লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাঙামাটিতে ১২৬ স্থানে পাহাড়ধস, নিখোঁজ ব্যবসায়ী ও বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

অতিবৃষ্টির কারণে রাঙামাটি জেলায় ব্যাপক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার অন্তত ১২৬টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত বা বন্ধ হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর মধ্যে বাঘাইছড়িতে ৩২টি, বিলাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, কাপ্তাইয়ে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১০টি এবং নানিয়ারচরে ২টি স্থান রয়েছে। বর্তমানে জেলার ৩৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের সাপছড়ি ইউনিয়নের দেপ্পোছড়িমুখ এলাকায় পাহাড়ধসে বিশাল মাটির স্তূপ জমা হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সওজ বিভাগের একটি দল মাটি সরানোর কাজ শুরু করলে প্রায় এক ঘণ্টা পর সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এছাড়া কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকা ধসে পড়ায় ওই রুটেও যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ আছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানিয়েছেন, সবকটি স্থানে রাস্তা সচল করার কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে দুর্যোগের মধ্যে প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনাও ঘটেছে। রাঙামাটি সদর উপজেলার মঘবান ইউনিয়নের ডুলুছড়ি এলাকায় পাহাড়ি ছড়া পার হওয়ার সময় স্রোতে ভেসে যাওয়া দলমনি চাকমা (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ ঘটনার দুই দিন পর বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়াবাজারে ব্যবসায়ী মো. বদি আলম নিখোঁজ হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মোটরসাইকেলে ফারুয়া যাওয়ার সময় বন্যার পানিতে সড়ক ডুবে থাকায় তিনি নিখোঁজ হন। বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং তাকে উদ্ধারের তৎপরতা চলছে বলে জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বুধবার রাতে এবং দীপেন দেওয়ান বৃহস্পতিবার সকালে দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ ও খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেন। অতিবৃষ্টির ফলে বাঘাইছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়িসহ বেশ কিছু উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাবনায় ভ্যান নিয়ে নিখোঁজ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ

রাঙামাটিতে ১২৬ স্থানে পাহাড়ধস, নিখোঁজ ব্যবসায়ী ও বৃদ্ধের মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:৪৫:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

অতিবৃষ্টির কারণে রাঙামাটি জেলায় ব্যাপক পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলার অন্তত ১২৬টি স্থানে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত বা বন্ধ হয়ে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোর মধ্যে বাঘাইছড়িতে ৩২টি, বিলাইছড়িতে ৩৭টি, কাউখালীতে ৩০টি, কাপ্তাইয়ে ১৫টি, রাঙামাটি সদরে ১০টি এবং নানিয়ারচরে ২টি স্থান রয়েছে। বর্তমানে জেলার ৩৪টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৪ হাজার ২৬৫ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।

সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের সাপছড়ি ইউনিয়নের দেপ্পোছড়িমুখ এলাকায় পাহাড়ধসে বিশাল মাটির স্তূপ জমা হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। সওজ বিভাগের একটি দল মাটি সরানোর কাজ শুরু করলে প্রায় এক ঘণ্টা পর সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এছাড়া কাপ্তাইয়ের চন্দ্রঘোনা-বাঙ্গালহালিয়া সড়কে বৃহস্পতিবার ভোর ৬টা থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দিঘীনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকা ধসে পড়ায় ওই রুটেও যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ আছে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানিয়েছেন, সবকটি স্থানে রাস্তা সচল করার কাজ চলমান রয়েছে।

এদিকে দুর্যোগের মধ্যে প্রাণহানি ও নিখোঁজের ঘটনাও ঘটেছে। রাঙামাটি সদর উপজেলার মঘবান ইউনিয়নের ডুলুছড়ি এলাকায় পাহাড়ি ছড়া পার হওয়ার সময় স্রোতে ভেসে যাওয়া দলমনি চাকমা (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মরদেহ ঘটনার দুই দিন পর বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিলাইছড়ি উপজেলার ফারুয়াবাজারে ব্যবসায়ী মো. বদি আলম নিখোঁজ হয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে মোটরসাইকেলে ফারুয়া যাওয়ার সময় বন্যার পানিতে সড়ক ডুবে থাকায় তিনি নিখোঁজ হন। বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং তাকে উদ্ধারের তৎপরতা চলছে বলে জানিয়েছেন।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দিন ও সাবেক পার্বত্যমন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল বুধবার রাতে এবং দীপেন দেওয়ান বৃহস্পতিবার সকালে দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ ও খাবারের প্যাকেট বিতরণ করেন। অতিবৃষ্টির ফলে বাঘাইছড়ি, বরকল ও বিলাইছড়িসহ বেশ কিছু উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে এবং ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।