক্ষা করার পাশাপাশি তা সঠিকভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা দরকার। তিনি নিজেও পুরোনো বাংলার কাঁথার নকশা নিয়ে কাজ করেছেন এবং খুলনা, ফরিদপুর, যশোর ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কারুশিল্পের ইতিহাস পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন।

বাঙালির পোশাকের নিজস্বতাকে ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন অনেক কাছাকাছি আসায় ফ্যাশনের মিশ্রণ ঘটছে। তবে নিজের রুচি ও ঐতিহ্য ভুলে যাওয়া উচিত নয়। সুতি কাপড়, হালকা রং ও আরামদায়ক পোশাকই আমাদের জীবনযাপন ও আবহাওয়ার সাথে মানানসই। পরিশেষে, বাংলাদেশের ফ্যাশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী। তার মতে, অন্য দেশের পণ্য বন্ধ না করে বরং নিজেদের পণ্যের মান ও নকশা এমন উন্নত করতে হবে যাতে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তার মূল্য বুঝতে পারে। ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়েই ফ্যাশনশিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে, যেখানে কারও সাথে যুদ্ধ নয়, বরং নিজেদের যা আছে তাকেই সুন্দরভাবে উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঈশ্বরদীতে পৌনে ৪ কোটি টাকার স্কুল ভবনে অনিয়মের অভিযোগ

দেশীয় ফ্যাশনশিল্পের উন্নয়নে ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকতার সমন্বয় প্রয়োজন: মাহিন খান

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:৪১:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি বর্তমানে আগের তুলনায় অনেকখানি উন্নত হয়েছে, যেখানে নতুনরা নতুন সব ধারণা নিয়ে কাজ করছেন। তবে এই খাতের ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য পুঁজি বা বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতা এখনো একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে টিকে আছে। করোনাকালীন সময়ে পুরো ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছিল, যার ফলে অনেকের দোকান বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তারা বাংলাদেশের ফ্যাশনকে পুনরায় মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছেন।

বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও পোশাক কারখানাগুলোর খুচরা বাজারে বিনিয়োগের ফলে দেশীয় কারুশিল্পের ওপর প্রভাব পড়ছে। বড় পরিসরে দ্রুত উৎপাদনের জন্য মেশিন ও ডিজিটাল সূচিশিল্প ব্যবহারের ফলে তাঁত, নকশিকাঁথা ও হাতের তৈরি কাজগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। মাহিন খানের মতে, দ্রুতগতির ফ্যাশনের বাজারে ছোট পরিসরে গবেষণামূলক ও হাতে তৈরি কাজকে টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

দেশীয় কারুশিল্পকে এগিয়ে নিতে কেবল ভালো নকশা যথেষ্ট নয়; বরং উৎপাদন, মান, নকশা ও বিপণনের মধ্যে সঠিক সমন্বয় প্রয়োজন। বিশেষ করে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। তাদের প্রশিক্ষণ ও কাজের সুযোগ বাড়ালে কারুশিল্প আরও শক্তিশালী হবে।

ভৌগোলিক পরিচয়ের বা জিআই (GI) দাবির বিষয়ে মাহিন খান মনে করেন, প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব ঐতিহ্য থাকে এবং আমাদের জামদানি আমাদের ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। নিজের ঐতিহ্যকে রক্ষা করার পাশাপাশি তা সঠিকভাবে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা দরকার। তিনি নিজেও পুরোনো বাংলার কাঁথার নকশা নিয়ে কাজ করেছেন এবং খুলনা, ফরিদপুর, যশোর ও কুষ্টিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলের কারুশিল্পের ইতিহাস পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করছেন।

বাঙালির পোশাকের নিজস্বতাকে ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন অনেক কাছাকাছি আসায় ফ্যাশনের মিশ্রণ ঘটছে। তবে নিজের রুচি ও ঐতিহ্য ভুলে যাওয়া উচিত নয়। সুতি কাপড়, হালকা রং ও আরামদায়ক পোশাকই আমাদের জীবনযাপন ও আবহাওয়ার সাথে মানানসই। পরিশেষে, বাংলাদেশের ফ্যাশনের ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি আশাবাদী। তার মতে, অন্য দেশের পণ্য বন্ধ না করে বরং নিজেদের পণ্যের মান ও নকশা এমন উন্নত করতে হবে যাতে মানুষ স্বাভাবিকভাবেই তার মূল্য বুঝতে পারে। ঐতিহ্যের সাথে আধুনিকতার সমন্বয় ঘটিয়েই ফ্যাশনশিল্পকে এগিয়ে নিতে হবে, যেখানে কারও সাথে যুদ্ধ নয়, বরং নিজেদের যা আছে তাকেই সুন্দরভাবে উন্নত করার প্রয়োজন রয়েছে।