লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৪০ যাত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ দিলেন বাস হেলপার দুলাল, পাশে এসিআই মটরস

৪০ যাত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ দিলেন বাস হেলপার দুলাল, পাশে এসিআই মটরস

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম): নিজের জীবনের পরোয়া না করে বাসের ৪৬ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন বাস হেলপার দুলাল। এবার সেই বীর ও মানবিক হৃদয়ের মানুষের শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এসিআই মটরস-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাব বাংলাদেশ’ এবং ‘সিয়েট বাংলাদেশ’। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নেওয়া এই মানবিক উদ্যোগে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে অসহায় পরিবারটিতে।

আজ শনিবার (৬ জুন) দুপুরে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নিহত দুলালের গ্রামের বাড়িতে যান কোম্পানির প্রতিনিধিরা। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং দুলালের স্ত্রী আফরোজা বেগম ও বড় ভাইয়ের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন।

যেভাবে ৪০ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন দুলাল

গত ২৯ মে রাতে ভূরুঙ্গামারী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ‘আহসান পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস। গাড়িটি ধলেশ্বরী টোল প্লাজার কাছে পৌঁছালে হঠাৎ ব্রেক ফেল করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। চালক আপ্রাণ চেষ্টা করেও যখন বাসটি থামাতে পারছিলেন না, ঠিক তখনই যাত্রীদের বাঁচাতে নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি নেন হেলপার দুলাল।

তিনি চলন্ত বাস থেকে নেমে চাকার নিচে কাঠের গুঁড়ি ও ভারী বস্তু দিয়ে গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বাসটি থামানো সম্ভব হলেও চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুলাল। তবে তার এই সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ফলে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান বাসের ৪৬ জন যাত্রী।

চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পরিবারের

স্থানীয়রা জানান, দুলালের পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। দুই ভাইয়ের এই সংসারটি চলতো অনেক কষ্ট করে। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে দুলালের স্ত্রী আফরোজা বেগম এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আফরোজা বেগম বলেন,

“আমার স্বামীর সামান্য আয়ে সংসার চলতো। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকার চিকিৎসা লাগে, সেটাও তিনিই চালাতেন। এখন সংসার কীভাবে চলবে, চিকিৎসার টাকাই বা কোথা থেকে আসবে—এই চিন্তায় আমার রাতে ঘুম আসে না।”

‘দুলাল মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’

অর্থ সহায়তা প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাংলাদেশের টেরিটরি অফিসার ইসতিয়াক আহমেদ, প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ মেহেদী হাসান সজিব, কুড়িগ্রাম ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের অ্যাডমিন একরামুল হক এবং রংপুর ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের মডারেটর আহমেদ রাহাতসহ অন্যান্য সদস্যরা।

ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাংলাদেশের টেরিটরি অফিসার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, “নিজের জীবন বাজি রেখে সাধারণ যাত্রীদের বাঁচানোর যে সাহসিকতা দুলাল দেখিয়েছেন, তা সত্যিই বিরল। তিনি আমাদের সমাজে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।”

তিনি আরও জানান, দুলালের পরিবারের এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে তারা গর্বিত এবং ভবিষ্যতেও এই পরিবারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগ
জনপ্রিয় সংবাদ

বাঁধনের বাসায় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের

৪০ যাত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ দিলেন বাস হেলপার দুলাল, পাশে এসিআই মটরস

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩০:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ জুন ২০২৬

৪০ যাত্রীর জীবন বাঁচাতে নিজের প্রাণ দিলেন বাস হেলপার দুলাল, পাশে এসিআই মটরস

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম): নিজের জীবনের পরোয়া না করে বাসের ৪৬ জন যাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়ে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন বাস হেলপার দুলাল। এবার সেই বীর ও মানবিক হৃদয়ের মানুষের শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে এসিআই মটরস-এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাব বাংলাদেশ’ এবং ‘সিয়েট বাংলাদেশ’। করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে নেওয়া এই মানবিক উদ্যোগে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে অসহায় পরিবারটিতে।

আজ শনিবার (৬ জুন) দুপুরে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নিহত দুলালের গ্রামের বাড়িতে যান কোম্পানির প্রতিনিধিরা। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং দুলালের স্ত্রী আফরোজা বেগম ও বড় ভাইয়ের হাতে নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেন।

যেভাবে ৪০ যাত্রীর প্রাণ বাঁচালেন দুলাল

গত ২৯ মে রাতে ভূরুঙ্গামারী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় ‘আহসান পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী বাস। গাড়িটি ধলেশ্বরী টোল প্লাজার কাছে পৌঁছালে হঠাৎ ব্রেক ফেল করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। চালক আপ্রাণ চেষ্টা করেও যখন বাসটি থামাতে পারছিলেন না, ঠিক তখনই যাত্রীদের বাঁচাতে নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি নেন হেলপার দুলাল।

তিনি চলন্ত বাস থেকে নেমে চাকার নিচে কাঠের গুঁড়ি ও ভারী বস্তু দিয়ে গাড়িটি থামানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বাসটি থামানো সম্ভব হলেও চাকার নিচে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান দুলাল। তবে তার এই সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ফলে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান বাসের ৪৬ জন যাত্রী।

চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে পরিবারের

স্থানীয়রা জানান, দুলালের পরিবারটি অত্যন্ত দরিদ্র। দুই ভাইয়ের এই সংসারটি চলতো অনেক কষ্ট করে। একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে দুলালের স্ত্রী আফরোজা বেগম এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে আফরোজা বেগম বলেন,

“আমার স্বামীর সামান্য আয়ে সংসার চলতো। আমার শারীরিক অসুস্থতার কারণে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকার চিকিৎসা লাগে, সেটাও তিনিই চালাতেন। এখন সংসার কীভাবে চলবে, চিকিৎসার টাকাই বা কোথা থেকে আসবে—এই চিন্তায় আমার রাতে ঘুম আসে না।”

‘দুলাল মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত’

অর্থ সহায়তা প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাংলাদেশের টেরিটরি অফিসার ইসতিয়াক আহমেদ, প্রোডাক্ট এক্সিকিউটিভ মেহেদী হাসান সজিব, কুড়িগ্রাম ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের অ্যাডমিন একরামুল হক এবং রংপুর ইয়ামাহা রাইডার্স ক্লাবের মডারেটর আহমেদ রাহাতসহ অন্যান্য সদস্যরা।

ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বাংলাদেশের টেরিটরি অফিসার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, “নিজের জীবন বাজি রেখে সাধারণ যাত্রীদের বাঁচানোর যে সাহসিকতা দুলাল দেখিয়েছেন, তা সত্যিই বিরল। তিনি আমাদের সমাজে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবেন।”

তিনি আরও জানান, দুলালের পরিবারের এই কঠিন সময়ে তাদের পাশে দাঁড়াতে পেরে তারা গর্বিত এবং ভবিষ্যতেও এই পরিবারের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।