লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ছে ঘরহারা মানুষের দুর্ভোগ

টানা অতি ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের পর সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পানি চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বন্যার রেখে যাওয়া ধ্বংসলীলা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কোথাও বসতঘর ধসে পড়েছে, কোথাও ভেঙে গেছে সড়ক। তলিয়ে নষ্ট হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও সবজিক্ষেত। মাছের ঘের ও প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে এবং অসংখ্য পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারদিকে এখন শুধু ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন আর হতাশায় ভেঙে পড়া মানুষের দীর্ঘশ্বাস ও ঘরহারা মানুষের আহাজারি।

বাঁশখালীর পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। সেখানে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম বিপর্যস্ত জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে রান্না করতে না পারায় খাদ্য সংকটে পড়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। সরেজমিনে বাহারছড়া এলাকায় অনেক ঘরবাড়ি ধসে পড়তে দেখা গেছে। এছাড়া বাঁশখালীর প্রধান সড়কসহ অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ সড়কে ফাটল ও ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ছনুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সাঈফ আনোয়ার জানান, পানি কমলেও বসবাসের মতো পরিবেশ নেই। অনেক পরিবার এখনো সরকারি সহায়তা পায়নি, বিশেষ করে দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। গন্ডামারা ও ছনুয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নে এখনো পানি জমে থাকায় অনেক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বাহারছড়ার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, খালের স্লুইচ গেইটগুলো মাছের জন্য বন্ধ রাখায় এই জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, উপজেলায় এখনো প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি এবং প্রাথমিকভাবে চার হাজারের বেশি মাটির ও কাঁচা ঘর ধসে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরিতে প্রশাসনের টিম কাজ করছে।

অন্যদিকে, সাতকানিয়া উপজেলায় সোমবার থেকে পানি নামতে শুরু করায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু বাড়িতে ফিরে স্বস্তি নেই; অধিকাংশ ঘর কাদা ও আবর্জনায় পূর্ণ এবং আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। সেখানেও খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, ১৮টি ইউনিয়নের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোববার পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ১ হাজার ৫০০ মানুষের মধ্যে ১ হাজার ২০০ জন বাড়ি ফিরে গেছেন। তিনি আশা করছেন বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৬টি উপজেলার ১২২টি ইউনিয়ন ও এলাকা দুর্যোগের কবলে পড়েছে। পাহাড়ধস ও বন্যায় এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ৪১৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬ হাজার ৮২১ জন মানুষ অবস্থান করছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত দুর্গতদের মধ্যে ৬৮৪ টন চাল এবং ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, সোমবার পর্যন্ত দুর্গতদের মধ্যে ৬৮৪ টন চাল এবং ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। চাহিদা ছিল ৬২২ টন চাল ও ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। প্রয়োজন অনুযায়ী আগামী কয়েকদিনও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

জনপ্রিয় সংবাদ

হবিগঞ্জে হামলার প্রতিবাদে বুধবার দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক এনসিপির

চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি, বাড়ছে ঘরহারা মানুষের দুর্ভোগ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

টানা অতি ভারী বৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের পর সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যার পানি চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ধীরে ধীরে নামতে শুরু করেছে। তবে পানি কমার সঙ্গে সঙ্গে বন্যার রেখে যাওয়া ধ্বংসলীলা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কোথাও বসতঘর ধসে পড়েছে, কোথাও ভেঙে গেছে সড়ক। তলিয়ে নষ্ট হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি ও সবজিক্ষেত। মাছের ঘের ও প্রকল্পের কোটি কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে এবং অসংখ্য পোলট্রি খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চারদিকে এখন শুধু ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন আর হতাশায় ভেঙে পড়া মানুষের দীর্ঘশ্বাস ও ঘরহারা মানুষের আহাজারি।

বাঁশখালীর পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। সেখানে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় চরম বিপর্যস্ত জীবন কাটাচ্ছেন। অনেকে রান্না করতে না পারায় খাদ্য সংকটে পড়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে রান্না করা খাবার ও শুকনো খাদ্য সামগ্রী পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। সরেজমিনে বাহারছড়া এলাকায় অনেক ঘরবাড়ি ধসে পড়তে দেখা গেছে। এছাড়া বাঁশখালীর প্রধান সড়কসহ অধিকাংশ অভ্যন্তরীণ সড়কে ফাটল ও ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ছনুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা সাঈফ আনোয়ার জানান, পানি কমলেও বসবাসের মতো পরিবেশ নেই। অনেক পরিবার এখনো সরকারি সহায়তা পায়নি, বিশেষ করে দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ কর্মহীন হয়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। গন্ডামারা ও ছনুয়াসহ কয়েকটি ইউনিয়নে এখনো পানি জমে থাকায় অনেক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বাহারছড়ার বাসিন্দা আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন, খালের স্লুইচ গেইটগুলো মাছের জন্য বন্ধ রাখায় এই জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন জানিয়েছেন, উপজেলায় এখনো প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দি এবং প্রাথমিকভাবে চার হাজারের বেশি মাটির ও কাঁচা ঘর ধসে পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা তৈরিতে প্রশাসনের টিম কাজ করছে।

অন্যদিকে, সাতকানিয়া উপজেলায় সোমবার থেকে পানি নামতে শুরু করায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ বাড়ি ফিরছেন। কিন্তু বাড়িতে ফিরে স্বস্তি নেই; অধিকাংশ ঘর কাদা ও আবর্জনায় পূর্ণ এবং আসবাবপত্র নষ্ট হয়ে গেছে। সেখানেও খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সাতকানিয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, ১৮টি ইউনিয়নের প্রায় ৮৫ শতাংশ এলাকা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রোববার পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ১ হাজার ৫০০ মানুষের মধ্যে ১ হাজার ২০০ জন বাড়ি ফিরে গেছেন। তিনি আশা করছেন বৃষ্টি না হলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে।

জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৬টি উপজেলার ১২২টি ইউনিয়ন ও এলাকা দুর্যোগের কবলে পড়েছে। পাহাড়ধস ও বন্যায় এ পর্যন্ত ১৩ জনের মৃত্যু এবং ১২ জন আহত হয়েছেন। বর্তমানে ৪১৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে ১৬ হাজার ৮২১ জন মানুষ অবস্থান করছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানিয়েছেন, সোমবার পর্যন্ত দুর্গতদের মধ্যে ৬৮৪ টন চাল এবং ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, সোমবার পর্যন্ত দুর্গতদের মধ্যে ৬৮৪ টন চাল এবং ৬২ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিতরণ করা হয়েছে। চাহিদা ছিল ৬২২ টন চাল ও ১ কোটি ১৫ লাখ টাকা। প্রয়োজন অনুযায়ী আগামী কয়েকদিনও ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।